চক্রান্তের পরও শার্শা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু বিপুল ভোটে জয়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক:চক্রান্তের পরও শার্শা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৮০ হাজার ২শ ১ ভোট।
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের অদূরদর্শিকতায় শত উন্নয়ন থাকা সত্ত্বেও উপজেলা নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিপর্যয় হয়েছে। কতিপয় নেতার চক্রান্তের পরও শার্শা উপজেলার বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চেয়ারম্যান প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু। আগের দিন রাতে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মান্নান মিন্নুকে বহিষ্কার এবং সিরাজুল হক মঞ্জুকে দল সমর্থিত প্রার্থী ঘোষণা করলেও শার্শাবাসীর কাছে সে সংবাদ পৌঁছানোর আগে সকাল থেকেই সমান তালে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হন সিরাজুল হক মঞ্জু, আব্দুল মান্নান মিন্নু এবং বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী খাইরুজ্জামান মধু, ত্রিমুখী এ লড়াইয়ের মধ্যেই মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতৃবৃন্দের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জ্ ুবিপুল ভোটে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ কৃতিত্ব শুধুমাত্র জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং শার্শা থেকে দশম সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত এমপি আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন ও উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের সিংহ ভাগ নেতৃবৃন্দের। কোন রকম নিয়মনীতি উপেক্ষা করে জেলা আওয়ামী লীগের ৮ নেতা কর্তৃক ১০ নেতাকে কথিত বহিষ্কার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তৃণমূল নেতাদের মতামত না নিয়ে সার্কিট হাউজে বসে জন বিচ্ছিন্ন নেতাদের চেয়ারম্যান পদে সমর্থন দেয়া এবং সর্বশেষ ২৩ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় সংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপির সিদ্ধান্ত গোপন রেখে জেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা দলের জন্য সর্বনাশ ডেকে এনেছেন। ঝিকরগাছা উপজেলাতে দলের ত্যাগি নেতা এবং সদ্য সমাপ্ত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ (ঝিকরগাছা- চৌগাছা) আসনের নৌকা প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মুছা মাহমুদের বদলে যে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধচারণকারী নেতাকে চেয়ারম্যান পদে সমর্থন এবং আগের দিন রাতে আওয়ামী লীগ নেতা মুছা মাহমুদকে বহিষ্কার ঘোষণা হাজারও নেতাকর্মীকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেয়। কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতার খাম খেয়ালী পনা দলের গতিকে থামিয়ে দিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে রণজিৎ রায় নির্বাচিত হবার পর চাপাতলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ভীতি কাটতে না কাটতেই অভয়নগর উপজেলার বিতর্কিত রবিন অধিকারী ব্যাচাকে প্রার্থী করায় বিপুলভোটে পরাজিত হন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভয়নগর উপজেলার এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান সেখানকার যোগ্যপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেককে বাদ দিয়ে ব্যাচাকে প্রার্থী করা হয়েছে দলের ভুল সিদ্ধান্ত। ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে রনজিৎকে ভোট দেয়ায় যে সম্প্রদায়ের উপর হামলা হয়েছে। তার রেষ কাটতে  উচিৎ হয় না কাটতেই রবিন অধিকারী ব্যাচাকে প্রার্থী করা। তিনি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা কেবল নিজ স্বার্থ নিয়ে ব্যাস্ত। জাতীয় নির্বাচনে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। অধ্যক্ষ আব্দুল ওহাব বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও শুধু মাত্র বহিষ্কার করা হয় যশোর ৫ (মণিরামপুর) আসনের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্য্যকে। পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন স্বপন ভট্টাচর্য চাঁদ। স্বপন ভট্টাচার্য্য চাঁদকে বহিষ্কার করা হলেও মানা হয়নি দলীয় গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। প্রেসক্লাব যশোরে এক সাংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রেজা রাজু স্বপন ভট্টাচার্য্য, এক যুবলীগ নেতাসহ তার পক্ষীয় কজন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌর নির্বাচনে গোটা যশোরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের বিপর্যয় ঘটলেও শার্শায় বেনাপোল পৌরসভা সহ ১১ টির মধ্যে ৯ ইউনিয়নে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী। গতকাল উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সিরাজুল হক মঞ্জুকে বিজয়ী করে শার্শাবাসী প্রমাণ করেছে জেলা আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকদের চেয়ে রাজনৈতিক দূরদর্শিকতায় তারা এগিয়ে।