কাস্টমস কর্মকর্তারা দায়ি করছেন স্ক্যানিং মেশিন নষ্ট হওয়াকে: বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাতে ৪৬ সোনার বারসহ ধরা পড়লো দুইজন

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল:
বেনাপোল সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ড এলাকা থেকে ৪৬টি সোনারবারসহ দুই পাসপোর্ট যাত্রীকে আটক করেছে ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমস গোয়েন্দা। আটককৃতদের নাম ঠিকানা জানা সম্ভব হয়নি। সোনাসহ বেনাপোল চেকপোস্ট পেরিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে কাস্টমস কর্মকর্তারা দায়ি করছেন স্ক্যানিং মেশিন নষ্ট হওয়াকে।
শনিবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় ওই দুইজন বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস হয়ে ভারতে প্রবেশ করার মুহূর্তে এ আটকের ঘটনা ঘটে।

বেনাপোল চেকপোস্টের কাস্টমস সুত্রে জানাযায়, ওই পাসপোর্ট যাত্রীরা ঢাকা এয়ারপোর্ট হয়ে শনিবার বিকালে বেনাপোল চেকপোস্ট আন্তজার্তিক কাস্টমস হাউসে আসে। সেখানে বিশেষ পরিচয় দিয়ে কাস্টমস সুপার উত্তম ঘোষের কক্ষে বসে ভিআইপি মর্যাদায় ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস পার হয়। কিন্তু ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে আগে থেকে তথ্য থাকায় পেট্রাপোল কাস্টমসে প্রবেশ মুহূর্তেই গোয়েন্দা সদস্যরা তাদের দু’ জনকে আটক করে। পরে তাদের সাথে থাকা একটি টেলিফোন সেট ও পায়ের জুতার মধ্য থেকে ৪৬টি সোনার বার জব্দ করে। যার ওজন চার কেজি ৬’শ গ্রাম বলে জানা যায়।

এ ব্যাপারে বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস সুপার উত্তম কুমার ঘোষ তার বিরুদ্ধে আনিত ওই দুইজনকে সহযোগিতার কথা অস্বীকার করে বলেন, এখানকার স্ক্যানিং মেশিনটি দির্ঘদিন ধরে অচল থাকায় চোরাকারবারিরা সুযোগ বুঝে পার হয়ে চলে যাচ্ছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানোর পরেও তা ঠিক হয়নি। একারনে সব ব্যাগ পরীক্ষা করা সম্ভব হয়না। কোন ব্যাগ সন্দেহ হলে তা খুলে হাতে তল্লাশি করা হয়।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার ফরহাদ হোসেন সোনার চালান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন। এ ঘটনার পর থেকে চেকপোস্ট কাস্টমসে কর্মরত সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। নতুন স্কানিং মেশিং কেনার জন্য অর্থ মন্ত্রনালয়ের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

বেনাপোল চেকপোস্টের সূত্রগুলো বলেছেন, এখানে দুটি স্ক্যানিং মেশিনের নতুন সংযোগের পর থেকেই অজ্ঞাত কারণে এ মেশিনগুলো চালাতেন না কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ফলে অবহেলা আর অযতেœর কারণে কোটি টাকা মূল্যের স্ক্যানিং মেশিন দুটি বিকল হয়ে গেছে।