যশোরে প্রাথমিক শিক্ষকদের উন্নীত স্কেলে বেতনভাতা করানোর নামে চাদাবাজি

বিল্লাল হোসেন:
যশোরে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭০ জন শিক্ষকের উন্নীত স্কেলে বেতনভাতা করানোর নামে শিক্ষকদের একটি চক্র কৌশলে মোটাঅংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এবার তাদের কাছে টাইম স্কেল করা বাবদ প্রতিজনের কাছে ওই চক্র আরো ২শ’ টাকা দাবি করেছে। এভাবে টাকা আদায়ের ঘটনায় শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, সদর উপজেলার দেয়াড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান, রামনগর খাঁপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুলতান আহমেদ ও চৌঘাটা ভাগবতীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম এ অনিয়মের সাথে জড়িত।
সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষকদের আপগ্রেডে বেতন প্রদানের ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর সদর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭০ জন সহকারী শিক্ষকের চাকরির বয়স ৮ থেকে ১২ বছর না হওয়ায় টাইম স্কেলপ্রাপ্ত হয়নি। বিধায় ৪ হাজার ৯শ’ টাকার স্কেলের পরিবর্তে ৫ হাজার ২শ’ টাকা স্কেলে বেতন নির্ধারণ করার বিধান রয়েছে। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ওই ১শ’ ৭০ জন শিক্ষকের উন্নীত স্কেলে (আপগ্রেড) বেতনভাতা করে দেয়ার নামে শিক্ষক আতিকুর রহমান, সুলতান আহমেদ ও জাহাঙ্গীর আলম প্রতিজনের কাছ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা করে মোট ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সূত্র আরো জানায়, গত এপ্রিল মাসে সদর উপজেলার ২শ’ জন সহকারী শিক্ষকের জাতীয়করণকৃত টাইমস্কেল পাস হয়েছে। কয়েকদিন পরেই এসব শিক্ষকের টাইমস্কেলের যাবতীয় কাগজপত্র জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন হলেই নতুন স্কেলের বেতন নির্ধারিত হবে। ফাইল অনুমোদনের নামে উল্লিখিত ৩ জন শিক্ষক টাইম স্কেলপ্রাপ্ত ২শ’ জনের কাছে ২শ’ করে টাকা দাবি করেছে বলে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন। টাকা না দিলে তাদের ফাইল অনুমোদনে দেরি হবে বলে ভয় দেখানো হচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে একজন রামনগর খাঁপাড়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুলতান আহমেদের সাথে মোবাইলফোনে কথা বললে তিনি জানান, শিক্ষকদের উন্নীত স্কেলে বেতনভাতা ও টাইমস্কেল ফাইল অনুমোদনের কাজে সহযোগিতা করছি। এজন্য অফিসিয়ালভাবে তো সামান্য খরচ থাকে। যে কারণে টাকা তো খরচ হবেই। কিছু সময় পর সুলতান আহমেদ ফোন করে জানান, আমার বিরুদ্ধে টাকা আদায় এবং টাকা দাবির মিথ্যা অভিযোগ রটানো হয়েছে। টাকা নিচ্ছে শিমুল হোসেন নামে একজন। তবে শিমুল হোসেনের বিস্তারিত পরিচয় তিনি বলেননি। আরেকজন দেয়াড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান, তার কাছে জানাতে চাইলে তিনি এ অভিযোগ সরাসরি মিথ্যা বলে দাবি করেন। এ ব্যাপারে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জামাল হোসেন জানিয়েছেন, আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি তার জানা নেই। বিষয়টি অবশ্যই খোঁজ নেয়া হবে। অভিযোগ সঠিক হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।