বাঁকড়ার আলোচিত মানবপাচারকারী বাকী অসংখ্য প্রতারণার নায়ক

এম আলমগীর, বাঁকড়া (ঝিকরগাছা):
দেশব্যাপি মানবপাচার নিয়ে তোড়পাড় হওয়ায় ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া এলাকার মানবপাচারকারী চক্ররা প্রশাসনিক চাপে থাকলেও ক্রমন্বয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশাসনকে উৎকোচ দিয়ে বহাল তবিয়তে আছে। বাঁকড়ার আলোচিত কয়েকজন মানবপাচারকারী কয়েক বছর ধরে মানবপাচার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গড়ে তুলেছে আলিশান বাড়ি, গাড়িসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
জানা যায়, উপজেলার বাঁকড়া এলাকার সবচেয়ে আলোচিত মানবপাচারকারী নাম আব্দুল্লাহ আল বাকী। সে দক্ষিণ বাঁকড়া গ্রামের দীন আলীর পুত্র। গত দেড়যুগ ধরে বাকী বাঁকড়া এলাকায় একক আধিপাত্য বিস্তার করে শতশত মানুষকে অবৈধ পথে মালেশিয়ায় পাঠিয়েছে। টাকা নিয়েছে গলা কেটে। তার টাকা পরিশোধ করার জন্য অনেক পরিবার জমি-জায়গা বেঁচে নিঃস্ব হয়েছে। খোজ নিয়ে জানা যায়, সে গরীব বেকার যুবকদের নিকট থেকে পাসপোর্ট নিয়ে প্রোফেশনাল ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা অথবা টুরেস্ট ভিসার মাধ্যমে মালেশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে কিন্তু পরে দেখা যায় তাদের কোন ভিসা হয় না বা তাদের ইন্দোনেশিয়ার ভিসা করা হয়। ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার আগে কোন পাটিকে জানানো হয়না কোন দেশের ভিসা হয়েছে। তাদের জানানো হয় মালেশিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা করা হয়েছে। কিন্তু পরে দেখা যায় তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ইন্দোনেশিয়ায়। সেখানে রাখা হয় বাগানের ভেতর। খেতে দেওয়া হয় একশ গ্রাম আতব চাউলের ভাত। তরকারীতে কোন মসলা দেওয়া হয় না। অধিকাংশ সময় থাকতে হয় অনাহারে অর্ধাহারে। কেউ কোন বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তার উপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। ইন্দোনেশিয়ায় তারা জানতে পারে না তাদের কোন দিন নিয়ে যাওয়া হবে। এভাবে রাখা হয় পনের দিন, এক মাস বা দেড় মাসেরও অধিক সময়। এসময় অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের পরিবার থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না। পরে তাদের জীবনের ঝুকি নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে নদী পথে মালেশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। এভাবে যেতে যেয়ে অনেকে গুলি বিদ্ধ হয়েছে। পরে কোনভাবে তাদের রিসিভ ঘরে নিয়ে যেয়ে পরিবারের নিকট থেকে নেয়া হয় প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ থেকে চার লক্ষ টাকা। এই টাকা দিতে অনেক পরিবারকে হতে হয় সর্বশান্ত। জমি-জায়গা বিক্রয় করে টাকা না দেয়া পর্যন্ত রিসিভ ঘর থেকে তাদের ছাড়া হয় না। অন্যদিকে বাকীর বিভিন্ন গ্রামে এজেন্ট নিয়োগ করা আছে। তারা গ্রাম অঞ্চল থেকে সহজ-সরল মানুষের বিভিন্নভাবে উদ্বুদ্ধ করে মালেশিয়ায় নিয়ে যায়। প্রথমে অল্প টাকার কথা বললেও পরে তাদের নিকট থেকে বেশী টাকা আদায় করা হয়। এভাবে বাকী ও তার এজেন্টদের প্রতারনার শিকার হয়েছে উপজেলার রায়পটন গ্রামের লিয়াকত আলীর পুত্র ইমরান হোসেন, বিষ্ণপুর গ্রামের মৃত মোতালেব আলীর পুত্র লিটন হোসেন, দিঘড়ী গ্রামের মুংলা মিয়ার পুত্র হোসেন আলী, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মৃত নূর মোহাম্মদের পুত্র শহিদুজ্জামান সহ এলাকার শতশত মানুষ।
এদিকে মানবপাচারকারী আব্দুল্লাহ আল বাকী মানবপাচার করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। সন্ধান নিয়ে দেখা গেছে, বাঁকড়া বাজারের মাছ বাজারের পাশে চারতলা বিশিষ্ট একটি বাড়ীর কাজ চলছে এবং বাঁকড়া স্কুল রোডের পাশে তিনতলা বিশিষ্ট একটি বাড়ী ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে। টাইলস দেয়া এই বাড়ীটি প্রতিটি পথচারী নজর কাড়ে। কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে এইসব বিল্ডিং তৈরী করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছে। মানবপাচার নিয়ে সরকার দেশব্যাপি মানবপাচারকারীদের তালিকা প্রনয়ন করছে। ঠিক সেই সময় প্রশাসনকে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে বহাল তবিয়দে রয়েছে মানবপাচারকারী আব্দুল্লাহ আল বাকী বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।