আটক সাকাতের আদালতে স্বীকারোক্তি: ঝাউদিয়ার শহিদুল হত্যায় কামাল মোস্ত মেম্বরসহ ১২জন জড়িত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোর সদর উপজেলার ঝাউদিয়া গ্রামের শহিদুল ইমলাম হত্যা মামলায় আটক সাকাত হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। জনসভায় যাওয়া গাড়ি ভাড়া নিয়ে সৃষ্ট গোলযোগের জের ধরে শহিদুলকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকান্ডের সাথে কামাল, নজরুল, মোস্ত মেম্বরসহ ১২ জন জড়িত বলে জানিয়েছে সাকাত হোসেন।
সোমবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবু ইব্রাহিম আসামির এ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। সাকাত ঝাউদিয়া গ্রামের মৃত হেরমত আলীর ছেলে।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৮ নভেম্বর বিকেলে শহিদুল ইসলম বাড়ি থেকে বাজারের উদ্দেশ্যে যায়। রাতে শহিদুল বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুজি করে উদ্ধারে ব্যর্থ হয় স্বজনেরা। পরদিন সকালে গেড়ের বিলের ঘেরের পাশ থেকে শহিদুলের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে সাজিয়ালি ক্যাম্পের এসআই গোলাম মর্তুজা বাদী হয়ে অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ হত্যা মামলাটি প্রথমে থানা ও পরে সিআইডি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে আটক সাকাত হোসেনকে সোমবার একদিনের রিমান্ড শেষে আদালতে সোপর্দ করলে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। সাকাত হোসেন জবানবন্দিতে জানিয়েছে, ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর আওয়ামী লীগের একটি জনসভায় যোগ দেয়ার পর শহিদুলের ভাইদের সাথে কামাল, মোস্ত মেম্বর, নজরুলসহ অন্যদের গাড়ি ভাড়া নিয়ে গোলযোগ হয়। এ ঘটনার জের ধরে পরদিন ঝাউদিয়া বাজারে আবারও গোলযোগ হয় তাদের মধ্যে। এরপর কামাল, নজরুল, মোস্ত মেম্বরসহ তাদের লোকজন শহিদুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ১৮ নভেম্বর রাতে শহিদুলকে কৌশলে মাঠের ঘেরে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকান্ডের সাথে ১০/১২ জন জড়িত বলে জানিয়েছে সাকাত হোসেন।
যশোরে যৌতুক
মামলায় দন্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে যৌতুক মামলায় জাহিদ হাসান রণি নামে এক ব্যক্তিকে দুই বছর সশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দিয়েছে আদালত। জাহিদ যশোর সদর উপজেলার সিরাজসিঙ্গা গ্রামের ইব্রাহিম হোসেনের ছেলে।
সোমবার এক রায়ে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শেখ মফিজুুর রহমান এ সাজা দিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি শাহিনকে খালাস দিয়েছে আদালত।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, আসামি জাহিদ হাসান রণি ২০১০ সালের ২৭ আগস্ট সিরাজসিঙ্গা গ্রামের আদম আলীর মেয়ে মুর্শিদা খাতুনকে বিয়ে করে। ছয় মাস পর জাহিদ তার স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে নির্যাতন শুরু করে। মুর্শিদা তার সংসারের কথা চিন্তা করে পিতার বাড়ি থেকে বিভিন্ন সময়ে দশ হাজার টাকা এনে দেয়। বাকি ৯০ হাজার টাকা জন্য আসামি জাহিদ তাকে প্রায় মারপিট করত। এরপর শাহিনের পরামর্শে জাহিদ তার স্ত্রী মুর্শিদাকে পিতার বাড়িতে তাড়িয়ে দেয়। জাহিদ তার স্ত্রীর খোঁজ খবর না নেয়ায় ২০১২ সালে ১ সেপ্টেম্বর শালিসের আয়োজন করে মুর্শিদা খাতুন। শালিসে যৌতুক ছাড়া মুর্শিদাকে নিতে অস্বীকার করে জাহিদ। মীমাংসায় ব্যর্থ হয়ে মুর্শিদা খাতুন বাদী হয়ে স্বামী জাহিদ ও মোল্যাডাঙ্গা গ্রামের শাহিনকে আসামি করে আদালতে যৌতুক আইনে মামলা করেন। এ মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি জাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে দুই বছর সশ্রম কারাদন্ড, দুই হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন।