আগুনে পুড়িয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস হত্যা মামলা: চিকিৎসক ও পুলিশ স্বাক্ষ্য না দেয়ায় বিচার ঝুলে আছে সাড়ে ১০ বছর

মুর্শিদুল আজিম হিরু:
যশোরে আগুনে পুড়িয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস হত্যার মামলার বিচার শেষ হয়নি দীর্ঘ সাড়ে ১০ বছরেও। এ হত্যা মামলার একবার রায়ের দিন ধার্য হলেও অন্যতম দুইজন স্বাক্ষী স্বাক্ষ্য না দেয়ায় ফের স্বাক্ষ্য গ্রহনের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। আদালত বারবার দুই স্বাক্ষী মেডিকেল অফিসার ও মামলা নথিভুক্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করলেও তাদের আদালতে স্বাক্ষী দিতে স্বাক্ষী দিতে হাজির করতে পারছে না বলে জানা গেছে। ২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বর জান্নাতুল ফেরদৌসকে যৌতুকের দাবিতে শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের একটি বাসায় গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল বলে তদন্ত সূত্রে জানা গেছে।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০০৪ সালের ১০ অক্টোবার মাগুরা জেলা শহরের বাসিন্দা ইসরাইল হোসেনের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের জগন্নাথপুর গ্রামের কুবেদ আলীর ছেলে আশরাফুর রহামন শাহীন বিয়ে করেন। শাহীন যশোর শহরে এলিকো ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করতেন। চাকনির কারণে শাহীন তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে নিয়ে ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের একটি ভাড়া বাসায় সংসার শুরু করেন। এ বাসায় শাহীনের বোন লাভলী আক্তারও থাকত। বিয়ের এক মাস যেতেনা যেতে শাহীন তার স্ত্রীর কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। এ নিয়ে তাদের সংসারে শুরু হয় অশান্তি। বিষয়টি জান্নাতুল তার মা-বাবাকে জানায়। ২ অক্টোবার শাহীর তার শ্বশুর বাড়িতে সংবাদ দেয় জান্নাতুল গুরুতর অসুস্থ, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিছুক্ষণপর শাহীন ফোন করে বলে জান্নাতুলর আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি। জান্নাতুল ফেরদৌসের আত্মীয়স্বজন ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে যেয়ে জান্নাতুলের অগ্নিদগ্ধ লাশ পায়। এ সময় তার স্বামী শাহীনকে খুজে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে নিহতের মা শাহানাজ বেগম বাদী হয়ে কোতয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলা তদন্ত শেষে ২০০৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শাহীন ও তার বোন লাভলীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খলিলুর রহমান। চার্জশিটে অভিযুক্ত আসামিদের পলাতক দেখানো হয়। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে স্বাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেন। একে একে মামলাল বাদীসহ পাবলিক স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়ে গেছে সাড়ে তিন বছর আগে। মামলা অন্যতম স্বাক্ষী তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খলিলুর রহমান ও নিহতের ময়না তদন্তকারী অফিসার ঢাকা মেডিকেলেজের মেডিকেল অফিসার কামরুল হাসান বারবার সমন দেয়া সত্তেও আদালতে স্বাক্ষ্য দিতে আসেননি। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খলিলুরের মৃত্য হওয়ায় রেকডিং অফিসার কুমকুম নাজমুন নাহারকে আদালতে স্বাক্ষ্য দেয়ার জন্য সমন দেয়া হয়। তিনিও দীর্ঘ তিন বছরের মধ্যে আদালতে স্বাক্ষ্য দিতে আসেননি। একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের বিচরক মামলার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১ মার্চ রায় ঘোষনার দিন ধার্য করেন। এ দিন বিচারক রায় ঘোষনা না করে মামলার প্রধান দুই স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করে তাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
এ ব্যাপারে নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি এম ইদ্রিস আলী জানিয়েছেন, আগামি ৪ আগস্ট এ মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহনের দিন ধার্য আছে। স্বাক্ষীদের আদালতে স্বাক্ষ্য দিতে আনার ব্যাপারে সব চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতানি পরোয়ানা জারি আছে। ধার্য তারিখে স্বাক্ষীরা স্বাক্ষ্য দিতে না আসলে মামলার রায় ঘোষনার জন্য আবেদন করা হবে।