যশোরের বাহাদুরপুরের রবিউল হত্যায় আটক হয়নি ৪ আসামির একজনও

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোরে দিন মজুর রবিউল ইসলাম (৫৫) হত্যা মামলার কোন আসামিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। একজন মাত্র আসামিকে আটক করা হয়েছে তাও সে সন্দিগ্ধ। তার বিরুদ্ধে পুলিশ আদালতে রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে। ফলে রবিউল হত্যা রহস্য অন্তরালেই থেকে যাচ্ছে।
পুলিশ বলছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা পলাতক সে কারণে তাদের আটক করা যাচ্ছে না। আর হত্যার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বলা হচ্ছে তদন্তের স্বার্থে কিছু বলা যাবে না।
কোতয়ালি থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রবিউল উপশহর খাজুরা বাসস্ট্যান্ডে দিন হাজিরার কাজ করতেন। এছাড়া গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার বাহাদুরপুর পশ্চিমপাড়ায় জমি বরগা নিয়ে বিভিন্ন ফসলাদি উৎপাদন করে থাকেন। তিনি বাড়ির পাশের জমি বরগা নিয়ে পাট রোপন করেন। ঘটনার দিন অর্থাৎ ৩ মে তিনি ওই জমিতে নিড়াণী দিচ্ছিলেন। এ সময় রবিউলের বাড়িতে যায় তার দুরসম্পর্কের ভাই একই এলাকার মৃত শাহ আলমের ছেলে আক্তারুল ইসলাম, হযরত আলীল ছেলে সুমন এবং আলতাফের দু ছেলে ফয়জুল ও টোকন। তারা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রবিউলকে খুঁজতে থাকে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাঠ থেকে রবিউল আসলে তাকে মারপিট করে। তার মাথা ফাটিয়ে দেয় আসামিরা। এরপর তারা সেখান থেকে চলে যায়। এ সময় নিহতের স্ত্রী রবিউলকে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করলে সাড়ে ৯টার দিকে রবিউল ইসলাম মারা যান।
এলাকার একটি সূত্র জানিয়েছে, আসামিরা মূলত মাদক ব্যবসায়ী। তারা আগের দিন দুটি কার্টনে করে ফেনসিডিল এনে তার বাড়ির পাশের একটি ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রাখে। পরদিন সেখানে গিয়ে কার্টুন দুটি দেখতে না পেয়ে তারা রবিউলকে সন্দেহ করে। রবিউল ও তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম সে সময় পাট ক্ষেতে কাজ করছিলেন। রবিউলের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা রবিউলের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে সে মারাত্মক জখম হলে আসামিরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয় হলে সকালেই রবিউল মারা যান।
এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই রুহুল আমিন ৪ জনের নাম উল্লেখ করে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।
দেড় মাস পার হলেও এই মামলার এজাহারভুক্ত কোন আসামিকে আটক করতে পারেননি মামালার তদন্তকারী কর্তকর্তা এসআই বাবুল আক্তার। শুধু ইব্রাহিম নামে এক যুবকে আটক করেন সন্দেহ জনক হিসাবে। তাকে আটক করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তিনি। কিন্তু আদালত রিমান্ড শুনানি করেনি। কারণ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত একজন আসামিও আটক হয়নি। ফলে শুধু সন্দিগ্ধ আসামিকে রিমান্ডে নেয়া যাবে না বলে আদালত জানিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআই বাবুুল আক্তার।
তিনি আরো বলেছেন, কি কারণে হত্যা -এ সম্পর্কে এখনই কিছু বলা যাবে না। তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছু গোপন করতে হচ্ছে। তবে পলাতক আসামিদের আটাকের ব্যাপারে অভিযান অব্যহত রয়েছে।