রাজ্জাককে ফেরত দিলো মায়ানমার

স্পন্দন ডেস্ক:
অবশেষে অপহৃত হওয়ার ৮দিন পর মায়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে দেশে ফিরেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নায়েক আবদুর রাজ্জাক।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১০টা থেকে মায়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর তাকে বিজিবির প্রতিনিধি দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিকেলে ৪টার দিকে বিজিবির প্রতিনিধি দল তাকে নিয়ে বাংলাদেশের পথে রওয়ানা দেয়। পরে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে তাকে কোস্ট গার্ডের দুটি হাইস্পিড বোটে করে বিজিবির প্রতিনিধি দল রাজ্জাককে নিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরে এসে পৌঁছায়।

এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজ্জাককে ৪২ বিজিবির সদর দফতরে আনা হয়।

প্রতিনিধি দলে থাকা বিজিবির স্টাফ অফিসার মেজর মাহবুব সাদেক এ বিষয়ে জানান, টেকনাফে পৌঁছে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রাজ্জাক। এছাড়াও তাকে ফিরিয়ে আনতে আন্তরিকতার জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং বিজিবিকে ধন্যবাদ দেন তিনি।

মেজর মাহবুব আরও জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজ্জাককে ৪২ বিজিবির কার্যালয়ে আনা হয়েছে। সেখানে তার কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শুনেছে সবাই। তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন।

যেহেতু রাজ্জাক সদ্য বাবা হয়েছেন, সেহেতু তাকে ছুটি দেওয়া হতে পারে বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে রাজ্জাককে হস্তান্তরের বিষয়টি কক্সবাজার বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এম এম আনিসুর রহমান বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছিলেন।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রাজ্জাককে ফিরিয়ে আনতে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সকাল সাড়ে ৯টায় ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে মংডু যায়। এরপর সকাল ১০টায় বিজিপির নন্দি হলে উভয়ের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে বিকেলে ৪টার দিকে রাজ্জাককে নিয়ে বিজিবির সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের পথে রওয়ানা হয়।

প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব ছিলেন টেকনাফ বিজিবি-৪২ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুজর আল জাহির।

এছাড়াও স্টাফ অফিসার মেজর মাহবুব সাদেক ও মেডিক্যাল অফিসার মেজর শাহ আলম প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন।

এসময় নায়েক রাজ্জাকের সঙ্গে থাকা অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে সে বিষয়ে বিজিবি-বিজিপির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মায়ানমারের পক্ষে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ২ বর্ডার গার্ড পুলিশের অধিনায়ক লে. কর্নেল থি হান।

১৭ জুন (বুধবার) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নাফ নদীতে বাংলাদেশের জলসীমায় টহলরত বিজিবির একটি দল একটি ট্রলারে তল্লাশি চালাচ্ছিল। এ সময় বিজিপির ট্রলার নিয়ে আসা একদল অস্ত্রধারী তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে বিজিবির সঙ্গে অস্ত্রধারীদের বাকবিতণ্ডা হয়।

একপর্যায়ে অস্ত্রধারীরা বিজিবির নায়েক রাজ্জাককে জোর করে তাদের বোটে তুলে নেয়ে। এসময় বাধা দিতে গেলে বিজিপি গুলি চালায়। এতে সিপাহী বিপ্লব গুলিবিদ্ধ হলে তাকে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয় বিজিবি আরেক সদস্য। পরে বিজিবির অন্য একটি বোট তাদের উদ্ধার করে।