যশোরে ‘সর্বহারা’ পরিচয়ে চাঁদা দাবি,আতংক

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোরে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠন ‘সর্বহারা’র পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে মোবাইল ফোন করে চাঁদা চাওয়া হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে যশোরের বেশ কয়েকজন ব্যক্তির কাছে মোবাইল ফোন করে বলা হয়েছে ‘সর্বহারার কয়েকজন নেতা দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ভারতে চিকিৎসাধীন। তাদের চিকিৎসার জন্য প্রচুর টাকার দরকার। সে কারণে তাদের টাকা দিতে হবে।’ এতে আতংক বিরাজ করছে তাদের মধ্যে।
তবে পুলিশ বলেছে, ‘সর্বহারা’ নামের সংগঠনের কোন অস্তিত্ব যশোরে নেই। যারা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ফোন করছে তারা এক শ্রেণির ধান্দাবাজ। সর্বহারার নাম বললে ভয় পেয়ে টাকা দিতে পারে সেকারণে এই নাম বলা হচ্ছে।
যশোর শহরের এইচএমএম রোডের রাজিব অ্যালুমেনিয়ামের মালিক কাশেম আলীর মোবাইল ফোনে ৩/৪দিন আগে একটি ফোন আসে। তাকে বলা হয় সে সর্বহারার আঞ্চলিক নেতা। তাদের দুজন সদস্য দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ভারতে চিকিৎসা নিচ্ছে। তাদের সুস্থ করতে অনেক টাকার দরকার। এই জন্য আপনাকে এক লাখ টাকা দিতে হবে। তিনি ফোন পেয়ে আর কোন কথা বলেননি।
একই অভিযোগ করেছেন যশোরের সুনামধন্য পত্রিকা পরিবেশক ইজাহার আলী। তার কাছেও একই কথা বলে টাকা চাওয়া হয়।
গত মঙ্গলবার একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন আসে সাংবাদিক গোপীনাথ দাসের মোবাইল নম্বরে। তারা ফোন দিয়ে একই কথা বলে এবং জানায় তিনি (গোপীনাথ দাস) একজন ব্যবসায়ী হিসাবে জানেন। তাদের কর্মীর সহযোগিতার জন্য কত টাকা দিতে পারবেন? সে সময় গোপীনাথ দাস উল্টো গালিগালাজ করলে প্রতারক চক্রের সদস্য মোবাইল ফোন সংযোগ বিচ্ছন্ন করে দেন।
এ রকম আরো কয়েকজন ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন। মঙ্গল ও বুধবার দু’দফা যশোর সদর উপজেলার মিরা লাউখালি গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে ওমর ফারুকের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া হয়। এই ঘটনায় ওমর ফারুক বুধবার কোতয়ালি থানায় একটি জিডি করেছেন।’
এ বিষয়ে কথা হয় কোতায়ালি থানার ওসি সিকদার আককাছ আলীর সাথে। তিনি বলেছেন, সর্বহারা নামে কোন সংগঠন যশোরে নেই। এক সময় এই সংগঠনের গোপন তৎপরতা ছিল। কিছু দিন ধরে এই নাম বলে একটি প্রতারক চক্র শহরের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ফোন করে চাঁদা চাচ্ছে। এই কাজে যে সিমকার্ড ব্যবহার হচ্ছে তা যশোরাঞ্চলের। কিন্তু আসল কোন ব্যক্তির ফোন না। কোনটির রেজিস্ট্রেশন নেই। আবার রেজিস্ট্রেশন হলেও তা ভুয়া নামের।’
তিনি আরো বলেছেন, এক শ্রেণির প্রতারক বেছে বেছে মোবাইল করছে। তবে যারা ভয় পাচ্ছে তাদেরকে চেপে ধরছে। আর যারা উল্টো নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে তাদের কাছে আর ফোন করছে না। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ সংক্রান্ত অভিযোগের মোবাইল ফোন সংগ্রহ করে প্রতারকদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।