যশোরে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। শঙ্কা ও সংশয়ের মধ্যেই প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট প্রার্থনা করছেন।

২৭ ফেব্রুয়ারি জেলার শার্শা, ঝিকরগাছা, চৌগাছা ও বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাচন। এই ৪ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিএনপির ৪, আওয়ামী লীগের ৬, বাসদের একজন নেতা নির্বাচন করছেন। নির্বাচনকে ঘিরে এসব উপজেলায় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্র সকাল থেকে রাত অবধি চলছে প্রচারণা। চলছে ভোট বিশ্লেষণ। আলোচনা হচ্ছে যোগ্য নেতার বিষয়ে।
কিন্তু নির্বাচনের দুই দিন আগে সোমবার চৌগাছার কাবিলপুর, শাহাজাদপুর ও সৈয়দপুর গ্রামে নির্বাচনকে ঘিরে হামলা লুটপাট এবং শার্শার লক্ষণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেন ভূঁইয়াকে গুলি ও ৪ জনের ওপর হামলার ঘটনায় ভোটারদের স্বস্তির আলোচনায় অস্বস্তি যোগ হয়েছে। ভোটের দিন ও ভোট পরবর্তী পরিবেশ শান্ত থাকবে কিনা তা নিয়ে জনমনে এখন উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
তবে নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যশোর পুলিশের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ সুপার রেশমা শারমীন।
এদিকে ভোটের মাঠে উত্তাপ থাকলেও প্রচারণা চলছে পুরোদমে। প্রার্থীরা কর্মী সমর্থকদের নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরছেন এবং জনগণের সেবা করার সুযোগ চাইছেন।
চৌগাছা উপজেলা:
জেলার পশ্চিমে সীমান্ত ঘেঁষে চৌগাছার অবস্থান। ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত উপজেলার ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৭৬৪। এখানে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের এসএম হাবিব, বিএনপির জহুরুল ইসলাম ও বাসদের আবদুল মালেক ভোটের মাঠে রয়েছেন। জাতীয় পার্টির নুরুল কদর প্রতীক বরাদ্দের পর আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামায়াত নেতা গোলাম মোর্শেদ, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহিম মল্লিক ও যুবলীগ নেতা দেবাশীষ মিত্র জয় নির্বাচন করছেন। আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের আকলিমা টুটুল ও শাহানা ফিরোজ এবং জামায়াত নেত্রী শাহিনা রহমান ভোট যুদ্ধে নেমেছেন। এখানে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হলেও পুরুষ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন করে লড়ছেন। ফলে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এসএম হাবিবের অবস্থা ভালো হলেও ভাইস চেয়ারম্যান পদে নড়বড়ে অবস্থা বিরাজ করছে।
শার্শা উপজেলা:
সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮ হাজার। এখানে আওয়ামী লীগের আবদুল মান্নান মিন্নু, বিদ্রোহী সিরাজুল হক মঞ্জু ও বিএনপির উপজেলা সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু নির্বাচন করছেন। কিন্তু বিএনপির একক প্রার্থী হলেও মাঠে সুবিধা করতে পারেনি। ফলে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর মধ্যেই ভোটযুদ্ধ হবে বলে ভোটররা মনে করছেন।
অন্যদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান বিনাপ্রতিন্দন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় এগিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ। এছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের আলেয়া ফেরদৌস ও আমেনা খাতুন এবং বিএনপি নেত্রী রিনা পারভীনের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে ভোটারা মনে করছেন।
ঝিকরগাছা উপজেলা:
ঝিকরগাছা উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪ হাজার ৩৭৫। এখানে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুসা মাহমুদ  ও বিএনপি নেত্রী সাবিরুল হক মুন্নির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে   মনিরুল ইসলাম মাঠে থাকায় তিনিও কিছু ভোট পাবেন।
অপরদিকে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ওবায়দুর রহমান ওবা, কাজল রায়হান, কামরুল হাসান ও জয়নুল আলী নির্বাচন করায় কার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হবে সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ২৭ তারিখ পর্যন্ত।
সেক্ষেত্রে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালীর অবস্থা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী শাহান পারভীন এবং নাহিদা আক্তারও নির্বাচনী দৌঁড়ে পিছিয়ে নেই।
বাঘারপাড়া উপজেলা:
আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বাঘারপাড়ায় ভোটের এক সপ্তাহ আগে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মঞ্জুর রশিদ স্বপন ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়া শক্ত অবস্থানে যুবলীগ নেতা আবদুর রউফ। তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির মশিয়ার রহমানের সঙ্গে। অবশ্য অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মাওলানা আবু তাহের কিছু ভোট পেলেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারছেন না।
আর ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন মাঠে থাকায় অঞ্চলগত ভোট পাবেন প্রার্থীরা। তবে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দিলার জামান, লাকি খাতুন ও বিথিকা রানীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।