মানবতাবিরোধী অপরাধ: কেশবপুরের সাখাওয়াতসহ আট আসামি গ্রেফতারে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

স্পন্দন ডেস্ক:
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক যশোরের কেশবপুরের আটজন রাজাকারকে গ্রেফতারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এ আটজন গ্রেফতারকৃত যশোর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির নেতা মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে একই মামলার আসামি।
সাখাওয়াত হোসেনসহ মোট ১২ জন ওই মামলার আসামি। বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধেও ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন তিনজন। সোমবার (১ জুন) বাকি আটজনকে গ্রেফতারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল
পলাতক আসামিরা হলেন- মো. ইব্রাহিম হোসেন, শেখ মো. মজিবুর রহমান, মো. আব্দুল আজিম সরদার, মো. আজিম সরদার, কাজী ওয়াহেদুল ইসলাম, মো. লুৎফর মোড়ল, মো. আব্দুল খালেক মোড়ল, এবং মশিয়ার রহমান।
অন্যদিকে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন মো. বিল্লাল হোসেন, মো. আকরাম হোসেন ও ওজিয়ার মোড়ল।
রাষ্ট্রপে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল ও প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন।
অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামি মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনের পে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী আসগর আলী।
সাখাওয়াতসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ২০০৯ সালে যশোরে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। ওই বছর জুন মাসে তাকে কেশবপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে ছাড়া পেয়ে আত্মগোপন করেন।
পরে ওইসব মামলা ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ২০১২ সালের ১ এপ্রিল সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে মামলা তদন্ত করার জন্য নথিভুক্ত হয়। ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) আবদুর রাজ্জাক খান।
প্রসিকিউশনের আবেদনে গত বছরের ২৬ নভেম্বর সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ২৯ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরখান থেকে সাখাওয়াত হোসেনকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
গত ২২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালের আদেশে ধানমণ্ডির সেফহোমে গ্রেফতারকৃত সাখাওয়াতকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত সংস্থা।
এদিকে সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গিয়ে একই অপরাধে আরও ১১ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে এ মামলায় মোট আসামি হন ১২ জন। প্রসিকিউশনের আবেদনে গত ১২ মে বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ওইদিন রাতেই তাদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করার পর ১৩ মে হাজির করা হলে তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন ট্রাইব্যুনাল।
সাখাওয়াতসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় কেশবপুরের চিংড়া, বগা, ভাণ্ডারখোলা, নেহালপুর, হিজলডাঙ্গা, গৌরীঘোনা ও ভাল্লুকঘরসহ বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন তারা। সাখাওয়াত কেশবপুরের রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার ও অন্যরা এ বাহিনীর সদস্য ছিলেন। তাদের অত্যাচার-নির্যাতনে এলাকার সংখ্যালঘুরা দেশত্যাগে বাধ্য হন।
সাখাওয়াত ১৯৯১ সালে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে জামায়াতের পে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য থাকাবস্থায়ই তিনি জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন তিনি। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পে নির্বাচন করে পরাজিত হন সাখাওয়াত।
এরপর ২০০১ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন। পরে বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপর এলডিপি ও পিডিপি হয়ে তিনি এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।