মনিরামপুর চিকিৎকের বাড়াবাড়ি: স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে এসে সাংবাদিক হয়রানির শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর :
মনিরামপুর  স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে এসে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে প্রায় ১ ঘন্টা আটক থাকতে হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ নজরুল ইসলামের স্ত্রী ডাক্তার শাহিদা সুলতানা জামান মতা দেখিয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ ঘটনায় মণিরামপুরের সাংবাদিক মহলকে হতাশ এবং ুব্ধ করে তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম সোমবার সকাল ১১ টার দিকে স্ত্রী ফরিদাকে নিয়ে মণিরামপুর হাসপাতালের গাইনী চিকিৎসক বেরেকা সুলতানাকে দেখাতে আনেন। কিন্তু তিনি না থাকায় এ সময় জাহাঙ্গীর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ডা. শাহিদা সুলতানা জামানের পে প্রবেশ করেন। কোন কিছু বলার আগেই শাহিদা সুলতানা জাহাঙ্গীরকে বলেন, দরজার বাইরে গিয়ে অপো করেন। অনুমতি ছাড়া কে কেন প্রবেশ করেছেন এমন প্রশ্ন করেই চটে যান তিনি। এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর কথা বলতে চাইলে তিনি মোবাইল ফোনে মণিরামপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুজ্জামানকে অবহিত করেন ডাক্তার শাহিদা জামান। তার এ ফোনালাপের পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুজ্জামান মণিরামপুর থানার উপ-পরিদর্শক শাহাজানকে সঙ্গে নিয়েই হাসপাতালে পৌঁছান এবং সাংবাদিক জাহাঙ্গীরকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রায় ১ ঘন্টা বসিয়ে রাখা হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সাংবাদিকরা খোঁজ খবর নেয়ার এক পর্যায় জাহাঙ্গীরকে ছেড়ে দেয়া হয়। সাংবাদিক জাহাঙ্গীরের সাথে ডাক্তার শাহিদা সুলতানা জামান এবং সহকারী কমিশনার ভূমি কামরুজ্জামানের এহেন আচরণের বিষয়ে জানাতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনায় কেবল জাহাঙ্গীরকে অপমান করা হয়নি, আমি একজন ওই দপ্তরের কর্মকর্তা হওয়ায় আমাকেও অসম্মানিত করা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য আমিও সুষ্ঠু বিচারের দাবি করি। সাংবাদিক জাহাঙ্গীরকে আটকের কারণ জানতে চাইলে সহকারী (ভূমি) কামরুজ্জামান কোন উত্তর না দিয়ে তিনি তার দপ্তরে চা খাওয়ার দাওয়াত জানান। এদিকে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক ােভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রেসকাবের সভাপতি মজনুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন দুষ্টু ঢাকাতে অবস্থান করায় এ ঘটনার তাৎনিক কোন পদপে গ্রহণ করা হয়নি। তবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে উপজেলা প্রশাসন যে ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছে তা কোন সাংবাদিক মেনে নেবে না। আজ মঙ্গলবার থেকে এঘটনার প্রতিবাদ হিসেবে মণিরামপুর প্রেসকাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে। মণিরামপুর প্রেসকাবের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক নূরুল হক ােভ প্রকাশ করে বলেন, কোন কারণ ছাড়াই একজন সাংবাদিকের সাথে এমন আচরণ সহ্য করা হবে না।
সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম মণিরামপুর প্রেসকাবের সদস্য এবং জাতীয় দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের স্থানীয় প্রতিনিধি।