প্রসঙ্গ : মানহীন পণ্য

আইনী দুর্বলতায় অনেক সময় আমদানি হচ্ছে মানহীন পণ্য। বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মান সনদ যাচাইসহ যাবতীয় কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। তবে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ঠিক উল্টো। আমদানির ক্ষেত্রে সব নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না। আইনি দুর্বলতার কারণে মানহীন বিভিন্ন ধরণের পন্য দেশে আসছে। বাজারে তা বিক্রিও হচ্ছে দেদার। এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন মঙ্গলবারের বণিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানিনীতি আদেশে তালিকাভুক্ত না হওয়ায় পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) এ বিষয়ে নজর দিচ্ছে না। তবে জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে এসব পণ্যের মান ও গুণাগুণ যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালকের বক্তব্য হলো, আইনগত বাধ্যবাধকতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে আমদানিকৃত সব পন্যের মান যাচাই করা সম্ভব হয় ন্ াআমদানি নীতি আদেশ অনুসারে এসব পণ্য বিএসটিআইয়ের তালিকাভুক্ত হলে মান যাচাই করে ছাত্রপত্র দেয়া যাবে। খবরে আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই বিদেশ থেকে বহু খাদ্যপণ্য বিনা বাধায় দেশে আসছে। আমদানি নীতি আদেশ ২০১২-১৪৫ অনুযায়ী আমদানিকৃত ৪৩টি পণ্যের ক্ষেত্রে বিএসটিআই থেকে ছাড়পত্র নেয়ার পর পণ্য খাাসের অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু তালিকা বহির্ভুত অসংখ্য খাদ্যপণ্য ছাড়াও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ অনেক পণ্যই দেশে আসছে, যা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ ব্রেড-বিস্কুট ও কনফেকশনারী প্রস্তুত কারক সমিতির সাবেক সভাপতি ও এফবিসিবিআইয়েল সাবেক পরিচালকের এ প্রসঙ্গে বক্তব্য হলো, আমদানিকৃত পণ্য দেশে আসার পর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিকল্প নেই। ভেজালমুক্ত পন্য সেবা সবার অধিকার। বিদেশ থেকে খাদ্য দ্রব্য ও মানবদেহে ব্যবহৃত কোনো পণ্য যাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বাজারে ঢুকতে না পারে, সে জন্য আইন সংশোধন করা জরুরি। একই মত প্রকাশ করেন শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহারিচালক। তার বক্তব্য হলো, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত খাদ্যপণ্যের রেডিয়েশন ও মান পরীক্ষা জরুরি। নিরাপদ খাদ্যপণ্য আমদানি, সরবরাহ ও বিপণনে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এক্ষেত্রে আমদানিকারকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। নিম্নমানের খাদ্য পণ্য আমদানি করা হলে বিশ্বের অনেক দেশেই কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য হলো, পন্য রফতানির ক্ষেত্রে দেশীয় মান সংস্থার অনুমোদন ছাড়াও আন্তর্জাতিক মান সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ সব পণ্যের ক্ষতিকর পদার্থ রয়েছে কিনা, তা আনবিক শক্তি কমিশন থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরণের নিয়ম অনুসরণ করে তা উৎপাদন ও রফতানি করার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। শুধু এখানেই শেষ নয়, পণ্যের চালনে সংশ্লিষ্ট দেশে পৌঁছার পর তা বিভিন্ন সংস্থায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এরপর সনদ গ্রহণের পরই কেবল তা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে পণ্য আমদানিতে এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না। আবার অনেক সময় তা নাম সর্বস্ব সনদ গ্রহণের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতির বক্তব্য হলো, আমদানিকৃত খাদ্যপণ্য অবশ্যই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তা খালাসের ছাড়পত্র দেয়া উচিত। এক্ষেত্রে দেশের স্বার্থে আমদানিকারকদের বিরাট ভূমিকা নিতে হবে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো খাদ্যপণ্য যাতে দেশের বাজারে ঢুকতে না পারে, সে জন্য তাদের সজাগ থাকতে হবে। তাই আমাদের প্রত্যাশা থাকবে আইনী দুর্বলতার কারণে যেন কেউ মানহীন পণ্য আমদানি করতে না পারে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।