যশোরে স্বামীর নির্যাতনের শিকার নারী নেত্রী সুরাইয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোর মহিলা পরিষদের সভানেত্রী সুরাইয়া শরীফকে নির্যাতনের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। সুরাইয়া শরীফের পক্ষে তার ভাই সামিউল্লা শরীফ লিটিল গত ১১ জুন যশোরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন। আগামী ২৭ জুন এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
আসামি ইলাহদাদ খান যশোর শহরের বেজপাড়া তালতলা এলাকার ছায়াবিথি রোডের মৃত আকবার আলী খানের ছেলে। তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির যশোর জেলার সাবেক সভাপতি।
এ মামলার অভিযোগে জানা গেছে, মামলার বাদী ও আসামি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করছেন। আসামি ইলাহদাদ খান প্রায় তার স্ত্রী ও বাদীর বোন সুরাইয়া শরীফকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। গত ২৫ মে সুরাইয়া শরীফকে মারপিট করে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তার চিৎকারে বাদী সামিউল্লা শরীফ বোনকে উদ্ধারে এগিয়ে আসলে আসামি তাকে মারপিট করতে উদ্যত হয়। এসময় তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামি চলে যায়। আসামি তাদের খুন-জখমের হুমকি দেয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যে কারণে নিরাপত্তা বিধানে আসামির কাছ থেকে মুচলেকা গ্রহণের আবেদন জানিয়ে গত ১১ জুন আদালতে এ মামলা করেন।
মামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ইলাহদাদ খান বলেন, পরিবারে ছোটখাটো ঝামেলা, ভুল বোঝাবুঝি হয়। এর সাথে বাইরের লোক ইনভলব হলেই সমস্যা। তিনি বলেন, সাংসারিক ছোটখাটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওরাই আমাকে হুমকি ধামকি দিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেছে। এমনকি আমার পার্টি প্রধানের (কমিউনিস্ট পার্টি) কাছে অভিযোগ করেছে। তারা যশোরে এসে সমঝোতা করে দিয়েছে। কিন্তু সুরাইয়া তা না মেনে এখনও অভিযোগ করে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সুরাইয়া ও আমি পাশাপাশি রুমেই থাকি। ও আমাকে না খাইয়ে রাখার জন্য রান্না করে না। ভাইয়ের বাড়ি থেকে খাবার আসলে ও খায়। আর আমাকে ছেলে বউ খাওয়ায় বলে জানান তিনি।
এদিকে সুরাইয়া শরীফ জানান, তার পিতার দেয়া জমি ও বাড়িটি লিখে নেবার জন্য তার ওপর নির্যাতন শুরু করেছে। অনেকদিন আগে থেকেই ইলাহদাদ খান চেষ্টা করছিলেন। এখন ছেলে বউ তার সাথে যোগ হয়েছে। তার নিজ বাড়ি থেকে জিনিসপত্র নিচে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। গত দুই মাস ধরে অপরিচ্ছন্ন একটি কক্ষে তিনি বসবাস করছেন। আর ভাইয়ের বাসায় খাচ্ছেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে বেশ কষ্টে আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

যশোরে স্বামীর যৌতুক
মামলায় স্ত্রীর কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে স্বামীর যৌতুক মামলায় স্ত্রী সাবানা খাতুনকে এক বছর কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দিয়ে একটি আদালত। সাবানা শার্শার সেতাই গ্রামের ইদু মোড়লের মেয়ে। রোবার এক রায়ে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রে আদালতের বিচারক শেখ মফিজুর রহমান এ সাজা দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০০৪ সালে ঝিকরগাছার মানিকালী গ্রামের ইব্রাহিম খলিল আসামি সাবানা খাতুনকে বিয়ে করে। ৭ বছরের মাথায় সাবানা প্রায় তার পিতার বাড়ি যেথে থাকত। বাড়িতে আনতে গেলে নানা অজুহাতে আসাতে চেতনা। এরমধ্যে সাবানা কাউকে কিছু না বলে অপরিচিত এক মহিলা ও পুরুষের সাথে ভারতে বেড়াতে চলে যায়। কিছুদিন পর ফিওে আসার পর তাকে বাড়িতে আনতে গেলে সে আসতে অস্বীকার করে। ২০১৪ সালের ২৫ জুন এক সালিশে সাবানা তার শ্বামীকে ঘরজামায় ও তার পিতার বাড়িতে একটি ঘর তৈরী করতে বলে। এতে ইব্রাহিম খলিল রাজি না হওয়ায় সাবানা তার সাথে সংসার করতে অস্বীকার করে। মীমংাসায় ব্যর্থ হয়ে ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে ১০ জুলাই যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন। এ মামলার রায়ে আসামি সাবানার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে এক বছর কারাদন্ড, এক হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারদন্ডের আদেশ দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত সাবানা খাতুন পলাতক রয়েছে।