বাঘারপাড়ায় খুনের ঘটনায় মামলা, পিতা-পুত্র আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘারপাড়া :
বাঘারপাড়ার অন্তাইখোলা গ্রামে মেয়েলি ঘটনায় হত্যাকান্ডের জেরে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট অব্যাহত রয়েছে। খুনের ঘটনায় নিহতের চাচাত ভাই শাহ আলম বাদি হয়ে মঙ্গলবার রাতে মামলা করেন। পুলিশ মামলায় অভিযুক্ত পিতা ও কিশোর পুত্রকে আটক করেছে। এদিকে নিহত শরিফুল ইসলামের মরদেহের ময়নাতদন্ত গতকাল যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে সম্পন্ন হয়।
মামলায় ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ২ জনকে আটক করেছে। আটকৃতরা হচ্ছে মৃত নসর উদ্দীনের ছেলে তকব্বার আলি (৪৬) ও তার ছেলে নাইম (১৫)। তারা দুজনই সংঘর্ষে আহত হয়ে পুলিশ পাহারায় বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহত শরিফুল ইসলামের ময়না তদন্ত শেষে গতকাল বিকালে লাশ তার বাড়িতে পৌঁছায়। বিকেলে আছরবাদ তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার রাতে তার মরদেহ বাড়িতে এসে পৌঁছানোর পর পুলিশ মর্গে পাঠায়।
একজন প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে নিহত শরিফুলের আত্মীয় ইনামুল নামে এক যুবকের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে দুই পক্ষে মঙ্গলবার সকালে সংঘর্ষ হয়। এসময় শরিফুলসহ চারজন আহত হয়। গুরুতর আহত শরিফুলকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে যাওয়ার পথে সন্ধ্যায় সে মারা যায়। রাতে এখবর গ্রামে এসে পৌঁছালে নিহত শরিফুলের পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। শরিফুল হত্যা মামলার আসামি কামাল,আলম ও রুবেলের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুরসহ অসংখ্য আম ও মেহগনি গাছ কেটে দেয়া হয়েছে। তাদের গরু, ছাগল, ধান, চাল এমনকি স্যালো মেশিন পর্যন্ত লুট করে নিয়ে গেছে এমন দাবি করেছেন তাদের নিকট আত্মীয়রা। একই অবস্থা হয়েছে মালেশিয়া প্রবাসি মিজানুর রহমান ওরফে নিজাম উদ্দীনের বাড়িতে। তাদের ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এদিকে এ পরিবারগুলোর সদস্যরা মঙ্গলবার রাতে শরিফুলের মৃত্যুর ঘটনা শোনার পর থেকে এলাকা ছেড়েছেন। আসামি পক্ষের এক আত্মীয় দাবি করেন অগ্নি সংযোগ ও লুটপাটের শুরুতেই পুলিশ উপস্থিত হওয়ায় লুটপাট বন্ধ হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য দিপংকরকে দায়িত্ব দিয়ে আসেন আসামি পক্ষের বাড়ি ঘরের বাকি মালামাল পাহারা দিতে। ওই আত্মীয় অভিযোগ করেন দিপংকরই গভীর রাতে আসামিদের প্রতিপক্ষকে ফের লুটপাটে সহযোগিতা করে। গতকাল রাতেও হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অগ্নি সংযোগ, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।
এ ঘটনার মূল ব্যক্তি ইনামুলও সংঘর্ষে আহত হয়। সে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।