বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে নির্বাচন সম্পন্ন

স্পন্দন ডেস্ক :
যশোরসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের সংরতি মহিলা সদস্য পদের নির্বাচন সোমবার সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া যশোর সদর,চৌগাছা ও কেশবপুরে বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো বিস্তারিত খবর :
যশোর : সদর উপজেলা পরিষদের সংরতি আসনের বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিতরা হলেন, ১ আসনে শাহানাজ পারভীন, ২ আসনে শাহানারা খাতুন, ৩ আসনে সালেহা খাতুন ও ৪ আসনে রোকেয়া পারভীন ডলি।
ঝিকরগাছা (যশোর) : নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ গোটা এলাকায় ছিলো উৎসবের আমেজ। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পযন্ত ভোট গ্রহণের নিয়ম থাকলেও দুপুরের মধ্যই সকল ভোটার ভোট প্রদান করায় দুপুরের পরে প্রিজাইডিং অফিসার মনিরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজমুল হক, সহকারী কমিশনার (ভুমি) শাম্মী ইসলামসহ কর্মকর্তারা ভোট গণণা শেষে ফলাফল প্রকাশ করেন। ৩৬ ভোটের মধ্যে পৌর মহিলা কাউন্সিলর নাছিমা বেগম ২৪ ভোট পেয়ে সংরক্ষিত আসন-২ এ নির্বাচিত হন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ঝর্ণা বেগম পায়েছেন ৯ ভোট। এরআগে বিনাপ্রতিদ্বন্দি¦তায় নির্বাচিত হন সংরক্ষিত আসন-১ এ চায়না বেগম, সংরক্ষিত-৩ এ আয়শা খাতুন ও সংরক্ষিত -৪ এ শামিমা পারভিন। এদিকে নির্বাচিত উপজেলা সংরক্ষিত মহিলা সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন যশোর-২ এর সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চৌধুরী রমজান শরিফ বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহমুদ। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ নির্বাচিতদের দীর্ঘায়ু ও সু-স্বাস্থ্য কামনা করেছেন।
চৌগাছা (যশোর) : চৌগাছার বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিতরা হলেন ১ আসনে শেফালী খাতুন, ২আসনে সালমা আক্তার, ৩ আসনে শায়লা জেসমিন ও ৪ আসনে শাকিলা আক্তার।
কেশবপুর(যশোর) : কেশবপুর উপজেলায় বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিতরা হলেন, ১ আসনে কল্পনা দেবনাথ, ২আসনে শরিফা খাতুন ও ৩ আসনে মমতাজ খাতুন ।
অভয়নগর (যশোর) : অভয়নগরে সংরক্ষিত ১- আসানে রাফেজা বেগম, সংরক্ষিত -২ আসনে জাহানারা বেগম ও সংরক্ষিত -৩ আসনে রেহেনা বেগম জয়লাভ করেন। তিনটি আসনের বিপরিতে ৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অভয়নগর উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে সকাল ১০ টা থেকে ভোট গ্রহন শুরু হয়ে চলে দুপুর ২ টা পর্যন্ত। উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের ২৪ জন এবং নওয়াপাড়া পৌর সভার ৩ জন নির্বাচিত মহিলা সদস্য মোট ২৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রেমবাগ, সুন্দলী ও চলিশিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত ১ আসনে রাফেজা বেগম ৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। পায়রা, নওয়াপাড়া পৌর সভা, শ্রীধরপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত ২ আসনে জয়লাভ করে জাহানারা বেগম ১৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন । বাঘুটিয়া, শুভরাড়া ও সিদ্ধিপাশা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত ৩ আসনে জয়লাভ করে রেহেনা বেগম ১৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান তাদেরকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
বাঘারপাড়া ঃ উপজেলা পরিষদ লিনায়তনে ৩০ জন ভোটারের ২৪ জন ভোট প্রদান করেন। তিন আসনের একটিতে জয় পেয়েছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। অপর দুইটিতে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১ নম্বর আসনে প্রার্থী ছিলেন দুই জন। ১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন অনিমা বিশ্বাস। তিনি বন্দবীলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। অপর প্রার্থী রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হোসনেয়ারা বেগম পেয়েছেন ৫ ভোট। এ আসনে ভোট পড়েছে ২৪ টি। বাতিল হয়েছে ৬ টি। ৩ নম্বর আসনে দরাজহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য লাকি বেগম ১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অপর প্রার্থী নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রেক্্রনা বেগম কোন ভোট পাননি। এ আসনেও ২৪ জন ভোটার ভোট প্রদান করেন। বাকি ৬ টি ভোট বাতিল হয়। ২ নম্বর এলাকায় জামদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মীরা পাঠক ও শারমিন আক্তার প্রার্থী হন। প্রতিকুল অবস্থার কারণে শারমিন আক্তার প্রর্থিতা প্রত্যাহার করেন। প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিপংকর দাস।
