যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে কেন্দ্রীয় ক্যাশ কাউন্টার চালু নিয়ে সংশয়

বিল্লাল হোসেন:
১০ মাস আগে ক্যাশ কাউন্টার স্থাপনের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে কম্পিউটার ও প্রিন্টার মেশিন। অর্থ জমা ও কম্পিউটারাইজড মানি রশিদ প্রদানের জন্য কেনা হয় একাউন্টিং সফটওয়্যার। কার্যক্রমের নির্দিষ্ট কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ক্যাশ কাউন্টার চালুর অনুমোদন মিলেছে ৫ মাস আগে। অথচ কার্যক্রম শুরু হয়নি আজও। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে কেন্দ্রীয় ক্যাশ কাউন্টার আদৌ চালু হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ থেকে সরকারি অর্থ লুটপাট অব্যাহত রাখতে কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করেই ক্যাশ কাউন্টার চালু করছেন না। কেননা লুটপাটকৃত অর্থের মোটাঅংকের একটি ভাগ থেকে বঞ্চিত হবেন হাসপাতালের কতিপয় কর্মকর্তা। অথচ সরকারি রাজস্ব বাড়াতে হাসপাতালের সাবেক ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মুক্তিযোদ্ধা ডা. ইয়াকুব আলী মোল্যা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে এখানে কেন্দ্রীয় ক্যাশ কাউন্টার চালুর অনুমোদন করাতে সক্ষম হয়েছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে হাজার হাজার টাকা আত্মসাৎ করছেন। কর্তৃপক্ষের তদারকিতে বিগত দিনে ধরাও পড়েছেন কয়েকজন। যা নিয়ে পত্রিকায় খবরও প্রকাশিত হয়েছে। হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. ইয়াকুব আলী মোল্যা অনুসন্ধানে প্রমাণ পান বিভিন্ন বিভাগ থেকে আয় হওয়া সরকারি রাজস্ব লোপাট করা হচ্ছে। যে কারণে আর্থিক দুর্নীতেরোধে তিনি ক্যাশ কাউন্টার চালুর উদ্যোগ নেন। তার তদবিরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে কেন্দ্রীয় ক্যাশ কাউন্টার চালুর অনুমোদন দেন। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর অনুমোদনের আদেশ জারি করেন। যার স্মারক নং-১৯২৯। আদেশপত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এসে পৌঁছায় ৬ জানুয়ারি। পত্রে উল্লেখ করা হয় হাসপাতালের প্যাথলজিক্যাল ল্যাবের সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা, এক্স-রে, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, আলট্রাসনো, পেয়িং বেড ও কেবিন, বহিঃবিভাগ ভর্তি রোগীর টিকিটের ফি, রক্ত স্কিনিং ফি, অপারেশন ফিসহ অন্যান্য ইউজার ফি কেন্দ্রীয় ক্যাশ কাউন্টারের মাধ্যমে গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়। এদিকে, এটি অনুমোদনের ৫ মাস অতিবাহিত হলেও অজ্ঞাত কারণে চালু করা হয়নি। সূত্র জানায়, এটি চালু হলে কোনো কর্মকর্তা কর্মচারী সরকারি অর্থ লুটপাটের সুযোগ পাবেন না। এর পরেও কেন ক্রাশ কাউন্টার করা হচ্ছে না তা নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। সূত্রটি আরো জানায়, ক্যাশ কাউন্টার চালু হলে সরকারি রাজস্ব বর্তমানে যা আয় হচ্ছে তার দ্বিগুণ হবে। যে কারণে সচেতন মানুষ ক্যাশ কাউন্টারের কার্যক্রম চালু করার দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শামসুল হাসান দোদুল জানিয়েছেন, ক্যাশ কাউন্টার চালু করা নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। ফলে এর কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে না। সমস্যার সমাধান করে ক্যাশ কাউন্টার চালুর জন্য তিনি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।