যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চাকরি বিক্রির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

বিল্লাল হোসেন:
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বহিরাগত নারী পুরুষের কাছে চাকরি বিক্রির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল রোববার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ৩ সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, যারা এ তদন্ত কমিটিতে সম্পৃক্ত তাদের মধ্যে কারো কারো সুপারিশে একাধিক বহিরাগত চাকরি করছেন। ফলে নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, এ হাসপাতালের একটি প্রভাবশালী চক্র মোটাঅংকের টাকার বিনিময়ে বহিরাগতদের কাছে চাকরি বিক্রি করছেন। এ চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করছেন হাসপাতালের জমাদ্দার সরদার ইমরান হোসেন টপিসহ আরো কয়েকজন। এ অনিয়মের ব্যাপারে গত ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ জুন দৈনিক স্পন্দনে তথ্যভিত্তিক খবর প্রকাশিত হয়। এ ধরণের আর্থিক দুর্নীতি ফাঁস হওয়ায় হাসপাতালে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কতিপয় চিকিৎসক ও কর্মচারী এ অনিয়মের বিরুদ্ধে রীতিমতো সোচ্চার হয়ে ওঠেন। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরও দৃষ্টিগোচর হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। বহিরাগতদের কাছে চাকরি বিক্রির হোতাদের খুঁজে বের করতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ সাহার নির্দেশে গতকাল রোববার ৩ সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহবায়ক হলেন, হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোসলেম উদ্দিন। অন্য দুজন হলেন সদস্য সচিব আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আলমগীর কবির ও সদস্য ডা. শামসুল হাসান দোদুল। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ সাহা দৈনিক স্পন্দনকে জানিয়েছেন, ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে চাকরি বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, যাদেরকে এ তদন্ত কমিটির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এদের মধ্যে কোনো কর্মকর্তার সুপারিশে একাধিক বহিরাগত চাকরির সুযোগ পেয়েছেন। যে কারণে নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের একটি সূত্র। ওই সূত্রের দাবি নিজেদের অনিয়ম ফাঁস হওয়ার ভয়ে তদন্তে চাকরি বিক্রির হোতাদের পক্ষপাতিত্ব করা হতে পারে। তবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ সাহার কড়াকড়ি আরোপ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বাধ্য হবে এ তদন্ত কমিটির সদস্যরা।