যশোরে ডিস ব্যবসায়ী আতাউর হত্যাকারীরা অধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোরে ডিস ব্যবসায়ী আতাউর রহমানকে (৩৫) কারা হত্যা করলো তার কোন কুলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার দেড় মাস পার হলেও এই হত্যায় জড়িত কাউকে আটক তো দুরে থাক এখনো পর্যন্ত কাউকে সন্দেহ করতে পারিনি। ফলে মামলাটির ভবিষ্যত নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
গত ১৮ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে যশোর শহরের বিমান বন্দর বাইপাস সড়কের পাশের মেডিকেল কলেজের সামনে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা আতাউরকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। রাস্তায় চলাচলকারী লোকজন তাকে উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ডাক্তারদের পরামর্শে ওই রাতেই পরিবারের লোকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন অর্থাৎ ১৯ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আতাউর মারা যান। আতাউর রহমান যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ভাড়াটিয়া ফিরোজ হায়দারের ছেলে। ফিরোজ হায়দার সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার।
তিনি জানিয়েছেন, আতাউর রহমান তার ছোট ছেলে। সেনানিবাস এলাকায় ডিস লাইন ব্যবসা এবং বিমান বন্দরের নিলাম কেনাবেচা করতেন। এছাড়া কলাবাগান এলাকায় তার ইলেকট্রিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখাশুনা করতেন। তার বাড়ি রাজবাড়ির পাংশা উপজেলার চরঝিকরি গ্রামে। চাকরির সূত্রে যশোরের সেনানিবাস সংলগ্ন কলাবাগান এলাকায় তিনি জায়গা কিনে বসবাস করতেন। কিন্তু সরকার সেখানকার জায়গা অধিগ্রহণ করলে তিনি ডাকাতিয়া গ্রামে ভাড়া থাকেন। পালবাড়ির মোড়ে কেনা একটি জায়গায় বাড়ি করার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি ও তার ছোট ছেলে আতাউর। কিন্তু তার আগেই তাকে খুন হতে হলো। কি কারণে এই হত্যা এ সম্পর্কে তিনি খোলামেলা কিছু জানাতে চাননি।
তবে এলাকার একটি সূত্র জানিয়েছে, খুন হওয়ার সপ্তাহ খানেক আগে আতাউর ও তার ব্যবসায়ীক পার্টনাররা বিমান বন্দরের একটি নিলামকৃত মাইক্রোবাস কেনেন। তিনি যে সব পার্টনারের সাথে ব্যবসা করতেন তাদের বাড়ি আরবপুর ও পালবাড়ি এলাকায়। তাদের সাথে তিনি ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিলামকৃত পণ্য কেনাবেচা করতেন। ব্যবসায়ীক দ্বন্ধে তিনি খুন হতে পারেন। কারণ তাকে যেখানে কুপিয়ে জখম করা হয় সে স্থান একবারে নিরিবিলি। সন্ধ্যার পর ওই সড়কে খুব একটা লোকজন দেখা যায়না। হত্যাকারীরা তাকে ওই স্থানে ডেকে নিয়ে খুন করার লক্ষ্যে এলোপাতাড়ি কোপাতে পারে।
নিহতের পিতা ফিরোজ হায়দার বলেছেন, কারা তার ছেলেকে হত্যা করেছে তা এখনো পরিস্কার না। তবে ব্যবসায়ীক কোন শত্রু ছিল কি-না এ বিষয়েও তিনি কোন মন্তব্য করেননি। তিনি বলেছেন, আতাউরের সাড়ে ৪ বছরের একটি মেয়ে সন্তান আছে। স্ত্রী শিলা তাকে নিয়ে তার বাড়িতে থাকেন। তাদের দুঃখ দুর্দশার এখন শেষ নেই।
এই মামলাটি তদন্ত করছেন কোতয়ালি থানার এসআই তারিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, মামলায় কাউকে আটক করা যায়নি। কাউকে সন্দেহ করাও যায়নি।
তাহলে খুন হলো কি ভাবে। কারা তাকে হত্য করলো? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, আমরা চেষ্টা করছি আতাউর হত্যাকারীদের আটকের জন্য।