রাতের তাণ্ডবে বিক্ষোভ বেনাপোলে

ইয়ানুর রহমান  :বেনাপোলে সোমবার রাতের তাণ্ডবে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শার্শা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। তাদের অভিযোগ উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মান্নান মিন্নুর সমর্থক পৌর মেয়র লিটনের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত আকুল বাহিনী রাতের আধারে নামে হত্যা চেষ্টার যজ্ঞে। তাদের এলোপাতাড়ি গুলি, বোমা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক জখম হয়েছেন শার্শায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুল হক মঞ্জুর সমর্থক লক্ষণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান কামাল ভুইয়া, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আশানুর রহমান আশা, যুবলীগ নেতা নজরুল ও বন্দর শ্রমিক শাহাদত।
রাতের এ তাণ্ডবের প্রতিবাদে গতকাল সকাল থেকেই বিক্ষুব্ধ মানুষেরা বেনাপোলে জমা হন। সারাদিন চলে মিছিল ও সমাবেশ। স্লোগান দেয়া হয়- “সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও”, “মেয়রের কালো হাত ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও”। অপরদিকে শাহাদত জখম হওয়ার প্রতিবাদে বন্দর শ্রমিকরা আমদানি – রফতানি বন্ধ করে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে হঠাৎ বিদ্যুত চলে যায় বেনাপোলে। পরক্ষণেই পরপর তিনটি বোমের আওয়াজে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে বন্দর এলাকা। এর পরেই গুলির শব্দ। হামলা করা হয় উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সিরাজুল হক মঞ্জুর সমর্থক লক্ষণপুুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান কামাল ভুইয়া ও বাহাদুরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আশানূর রহমান আশাকে হত্যার জন্য।
এ সময় তাদের সাথে থাকা যুবলীগ নেতা নজরুলও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম হন। বন্দরের কার্যক্রম সেরে বাড়ি যাচ্ছিলেন শ্রমিক শাহাদত। আততায়ীদের গুলী তার শরীরও ভেদ করে।
অপরদিকে পাশ দিয়ে যাওয়া ভ্যান চালক শহিদুল ইসলামও গুলিবিদ্ধ হয়।  সাথে সাথে স্থানীয় জনতা ও পুলিশ সদস্যরা এসে তাদেরকে চিকিৎসার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
মুহূর্তের মধ্যে বন্দর নগরী বেনাপোল মিছিলে মিছিলে ভরে যায়। আওয়াজ ওঠে “সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও” “মেয়রের কালো হাত ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও” আক’লের কালো হাত ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও”।
স্থানীয়রা আরো জানান, বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের লালিত পোর্ট থানার ঘিবা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আকুল ও মুকুল স্ব-শরীরে নেতৃত্ব দেন এ হত্যা চেষ্টার মিশনে। গুলি, বোমা ও কোপানোর কাজ করে ভবারবেড় গ্রামের করিম মন্ডলের ছেলে মন্ডল(২৯), জমির হোসেনের ছেলে টুটুল(২৪), হাতকাটা তোতার ছেলে উজ্জল(২৩), আব্দুল জলিলের ছেলে টিটু(২৬), কাগজপকুর গ্রামের ফটকা মোসলেমের ছেলে সাইফল্লাহ(৩৪), পাটবাড়ি এলাকার নজরুলের ছেলে শফিকুল(৩০), বেনাপোল গ্রামের আলহাজ্ব ছাফের আলী মোড়লের ছেলে ইবাদুল ইসলাম(৩৮)।
এদিকে, সোমবার রাতে এ সকল দূর্বৃত্তদের গুলীতে বেনাপোল স্থলবন্দরের শ্রমিক শাহাদত গুলিবিদ্ধ হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে বেনাপোল বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। বিচারের দাবিতে সকাল ১০ টায় বেনাপোল বন্দর এলাকায় মিছিল সহকারে তারা চেকপোস্টে গিয়ে আমদানি বাণিজ্যের প্রধান গেট বন্ধ করে দেয়। একই সাথে শ্রমিকরা কাজ না করায় বন্দর অভ্যন্তরের লোড-আনলোড বন্ধ হয়ে যায়। ফলে, আমদানি পণ্য পরিবহনের জন্য রাস্তার উপরে দাড়িয়ে থাকে শতশত পণ্যবাহী ট্রাক।
বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের (৮৯১) সভাপতি মোঃ কলিম উদ্দিন মোল্লা কলি বলেন, দুর্বৃত্তরা আমাদের শ্রমিককে গুলিবিদ্ধ করেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমরা ন্যায্য বিচারের দাবিতে বেনাপোল বন্দর বন্ধ রেখেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত ন্যায্য বিচার না পাব ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
বেনাপোল কাস্টমস কার্গো সুপার খায়রুল আলম বলেন, মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকরা মেইন গেট বন্ধ করে দেওয়ায় আমদানি রফতানি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এছাড়া ২ পথচারিসহ ৩ নেতাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার চেষ্টাকে ধিক্কার জানিয়ে  মঙ্গলবার বিকালে বেনাপোল পৌর শহরে মিছিল করে এলাকাবাসি। শার্শা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ওহিদুজ্জামান ওহিদের নেতৃত্বে এসময় তারা আওয়াজ তোলে “সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও, মেয়রের কালো হাত ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও,আকুলের কালো হাত ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও, সন্ত্রাসী লিটনের বেনাপোলে ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই”।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মোসাররফ হোসেন বলেন-এ বিষয়ে এখনো কোন মামলা পাওয়া যায়নি। খুলনা ডিআইজি ও যশোর এসপির সার্কেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। চেয়ারম্যান কামাল সুস্থ হলে তিনি যদি কাউকে চিনতে পারেন তাহলে সন্ত্রাসীদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হবে।
অপরদিকে, এ হত্য মিশন ঘটানোর প্রতিবাদে শার্শার গ্রামে গঞ্জে দিনভর বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে শার্শার বাগআঁচড়া বাজারে চেয়ারম্যান বকুলের নেতৃত্বে এক বিক্ষোভ মিছিল বাগআঁচড়া বাজার প্রদিক্ষণ করে। মিছিল শেষে স্কুল গেটে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে হত্যর মিশনের নীল নকশাকারী মেয়র লিটন সহ সকল সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার পূর্বক শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান বক্তারা। বিকালে শার্শা সদরে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি কাওসার আলীর নেতৃত্বে অনুরূপ বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নাভারণে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সন্ধ্যায় শার্শার উলাশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ আয়নাল হকের নেতৃত্বে উলাশী বাজারে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে শার্শার লক্ষণপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক জালাল হোসেনের নেতৃত্বে হাজার হাজার নারী ও পুরুষের সমন্ময়ে এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা ৩দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে। ৩দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান কামাল হোসেন সহ ৫ নেতাকর্মীকে হত্যার পরিকল্পনাকারী ও দুর্বৃত্বদের আটক না করলে বড় ধরনের কর্মসূচী দেওয়া হবে বলে জানান।