শার্শায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ : সাময়িক বরখাস্ত

শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি:
বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে বেতন ভাতা উত্তোলন, পরীক্ষার হলে উৎকোচ নিয়ে নকল সরবরাহ, শিক্ষার্থীর বাইসাইকেল বিক্রি করে দেয়াসহ একাধিকবার কারণ ছাড়া বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে শার্শা উপজেলার চালিতা বাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার দুপুর ১ টায় চালিতা বাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাসান ফিরোজ টিঙ্কু, প্রধান শিক্ষক আ: কাইউমসহ বিদ্যালয়ের ২১ জন শিক্ষক এবং চতুর্থ শ্রেণীর ৩ জন কর্মচারি ও ম্যানেজিং কমিটির অন্যান্য সদস্যরা শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ নানাবিধ অভিযোগ করেন।
বিদ্যালয়ের সভাপতি হাসান ফিরোজ আহমেদ টিংকু জানান, ২০০১ সনে স্কুলে যোগদান করার পর থেকে বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম নানা ধরনের অনিয়ম করে স্কুলের শিক্ষার্থীদের পড়াশুনাসহ স্কুলের অন্যান্য কাজের ক্ষতি সাধন ও মান ক্ষুণœ করে আসছে। তখনকার ম্যানেজিং কমিটি তাকে বার বার শোকজসহ মৌখিক ভাবে সতর্ক করলেও তার কোনো পরিবর্তন পরিবর্ধন আসেনি।
তিনি জানান ২০১২ সনের ১৯ জুলাই থেকে ৩১ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৬ মাস সে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে ৫৮হাজার ৬৮ টাকা বেতন উত্তোলন করেছেন। যা সম্প্রতি অডিট রিপোর্টে ধরা পড়ার পর সাবেক উপজেলা শিক্ষা অফিসার ওয়াহেদুজ্জামান বইতে লিখে দিয়ে গেছেন ওই টাকা ফেরত দেয়ার জন্য।
সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকরা শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তিনি বাৎসরিক সিএল ছুটি বাদে প্রধান শিক্ষক এবং সভাপতির নিকট থেকে অনুমতি না নিয়ে নিজের ইচ্ছামত ছুটি কাটান। তিনি চলতি বছরের জানুয়ারী মাস থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৯ দিন ছুটি কাটিয়ে বেতন উত্তোলন করতে গেলে তার ২ দিন বেতন কর্তন করা হয়। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে তার বেতন ফেরত পাওয়ার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের নিকট উকিল নোটিশ পাঠায়।
সূত্র আরো জানায়, শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ১১/৫/১৫ তারিখ থেকে অদ্যবধি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত। সূত্র আরো জানায় শিক্ষক শফিকুল ইসলামের খামখেয়ালীর কারণে বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণœ হচ্ছে।
কম্পিউটার শিক্ষিকা সালেহা খাতুন অভিযোগ করেন, সে বিদ্যালয়ের পাসওয়ার্ডের জন্য তাকে নানা ভাবে চাপ প্রয়োগ করছে। সে বাধ্য হয়ে সভাপতির নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।
স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি টিঙ্কু আরো অভিযোগ করেন বলেন, ২০১৪ সনের এসএসসি পরীক্ষার সময় সে এসএসসি পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ২০ টাকা ঘুষ নিয়ে নকল সাপ্লাই দিত এবং এ কারণে সে ধরা পড়ে বরখাস্থ হন। যা বিদ্যালয়ের জন্য একটা অসম্মান জনক ব্যাপার।
স্কুলের অভিভাবক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, তার ছেলের বাইসাইকেল শফিকুল ইসলাম নিয়ে বিক্রি করার পর সে ধরা পড়ে। পরে এক বিচার সালিশে তাকে জরিমানা প্রদান করতে হয়।
এ ব্যাপারে শিক্ষক শফিকুল ইসলামের সাথে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন তার বিরুদ্ধে যা কিছু হচ্ছে সব ষড়যন্ত্র। তিনি সভাপতি টিঙ্কুর আক্রশের শিকার। আমাকে প্রধান শিক্ষক বানানোর কথা বলে বিপুল পরিমানের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আমাকে নিঃস্ব করেছে।
বেতন বইতে শিক্ষা অফিসার তার বেতন ফেরত দেয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, তার শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকার কারণে সে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারে নাই। তার কোনো মেডিকেল সার্টিফিকেট আছে কি না বা জমা দেয়া হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, তার কোনো মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দেয়া হয় নাই।