ধর্মনিরপেক্ষতার মূলমন্ত্রে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

স্পন্দন ডেস্ক:যুক্তরাজ্য সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গণতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতার মূলমন্ত্রে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ নির্মাণ করাই তার লক্ষ্য।
লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে স্থানীয় সময় সোমবার বিকালে অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের চেয়ারম্যান কিথ ভাজের দেওয়া এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের নিজের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রয়েছে, যে অধিকার সংবিধানেই সংরক্ষণ করা হয়েছে।
তিন বাঙালি রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক ও রূপা হকসহ যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নবনির্বাচিত অন্তত ৩০ জন সংসদ সদস্য এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অভ্যর্থনায় শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের আরও সহায়তার আশা প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশ সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে আমাদের আরও বেশি সমর্থন প্রয়োজন। কারণ যুক্তরাজ্য একটি বড় দেশ এবং তারা আমাদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। আমি আশা করব, তারা বাংলাদেশের জনগণকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।”
যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও কাজ করার আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যদের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “শ্রমিক, কৃষক এবং সাধারণ জনগণের উন্নতির জন্য আমাদের সরকার সবসময়ই কাজ করছে।”
কারখানায় শ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতেও বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে বলে শেখ হাসিনা জানান। বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
“বর্তমানে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৭ শতাংশ। আগামী সাড়ে তিনবছরে একে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে চাই এবং আমরা এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি।”
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নতুন এমপিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণও দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই করে যাচ্ছে।
“আমরা ওয়েস্টমিনস্টার ধরনের গণতন্ত্র অনুসরণের চেষ্টা করলেও কাজটি কঠিন। তারপরও আমরা ধীরে ধীরে উন্নতি করছি।”
যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনে নিজের ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকের বিজয়ী হওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “আমার মনে পড়ে, প্রথম যেদিন টিউলিপকে দেখেছিলাম, সেদিন সে ছিল ‘টিউলিপ’ ফুলের মতোই। এখন সে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যৃআমির তার জন্য গর্বিত এবং তার সাফল্য কামনা করি।”
লেবার পার্টি থেকে নির্বাচিত টিউলিপ এ সময় জানান, তিনি তার খালার (শেখ হাসিনা) কাছ থেকে রাজনীতির অনেক কিছু শিখেছেন এবং নির্বাচনে বিজয়ী হতে সেসব তাকে সহায়তা করেছে।
অভ্যর্থনায় বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি বিসয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
জয় তার বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। এখন গ্রামগঞ্জেও ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ভিশনের জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে।”
শুভেচ্ছা বক্তব্যে কিথ ভাজ বাংলাদেশকে শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী অন্যদের জন্য যে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন, সেজন্য তিনি অবশ্যই একজন গর্বিত নারী।”
কনজারভেটিভ পার্টির এমপি অ্যান মেইনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
এর আগে শেখ হাসিনা ব্রিটিশ পার্লামেন্ট পরিদর্শনে গেলে তাকে স্বাগত জানান হাউস অফ কমন্সের স্পিকার জন বারকাউ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।
রায়ের পর জামায়াতের
হরতালের বার্তা
বিডিনিউজ
বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে সর্বোচ্চ আদালতে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে হরতাল ডেকেছে একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার আপিল বিভাগের রায়ের পর দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদের নামে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে এই হরতালের বার্তা দেওয়া হয়। জামায়াতের ওয়েবসাইটেও ওই বিবৃতি দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়, “আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে হত্যার সরকারি ষড়ন্ত্রের প্রতিবাদে, তিনিসহ আটক জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও নেতা-কর্মীর মুক্তির দাবিতে ১৭ জুন বুধবার সকাল ৬টা থেকে ১৮ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করছি।”
এর আগে আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি হওয়া তিনটি যুদ্ধাপরাধ মামলার চূড়ান্ত রায়ের পরও হরতাল ডাকে জামায়াত। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতাদের রায়ের পরও একই কর্মসূচি দেয়, দলটি, যাতে সারা দেশে ব্যাপক নাশকতা চালায় জামায়াত-শিবির কর্মীরা।
মকবুল আহমাদের নামে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়,“সরকার জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে বিচারের নামে প্রহসনের আয়োজন করে।”