আগ্নেয়াস্ত্র পুলিশের পোশাক হ্যান্ডকাপ মেটালডিটেক্টর উদ্ধার: যশোরে ‘ডাকাতের’ সঙ্গে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধ, আহত ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোর-মাগুরা সড়কের খাজুরায় ‘একদল ডাকাতের’ সঙ্গে পুলিশের গুলি বিনিময় হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এঘটনা ঘটে। এতে খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই মাসুদুর রহমান ও তিন কনস্টেবল এবং ডাকাতদলের ৫ সদস্য আহত হয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-১১-৯০-৬০), তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, ডিবি পুলিশের ২টি পোশাক, একটি হ্যান্ডকাপ,একটি ওয়াকিটকি, মেটাল ডিটেক্টরক ও কয়েকটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। আহত সবাই যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক বলেন, ডিবি পুলিশের ‘ছদ্মবেশ’ নিয়ে একদল ডাকাত সেহরির সময় একটি মাইক্রোবাসে করে যশোর-মাগুরা সড়কে বারবার যাওয়া-আসা করছিল। ওই সড়কে টহলে থাকা খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মাসুদুর রহমান ও তার সঙ্গীয় ফোর্স গাড়িটি থামান। এসময় গাড়ির ভেতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়। পুলিশও পাল্টা জবাব দেয়। এক পর্যায়ে ডাকাতদলের বেশকিছু সদস্য পালিয়ে যেতে সমর্থ হলেও ৫ জনকে আহত অবস্থায় আটক করে পুলিশ। তারা হলেন মুন্সীগঞ্জের মেদিনীম-ল গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে আব্দুল হাই (৪০), খুলনার ডালমিল এলাকার ফারুক ওরফে বাদশা (৪৫), সাভারের বাকুদা এলাকার আনিসুর রহমান (৪২), ঝালকাঠির উত্তর কাঁঠালিয়া গ্রামের হাসান আব্দুল্লাহ (২৪) এবং সিলেটের গোলাবক্স শিলঘাট গ্রামের রাজিব হোসেন(২৯)। তাদের পুলিশ প্রহরায় যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অভিযুক্ত ‘ডাকাত’ সদস্য ফারুক ওরফে বাদশা এ প্রতিবেদককে বলেন, তিনি একজন ফল ব্যবসায়ী। ঢাকার শাহবাগে তার দোকান আছে। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। ওই সময় খাজুরা এলাকায় পুলিশ তাকেসহ অন্যদের আটক করে খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পে রাখে। রাতে তার হাত-পা ও চোখ বেঁধে পায়ে গুলি করা হয়। ফারুক অন্য আহত ও কথিত ডাকাতদের কাউকেই চেনেন না বলে জানান।
এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই মাসুদুর রহমান, একই ক্যাম্পের কনস্টেবল তুহিন খান, কনস্টেবল দীপু ও কনস্টেবল আকিমুল ইসলাম।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুর রশিদ জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে এসআই ফকির পান্নু আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে হাসপাতালে যান জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাঘারপাড়া থানার এসআই ফকির পান্নু মিয়া জানান, আহত ডাকাত সদস্যদের আটক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র একটি চাপাতি, একটি চাকু একটি রামদাসহঅন্য জিনিসপত্র বাঘারপাড়া থানায় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আলাদা তিনিটি মামলা করেছেন এএসআই মাসুদুর রহমান।
এ দিকে হাসপাতালে গুলিবিদ্ধরা জানান, তারা সুন্দরবন বেড়িয়ে মাইক্রোবাস যোগে ঢাকায় ফিরে যাচ্ছিল। বৃস্পতিবার সকালে খাজুরা পুলিশ ফাঁড়ির কাছে পৌছালে পুলিশ তাদের গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে তাদেরকে ধরে সারাদিন আটকে রাখে। রাতে তাদেরকে নিয়ে গুলি চালায়।
গুলিবিদ্ধ মাইক্রোবাস চালক আব্দুল হাই জানিয়েছেন, তিনি ঢাকার সাভারে গাড়ি চালান। ৩/৪ দিন আগে শামীম নামে একজন তাকে প্রতিদিন গাড়ি ভাড়া বাবদ ৩ হাজার টাকা এবং অতিরিক্ত আরো ৫শ’ টাকা দিয়ে ভাড়া করে আনে। খুলনার ৩/৪ দিন ঘোরাঘুরি করার পর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তারা যশোর হয়ে ঢাকা যাচ্ছিলেন। পথে খাজুরায় পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের আটক করে। এ সময় শামীমসহ ৩ জন পুলিশের কাছে মোবাইল ফোন দিয়ে পালিয়ে যায়