রমজানে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে যশোর পুলিশ সুপারের সাথে ৩০ সংগঠনের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যশোরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন জেলা পুলিশ প্রশাসন। বুধবার বেলা ১২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বলা হয়েছে, ঈদের সময় শহরে বাড়তি চাপ থাকে। এ কারণে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আর শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বিশেষ করে দড়াটানা থেকে মুজিব সড়কের আইনজীবী সমিতির কার্যালয় পর্যন্ত, দড়াটানা থেকে চিত্রা মোড় ওয়ানওয়ে রুট হিসাবে ব্যবহার হবে। প্রয়োজনে আরো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহন চলাচলে বিধি নিষেধ আরোপ করা হতে পারে। এ ছাড়া প্রথম রমজান থেকে বিভিন্ন বিপণী বিতান বা মার্কেটের সামনে পুলিশ প্রহরা থাকবে।
সভায় বলা হয়েছে, রোজার মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য যাতে না বৃদ্ধি পায় সে জন্য ব্যবসায়ী মহলকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। মানুষ যাতে স্বাচ্ছন্দে কেনাকাটা করতে পারে সে জন্য ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চান পুলিশ সুপার।
এ ছাড়া ঈদে সাধারণ মানুষ যাতে যানবাহনে স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পারে সে জন্য পরিবহণ মালিক শ্রমিকদের সহযোগিতার অহবান জানান তিনি। বিশেষ করে ঘরে ফেরা মানুষ যখন কর্মস্থলে ফেরেন তখন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়। মানুষ দুর্ভোগে পড়ে এমন কর্মকান্ড যাতে শ্রমিকরা না করতে পারে সে জন্য শ্রমিক নেতাদের সর্তক থাকার আহবান জানানো হয়।
সভায় পরিবহণ সংস্থা শ্রমিক সমিতির সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক মোর্ত্তজা হোসেন বলেন, ঈদের সময় পরিবহণ গুলোতে ডাকাতি বেড়ে যায়। সে কারণে ডাকাতি রোধে মহাসড়ক গুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করতে হবে। পুলিশকেই পরিবহণ শ্রমিকদের সহযোগিতা করতে হবে। ঢাকাগামী পরিবহণ গুলোতে ভিডিও করতে হবে। ক্যামেরাম্যানের সংখ্যা বাড়াতে হবে। একস্থানে ভিডিও করার ক্ষেত্রে যানজটের সৃষ্টি হয়। অতীতে এটা দেখা গেছে। ফলে এবার ক্যামেরাম্যানের সংখ্যা বাড়িয়ে রোজার শুরুতে প্রত্যেক পরিবহণের যাত্রীর ভিডিও করতে হবে। যাতে ডাকাতি বা অন্য কোন অপরাধের পর আসামি সনাক্ত করা যায়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক, সহকারি পুলিশ সুপার (সদর) মীর শাফিন, সহকারি পুলিশ সুপার ‘খ’ সার্কেল বিল্লাল হোসেন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ যশোরের ৩০টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।