সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্যরে কারণে ডুমুরিয়ায় গ্রামবাসীর ভোগান্তি

সুব্রত ফৌজদার, ডুমুরিয়া:
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৭টি ওয়ার্ডের নালা-নর্দমার সকল বর্জ্য এসে ডুমুরিয়া উপজেলার লতা-খামারবাটী এলাকার ‘খুদের খালে’ পড়ায় সেখানে পরিবেশের চরম বিপর্যয় ঘটেছে। ফলে ওই এলাকাবাসীকে সব সময় প্রচন্ড দুুর্গন্ধ সহ্য করতে হচ্ছে। তা ছাড়া মাছের মড়কসহ মানুষের রোগ-ব্যাধি লেগেই আছে।
ভূক্তভোগী এলাকাবাসী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ৩,৪,৫,৬,১২,১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যডাঙ্গা, কৃষি কলেজ, দৌলতপুর, পাবলা, গাইকুড়, আড়ংঘাটা, দেয়ানা, বয়রা, কার্তিককুল ও বাস্তহারা এলাকার সকল ড্রেন-নর্দমা বা খাল দিয়ে পঁচা পানিসহ বর্জ্য এসে পড়ে ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের লতা-খামারবাটি এলাকার খুদের খালে। আর দীর্ঘদিন ধরে ওই খালের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে পড়ার পাশাপাশি শহরের বিপুল পরিমান ময়লা-আবর্জনা জমে পানি পচে সেখানে মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তাছাড়া ওই পচা-বিষাক্ত পানি খালের আশ-পাশের চিংড়ি ঘের বা পুকুরে চুইয়ে ঢুকে মাছের মৃত্যু ঘটাচ্ছে। আর গ্রামের হাঁস মুরগি গরু ছাগলসহ অন্যান্য পশুপাখি এসে ওই খালের পানি খেয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি মারাও যাচ্ছে। সর্বপরি এলাকার মানুষের মধ্যে নানাবিধ রোগ-ব্যধি লেগেই আছে।
পরিবেশ বৈরি এ অবস্থা সম্পর্কে জানতে গত রবিবার সরেজমিনে লতা-খামারবাটী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনে খুদের খালে কালভার্টের ওপর গেলেই বাতাসে প্রচন্ড দুর্গন্ধ বের হয়। সেখানে আগে থেকেই সমবেত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর মধ্যে প্রভাষক সুকুমার মন্ডল বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৭টি ওয়ার্ডের সমস্ত ময়লা-আবর্জনা আমাদের এই খালে এসে পড়ায় পানি সম্পূর্ণ পচে আলকাতরার রঙ ধারণ করেছে। আর কী দুর্গন্ধ তা তো বুঝতেই পারছেন। শিক্ষক শংকর মন্ডল বলেন, শহরবাসীর বর্জ্যের যন্ত্রণা বা পঁচা গন্ধের মধ্যে আজ আমাদের বসবাস করতে বাধ্য করা হচ্ছে। চিংড়িঘের ব্যবসায়ী অমল মন্ডল বলেন, খালের ওই পচা পানি যখন ঘেরে ঢুকে যায় তখনই মাছ ভেসে উঠে মরে যায়। এলাকার প্রবীণ শিক্ষক রবীন্দ্র নাথ সরকার বলেন, শহরের পাশে বড় নদী থাকতে কেনো আমাদের এই খালে তাদের বর্জ্য ঠেলে দিচ্ছে। শহরের আধুনিক জীবন-যাপনকারীদের বিত্তের বোঝা আমাদের কেনো বইতে হবে ? লতা-খামারবাটী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার মল্লিক বলেন, খালে আলকাতরার মতো দেখতে পচা পানির দুর্গন্ধে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কাস করা দায় হয়ে পড়েছে। গ্রাম্য চিকিৎসক চৈতন্য মন্ডল বলেন, খালের পচা পানির প্রভাবে আমাদের গ্রামে ডায়রিয়া-আমাশয়সহ চর্মরোগ তো লেগেই আছে। কৃষক প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, শহরের বর্জ্যরে কারণে শুধু গন্ধই হচ্ছে না, বরং খালটাও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে তা খনন করা জরুরি। সমাজসেবী সুকৃতি মন্ডল বলেন, দুই ঘন্টা বর্ষা হলেই এ এলাকা তলিয়ে যায়। শহরের বর্জের কারণে খাল দিয়ে আর পানি সরে না। ফলে আমাদের গ্রামটি বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। গুটুদিয়া ইউনিয়নের ওই ওয়ার্ডের মেম্বর নিহার রঞ্জন বলেন, সিটি কর্পোরেশন যদি রায়েরমহল-দেয়ানা ব্রীজ থেকে বয়রা শ্মশান পর্যন্ত একটা সংযোগ খাল খনন করে তা হলে শহরের বর্জ্য নদীতে পড়বে। তখন আমরা বেঁচে যাবো।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামছু দ্দৌজা বলেন, শহরের বর্জ্যরে কারণে ওই এলাকার সমস্যার কথা আগামী মাসে উন্নয়ন কমিটির সভায় তুলবো। উপজেলা চেয়ারম্যান খান আলী মুনসুর বলেন, সিটি কর্পোরেশনের উচিৎ, তাদের বর্জ্য ফেলার জন্য অবিলম্বে একটা বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করা। যাতে আমার এলাকার মানুষের ক্ষতি না হয়।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার কবির হোসেন বলেন, আমাদের সিটি কর্পোরেশন থেকে বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য আড়ংঘাটা থেকে খুদের খাল হয়ে ময়ুর নদীর সঙ্গে একটা সংযোগ খাল খননের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। দ্রুত টেন্ডার হবে।
সিটি মেয়র মো. মনিরুজ্জামান মনি বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজের মাস্টার প্লান অনুসারে কাজ চলছে। আর ওই এলাকার বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য নতুন একটা ড্রেনও তৈরির উদ্যোগ নেয়া হবে।