যশোরে রিকসাচালক সেজে দু’প্রতারককে আটক করলো পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রিকসাচালক সেজে দুই প্রতারককে আটক করেছে যশোর কোতয়ালি থানা পুলিশ । শনিবার দুপুরে শহরের খড়কী আপনের মোড় থেকে তাদের আটক করা হয় । এরা হলো শহরের খোলাডাঙ্গা এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে নজরুল ইসলাম এবং মণিরামপুরের চালুয়াহাটি এলাকার নুর ইসলামের ছেলে আজাহারুল ইসলাম।
কোতয়ালি থানার এএসআই ইসরাফিল হোসেন জানিয়েছেন, যশোরে প্রশাসন সম্প্রতি ব্যাটারী চালিত অটোরিকসা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যে কারণে কোন অটোরিকসা চলাচল করছে না। শুধু মাত্র ঈদকে সামনে রেখে প্রশাসন একটু শিথিল করেছে। যা শহরের বাইরে চলাচল করবে। যারা শহরে অটোরিকসা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতও জরিমানা করছে।
তিনি বলেছেন, এই সুযোগ নিয়ে একটি প্রতারক চক্র রিকসা চালকদের সাথে প্রতারণা করছে। চক্রটি প্রচার করছে- অটো রিকসা চালকদের জন্য প্রশাসন একটি ব্যবস্থা নিয়েছে। এর জন্য ১২শ’ টাকা আর তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে। তারা একটি টোকেন করে দেবেন। এই টোকেন দেখালে পুলিশ কাউকে আটক করবে না। নির্বিঘেœ অটো রিকসা চালানো যাবে। ইতোমধ্যে কয়েক জন রিকসা চালক প্রতারণার ফাঁদে পড়ে তাদের টাকা দিয়েছেন। সংবাদটি পুলিশের কাছে পৌছালে প্রতারক চক্রটিকে আটকে তৎপর হয়।
ইসরাফিল বলেন, শনিবার প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে মোবাইল ফোন করা হয়। তার কাছে রিকসা চালক সেজে বলা হয় তিনি দুশ’ টাকা কম দেবেন। কিন্তু প্রতারক চক্রটি বলে এক টাকা কম দিলেও হবে না। এরপর তিনি কোতয়ালি থানার একজন প্রবীণ কনস্টেবল হাবিববুর রহমান হাবিবকে রিকসা চালক সাজিয়ে তাদের কাছে পাঠান। আর তিনিসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা থাকেন বাইরে। খড়কি এলাকার আপনের মোড়ের একটি ঘর থেকে দুজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি টোকেন ও ছবি উদ্ধার করা হয়েছে। তারা পুলিশকে বলেছে, এই চক্রের সাথে মণিরামপুরের কয়েকজন জড়িত। এদের মধ্যে শামীম, কাশেম অন্যতম।
কোতয়ালি থানার ওসি সিকদার আককাছ আলী বলেছেন, ঈদকে সামনে রেখে প্রতারক চক্র মাঠে নেমেছে। তারা রিকসা চালকদের নানা বিধি নিষেধের সুযোগে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই ধরনের কোন প্রচার বা সংবাদ হলে তিনি সরাসরি জনসাধারণকে পুলিশের কাছে খবর দেয়ার অনুরোধ করেছেন।