শ্রমিকদের স্মারকলিপি: যশোরে ইজিবাইক ভাঙচুর ঘটনায় থানায় মামলা, আসামি ৫শ’

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোর শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের দাবিতে আন্দোলনের নামে অসংখ্য ইজিবাইক ভাঙচুর, মারপিট ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বাংলাদেশ অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম রনি গত রোববার রাতে কোতয়াালি থানায় মামলা করেছেন। হামলার প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।
মামলায় যশোর রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহবায়ক গোলাম মোস্তফাসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪/৫শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে ।
এদিকে এ মামলায় আটক এজাহারভুক্ত ৩ আসামিকে সোমবার আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
গত রোববার দুপুরে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান চলাচলের দাবিতে আন্দোলনের নামে শ্রমিকরা শহরে ব্যাপক তান্ডব চালায়। তারা শ’খানেক ইজিবাইক ভাঙচুর করে। এ সময় তাদের হামলায় ইজিবাইকচালক ও যাত্রীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়। পুলিশ ভাঙচুরকারী ৩ জন রিকশাচালককে আটক করে।
মামলার আসামিরা হলো, যশোর রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহবায়ক গোলাম মোস্তফা, শহরের ঘোপ বউ বাজার এলাকার শামিম পারভেজ মিন্টু, গাড়িখানা রোডের আজিবর রহমান, পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার সুহাস, বারান্দী মোল্লাপাড়ার আব্দুল জব্বার সাকির, শহরতলীর চাঁচড়া পুলেরহাটের আব্দুল হালিম, শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়ার বাবলু, পুলিশ লাইন এলাকার সরদার রহমান, রেলগেট এলাকার শহিদুল ইসলাম শহিদ, ষষ্টিতলার ফরিদ হোসেন, ঘোপ বেলতলার কাঞ্চন হোসেন, বারান্দীপাড়ার আক্তার, আরমান কসাই, শহরতলীর বিরামপুরের ইমরাম হোসেন, শহরের শামীম হোসেন, ঘোপ জেল রোডের আতিয়ার রহমান, শহরতলীর বিরামপুরের বিল্লাল হোসেন, শহরের মোল্লাপাড়া আমতলার রবি ডাক্তার, কারেন্ট মিস্ত্রি বারেক, সাইফুল ইসলাম, শেখহাটি বাবলাতলার আনিস মিস্ত্রি, শংকরপুরে বজলুর রহমান, কালু শেখ, মামুন, রেল স্টেশন এলাকার বজলু, আশ্রম মোড়ের ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি মিন্টু, রেল স্টেশন এলাকার কামাল মিস্ত্রি, শংকরপুর ইসহক সড়কের ইছাহক মিস্ত্রি, তৈয়ব হোসেন, উপশহর ফিলিং স্টেশন এলাকার আব্দুল হালিম, শহরের শংকরপুরের মাসুদ হোসেন, সদর উপজেলার চাঁচড়া ভাতুড়িয়া গ্রামের মঈন হোসেন, পুলেরহাটের মজিবুর রহমান, শামিম হোসেন (শামিম সাইকেল স্টোর), তোতা মিয়া, রফিক (রফিক রিকশা গ্যারেজ) ও মিঠু।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা প্রশাসন শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ৭ জুন দুপুরে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আচমকা দড়াটানাসহ বিভিন্ন এলাকায় ইজিবাইক ভাঙচুর শুরু করে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ দড়াটানায় এসে উপস্থিত হলে আসামিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ফের ইজিবাইক ভাঙচুর করে। আসামিরা প্রায় দুইশ’ ইজিবাইক ভাঙচুর করেছে। যার য়তির পরিমান ৬ লাখ টাকা। এছাড়া চালকদের মারপিট করে গুরুতর আহত করে। তাদের কাছ থেকে মোট এক লাখ ৪০ হাজার টাকা কেড়ে নেয়। ওই ঘটনার পর ৪/৫ টি ইজিবাইকের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেনা। ধারনা করা হচ্ছে আসামিরা ওই ইজিবাইকগুলো চুরি করে নিয়ে গেছে।
অপরদিকে ইজিবাইক ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকের দাবিতে সোমবার সকালে শহরে বিােভ মিছিল করেছে ইজিবাইক চালকরা। পরে তারা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ করে।