টানা বর্ষনে যশোর শহরের নিম্ন এলাকা প্লাবিত, দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
টানা বর্ষণে যশোর শহরের নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি নিস্কাশন না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। পানিবদ্ধ হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। অনেক এলাকায় ডাস্টবিন না থাকায় ড্রেনের পানি উপচে পড়ে ময়লা আবর্জনায় সয়লাব হয়ে গেছে। দুইদিন ধরে আবজর্না পড়ে থাকলেও তা দেখার যেন কেউ নেই।
অন্যদিকে বরাবরের মতো এবারও পানি নিষ্কাশন না হওয়ার জন্য পৌরসভার অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে দায়ী করেছে সাধারণ মানুষ। এডিবির অর্থায়নে নির্মিত শহরের বেশির ভাগ এলাকার ড্রেন ভেঙ্গে গেছে। যে কারণে সামান্য বৃষ্টিতে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় হাটু পানি জমেছে।
শংকরপুর নতুন বাস র্টামিনাল এলাকায় যশোরে কলেজের পাশের আব্দুল বারেক জানিয়েছেন, ‘দুদিনের বৃষ্টিতে তাদের পুরো এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তাদের হাটু পানি ডিঙ্গিয়ে শহরে যেতে হচ্ছে। ছেলে মেয়েদের স্কুলে যেতে হচ্ছে অনেক কষ্ট করে। পানি সরে যাওয়ারও লক্ষণ দেখছি না।
তিনি বলেছেন, এ অঞ্চলের ড্রেন গুলো ময়লা অবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। তা ছাড়া বেশির ভাগ ড্রেন ভাঙ্গাচোরা। পানি নিষ্কাশন হয়না। শহরের দক্ষিণ অংশের পানি যায় হরিয়ানার বিলে। বিলে নানা ঘরবাড়ি আর সরকারি স্থাপনা নির্মাণ হওয়ায় পানি আটকে যাচ্ছে।’
এদিকে শংকরপুরের মতো বেজপাড়া, চোপদারপাড়া, নাজির শংকরপুর, টিবি ক্লিনিক এলাকা, জমাদ্দার পাড়া, রায়পাড়া, সার্কিট হাউজ পাড়া, বারান্দী মাঠপাড়া, মোল্লাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
সার্কিটহাউজ পাড়ার বাসিন্দা মোড়ল মিয়া জানান, বৃষ্টি শুরু হওয়ায় রাস্তা আর চেনার উপায় নেই। ভারি বৃষ্টিতে রাস্তাটিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে এ রাস্তা দিয়ে হেটে চলাচলের পরিবেশ নেই। একই অবস্থা শহরের চারখাম্বা থেকে বেজপাড়া, ডা. আব্দুর রাজ্জাক কলেজ গেট থেকে ওয়াপবদা গ্যারেজ পর্যন্ত।
এ ব্যাপারে পৌরসভার সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, বর্তমানে যশোরে একটি বড় প্রজেক্টে’র কাজ চলছে। কিন্তু আর্থিক সংস্থার শর্তানুযায়ী ২০১৬ সালের জুনের আগে আমাদের কাজটি শেষ করতে হবে। তাই বর্ষা মৌসুমেও আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বৃহত্তর স্বার্থে যশোরবাসীকে সামান্য দুর্ভোগ সহ্য করার আহবান জানান তিনি।
শহরে ডাস্টবিনের সংকট বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সচিব বলেন, পৌরসভা ডাস্টবিন নির্মাণ করতে চায়। কিন্তু স্থান পাওয়া যায় না। আবার নিজেদের জায়গায় ডাস্টবিন নির্মাণ করলেও রাতের অন্ধকারে তা ভেঙ্গে দেওয়া হয়। তবে আমরা এই সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করছি।