মনিরাপুর(যশোর): মনিরামপুরে নির্বাচনে ১ আসনে নুরুন্নাহার ছিদ্দিকী ২৯ ভোট, ২আসনে হাসিনা বানু ২৯ ভোট, ৩আসনে আবেদা খাতুন ৩০ ভোট, ৪আসনে শাহিদা খাতুন ২৭ ভোট ও ৫আসনে ডলি বেগম ৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) ঃ নির্বাচনে ৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ও ১টিতে জামায়াত ইসলাম সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন বলে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানাগেছে।
উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনে ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সবেদা বেগম ১৯ ভোট, ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত শাহানাজ পারভীন ২৪ ভোট, ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত পারভিনা খাতুন ২০ ভোট ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী খাদিজা বেগম ১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। মহেশপুর উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনে ৩৯ জন নারী ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রদান করেন। নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ছিলেন সমাজসেবা কর্মকর্তা জুলফিক্কার আলী।
কয়রা (খুলনা) ঃ নির্বাচনে ১ নম্বর আসনে ৩ জন প্রার্থী এবং ২ নম্বর আসনে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে ১ নম্বর আসন থেকে হাসিনা পারভীন ৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে ২ নম্বর আসন থেকে ১২ ভোট পেয়ে সাকিনা কবির নির্বাচিত হয়েছেন। রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার আকবার হোসেন।
ডুমুরিয়া (খুলনা) : শহীদ জোবায়েদ আলী মিলনায়তনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। উপজেলার সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদের ১ নম্বর আসনের প্রার্থী টোলনা গ্রামের হাসনা হেনা, ২ নম্বর আসনের প্রার্থী মেছাঘোনা গ্রামের আলেয়া বেগম, ৩ নম্বর আসনের প্রার্থী মাদারতলা গ্রামের রীতিকা মন্ডল, ৪ নম্বর আসনের প্রার্থী জাবড়া গ্রামের স্বপ্না গাইন ও ৫নম্বর আসনের প্রার্থী লতা গ্রামের কবিতা রাণী বিশ্বাস জয়লাভ করেন। মাত্র ৪২ ভোটের এই নির্বাচনে ১১জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। একজন ভোটার অনুপস্থিত ছিল। নির্বাচনী সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার অপুর্ব বিশ্বাস, প্রিজাইডিং অফিসার ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেখ ফিরোজ আহমেদ ও সহকারী প্রিজাইডিং ছিলেন প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন। নির্বাচন সার্বিকভাবে পর্যবেক্ষন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সামছু দ্দৌজা।

মাগুরা : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের সংরতি মহিলা সদস্য পদে ১ নম্বর ওয়ার্ডে গয়েশপুর ইউনিয়নের মহিলা সদস্য রাজিয়া সুলতানা ১৩ ভোট পেয়ে পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মমতা সমাদ্দার পেয়েছেন ৮ ভোট। ২ নম্বর ওয়ার্ডে শ্রীকোল ইউনিয়নের মহিলা সদস্য কুলসুম খাতুন ১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আসমানী পেয়েছেন ১১ ভোট। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সব্দালপুর ইউনিয়নের মহিলা সদস্য রাবিয়া খাতুন ১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহানাজ বেগম পেয়েছেন ৫ ভোট। নির্বাচনে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ২৪ জন সংরতি মহিলা ইউপি সদস্যগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আক্তার হোসেন প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন।
শালিখা(মাগুরা) : উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যলয়ে সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে এক টানা দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন চলে। মোট ভোটার সংখ্যা ২১টি। দুই পদে ৪ জন প্রার্থী পতিন্দ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ১ নম্বর আসনে নার্গিস আক্তার মরগ প্রতীক নিয়ে ১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। দুই নম্বর আসনে আমেনা খাতুন হরিণ প্রতীক নিয়ে ১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রিজাইডিং অফিসার হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ফরিদ আহম্মেদ।
পাইকগাছা (খুলনা) : পাইকগাছার ৪টি আসনের বিপরীতে বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন, হরিঢালী, কপিলমুনি, লতা ১ নম্বর আসনে ফজিলাতুন্নেছা (বালতি), পৌরসভা, গদাইপুর ও রাড়–লী, ২ নম্বর আসনে নাছিমা ইউনুছ (মোরগ), লস্কর, চাঁদখালী ৩ নম্বর আসনে জয়ন্তী রাণী সরকার (মোরগ) এবং দেলুটি, সোলাদানা, গড়ইখালী ৪ নম্বর আসনে ইতিকা চক্রবর্তী (মোরগ)।