ঝিকরগাছায় সাংসদ শেখ আফিলের উপর হামলা, গাড়ি ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বুধবার দুপুরে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় যশোর-১ (শার্শা) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিনের গাড়িতে হামলা ও ব্যাপক বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মুছা মাহমুদের বাড়ির সামনেও বেশ কয়েকটি বোমার বিষ্ফোরণ ঘটানো হয়। এ ঘটনার জন্য তিনি অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী মনিরুল ইসলামের সমর্থকদের দায়ী করেছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শার্শাজুড়ে বিক্ষোভ করেছে আওয়ামী লীগ, যুব ও ছাত্রলীগ। নির্বাচনের আগের দিন এ ধরনের ঘটনা ঝিকরগাছায় চেয়ারম্যান প্রার্থী মনিরুল ও তার সমর্থকদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি সহিংস ভূমিকা প্রমাণ করে। আজ নির্বাচনে তারা কী করবেন তা নিয়েও শঙ্কায় ঝিকরগাছার সাধারণ মানুষ।
শেখ আফিল উদ্দিন বলেছেন, সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গালিগালাজ ও গাড়িতে হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে।
চেয়ারম্যান প্রার্থী মুছা মাহমুদ বলেন, দুপুরের দিকে তিনি উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা রশিদুল আলমের বাড়িতে আরও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কথা বলছিলেন। এসময় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শেখ আফিল উদ্দিন সেখানে আসেন। তিনি কিছু সময় কাটিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় সেখান থেকে ১শ’ গজ দূরে মন্দিরের সামনে পৌঁছালে মোটর সাইকেলে করে আসা ১৪/১৫জন দুর্বৃত্ত তার গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে ও ৪/৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এসময় গাড়িটি দ্রুত চলে যায়। হামলাকারীরা পিছু ধাওয়া করে শংকরপুর নামক স্থানে এসে গাড়ির পিছনে হামলা করলে কাচ ভেঙে যায়। এছাড়া তারা হকিস্টিক দিয়ে গাড়ির বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। চালক সলেমান হোসেন দ্রুত গাড়ি চালিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মনিরুল ইসলামের সমর্থক কুখ্যাত সন্ত্রাসী রাজু, তার ভাই বাবু, এনামুল, কালু, স্বপনসহ ১৪/১৫জন এ ঘটনা ঘটিয়েছে।্
একই দুর্বৃত্তরা ফিরে এসে মুছা মাহমুদের বাড়ির সামনে আরও কয়েকটি বোমার বিষ্ফোরণ ঘটায়। এসময় তারা মুছা মাহমুদের সমর্থক ঝিকরগাছার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর কবীর, আশিকুর, মন্টু, মানিক ও অপুকে মারপিট করে।
এমপির সঙ্গে থাকা একমাত্র সঙ্গী শার্শা উপজেলা যুবলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঝিকরগাছার কৃষ্ণনগর গ্রামের রবিউল সরদারের ছেলে রাজু একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসী। ইতি পূর্বে সে কয়েকবার থানা পুলিশের হাতে অস্ত্রসহ আটক হয়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করায় ঝিকরগাছার পৌর মেয়র কামাল পাশা জামালের বাড়িতেও সে হামলা চালিয়েছিল।
শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বলেন, ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এবং সন্ত্রাসীদের আটকের দাবিতে বিকেল ৪টায় আওয়ামীলীগের উদ্যোগে শার্শা বাজারে এক প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে তার আগেই পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। সন্ত্রাসী রাজুকে আটকের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী জানান, শার্শায় উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মান্নান মিন্নু ও ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনিরুল ইসলামকে জয়ী করাতে তাদের পৌষ্য সন্ত্রাসীরা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে সন্ত্রাসীর পথ বেছে নিয়েছে।
উলে¬খ্য, গত ২৪ ফেব্র“য়ারী বেনাপোলে রাত ৮টার দিকে চেয়ারম্যান কামালসহ ৫ আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীর উপর বোমা ও গুলিবর্ষন করে গুরুতর জখম করা হয়। এ ঘটনাটিও ঘটে উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুল হক মঞ্জু সমর্থকদের উপর এ হামলা চালায় অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী মিন্নুর সমর্থক মেয়র লিটনের সন্ত্রাসীরা।