সঞ্চয়পত্রের সুদ কমলেও বিক্রি কমেনি

স্পন্দন ডেস্ক:পাঁচ বছর মেয়াদি এক লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনলে মাসে এক হাজার ৭০ টাকা মুনাফা পাওয়া যেত, সুদের হার কমানোর পর এখন পাওয়া যাচ্ছে ৯৬০ টাকা।
এরপরও বিক্রি কমেনি সঞ্চয়পত্রের। সবচেয়ে ‘নিরাপদ’ এ খাতে বিনিয়োগ রয়েছে আগের মতোই।
অর্থনীতির বিশ্লেষক জায়েদ বখত বলছেন, ব্যাংকগুলোর চেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়ায় এখনও সঞ্চয়পত্রের দিক থেকে মুখ ফেরায়নি মানুষ। এছাড়া পুঁজিবাজারের মন্দাবস্থাও এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ার অন্যতম কারণ।
সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় ঋণের ভার কমাতে গত মে মাসে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার প্রায় ২ শতাংশ করে কমায় সরকার।
তবে ২৩ মে’র আগে যারা সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন, তারা আগের সুদের মুনাফা পাবেন বলে জানায় জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর।
সুদের হার কমার পর সর্বশেষ মে মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল আড়াই হাজার কোটি টাকা। তার আগের মাস এপ্রিলে বিক্রি হয় ২ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা।
কয়েকদিন আগে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সংসদে বাজেট আলোচনায় সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর সমালোচনা করে তা আগের অবস্থানে নিয়ে যেতে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) নিট বিক্রি হয়েছে সাড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিক্রি হয়েছিল ১১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা। বিক্রির এ পরিমাণ সরকারের বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে যায়।
বাজেট ঘাটতি মেটাতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা ঋণ করবে বলে লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল।
ক্রমাগত বিক্রি বাড়ায় সেই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ২১ হাজার কোটি টাকা করা হয়। কিন্তু অর্থবছরের এক মাস বাকি থাকতেই সেই লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে যায়।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক জায়েদ বখত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ক্রমাগত বিক্রি বাড়ায় ঋণের বোঝা বেড়ে যাওয়ায় সরকার বাধ্য হয়েই সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমিয়েছে।
“কিন্তু এখনও যেহেতু ব্যাংকের আমানতের চেয়ে এর সুদের হার বেশি, সে কারণে এর বিক্রি কমছে না। এছাড়া পুঁজিবাজারে মন্দাবস্থার কারণে সেদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে এখন সবাই সঞ্চয়পত্রের দিকেই ঝুঁকছে।”
২০১৩-১৪ অর্থবছরের এ সময়ে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল সাত হাজার ৪৬০ কোটি টাকা।
৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে নিট সঞ্চয়পত্রের বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা। সর্বশেষ মে মাসে নিট বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
সরকার ব্যাংক, সঞ্চয় ব্যুরো ও ডাকঘরের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে থকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে এ খাতে মোট বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। এই সময়ে অতীতে বিনিয়োগকৃত মূল অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা।
মূল অর্থ বাদ দেওয়ার পর নিট বিক্রি প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে ৮ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে।
ফরিদপুরে ‘গণপিটুনিতে’
নিহত ৩

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নে ডাকাত সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে গ্রামবাসী।
বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহসিনুল হক জানান।
নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে কারও নাম পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।
সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মোহতেশাম হোসেন বাবর জানান, সম্প্রতি রোজা শুরুর পর থেকে রাতে তারাবির নামাজের সময় এলাকা নির্জন হয়ে গেলে বেশ কয়েকটি বাসায় চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগেই এলাকায় পালা করে পাহারার ব্যবস্থা করে।
“বুধবার রাতেও ১০/১৫ জনের সশস্ত্র একটি দল ডাকাতি করতে এলে পাহারায় থাকা লোকেরা টের পেয়ে সবাইকে খবর দেয়। পরে এলাকাবাসী একজোট হয়ে ওই ডাকাত দলকে ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে অন্যরা পালাতে পারলেও তিনজন ধরা পড়েন। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা তাদের পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।”
ওই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক গণপতি বিশ্বাস শুভ বলেন, “গণপিটুনির শিকার তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা গেছেন।”