যশোরে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রথম কিডনির জটিল রোগের সফল অপারেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এই প্রথম কিডনীর রোগীর সফল অস্ত্রপাচার (অপারেশন) সম্পন্ন হয়েছে। মেশিনারিজ, জনবল ও স্থান সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যরা মধ্যেও বৃহস্পতিবার মেডিকেল কলেজের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সিরাজুল ইসলাম ও তার মেডিকেল টিম এই সফল অপারেশন করেছেন। দীর্ঘ আড়াই ঘন্টা চিকিৎসকরা দশরত মল্লিকের (৬৫) শরীরে অস্ত্রপচার করে কিডনির পাথরসহ করনীক অপসারন করেন।
অসুস্থ দশরত যশোর মনিরামপুর উপজেলার কোনাকোলার কুশখারী গ্রামের মৃত চিন্তারাম মল্লিকের ছেলে।
দশরতের ছেলে দেবু মল্লিক জানান,চার মাস ধরে তার বাবা মাজায় ব্যথা সমস্যায় ভুগছিলেন। পরে তিনি পিতাকে নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে ডা.মোশফেকুর রহমান ও ওবাইদুল কাদের উজ্জলকে দেখান। চিকিৎসক তার পিতার বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষা করতে দেন। পরীক্ষায় তার বাবার কিডনিতে সমস্যা ধরা পড়ে। তখন ওই দুই চিকিৎসক মেডিকেল কলেজের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সিরাজুল ইসলামের কাছে পাঠান। তিনি দশরতের সকল পরীক্ষর প্রতিবেদন দেখে চিকিৎসা শুরু করেন। এবং আরও পরীক্ষায় তার বাবার কিডনিতে পাথর ধরা পড়ে। তখন চিকিৎসক অপারেশন করা লাগবে বলে দশরত মল্লিকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য পরামর্শ দেন। স্বজনরা গত ১৭জুন দশরত মল্লিকে যশোর ২৫০শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। (যার ভর্তি রেজিট্রেশন নাম্বার ২৪৯১৮/৯২)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দীর্ঘ আড়াই ঘন্টা তার শরীরে সফল অস্ত্রপচার করেন চিকিৎসকরা। এ সময় অধ্যাপক ডা. সিরাজুল ইসলামের সহযোগিতায় ছিলেন হাসপাতালের সহকারী রেজিস্টার ডা. আবুল কালাম আজাদ ও অজ্ঞানের চিকিৎসক সুমিত কুমার বিশ্বাস।
সহকারী রেজিষ্টার ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন. এই অপারেশন বাহিরের বিভিন্ন ক্লিনিকে করতে গেলে ৩০/৩৬হাজার টাকা বা তার বেশি টাকা খরচ হতো। কিন্তু হাসপাতালে হওয়াই রোগীর শুধুমাত্র ওষুধ কেনার টাকা লেগেছে।
অধ্যাপক ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে আমরা এই ধরনের অপারেশন করতে চাই। কিন্তু মেডিকেল কলেজের কোন অপারেশন থিয়েটার(ওটি) নেই। তাই ২৫০ শয্যার ওটিতে কাজ করতে হয়। সেখানে স্থান সংকট, দুইটি টেবিলে হাসপাতালের জেনারেল সার্জারির ১৩/১৪টি কাজ করা লাগে। কিডনি অপারেশন করতে হলে অধিক সময় লাগে। এছাড়াও কিডনি রোগীর জটিল অপারেশন করার পযাপ্ত মেশিনারিজ নেই। উন্নত মেশিনের অভাবে অনেক জটিল অপারেশন এখানে করা সম্ভব হয়না। তিনি বলেন,অপারেশন রুমে ইউরোলজি রোগীদের জন্য আলাদা ওটি টেবিলের ব্যবস্থা থাকলে এই ধরনের রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।