যশোরে এহসান পাল্টিপারপাস সোসাইটির ১৮ কর্তকতার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রতারণার অভিযোগে যশোরের এহসান ইসলামী মাল্টিপারপাস কোঅপারেটিভ সোসাইটি এবং রিয়েল স্টেট সোসাইটি এন্ড ডেভলপমেন্ট লিমিটেডের ১৮ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়েছে। শুক্রবার এ মামলাটি করেছেন সদর উপজেলার চাঁচড়া ভাতুড়িয়া এলাকার মৃত পাচু আলীর ছেলে সাদেক আলী। এ ঘটনায় একজনকে আটকও করেছে পুলিশ।
আসামিরা হলো কোম্পানির প্যানেল এমডি (সভাপতি) মুফতি মাওলানা ইউনুস, পরিচালক মুফতি মাওলানা আব্দুল হালিম, মুফতি মাওলানা আতাউল্লাহ, মুফতি মাওলানা আইয়ূব আলী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুফতি মাওলানা জুনায়েদ, মুফতি মাওলানা মনিরুজ্জামান, মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান, মুফতি মাওলানা শামসুর হক টিটু, মুফতি মাওলানা মাইনুল, কাজী রবিউল ইসলাম, মুফতি মাওলানা আবু তাহের নদবী, মুফতি মাওলানা আজিজুল হক, গোলাম রহমান মুফতি, মুফতি মাওলানা আব্দুল মতিন, মুফতি মাওলানা আমিনুল হক, মুফতি মাওলানা কলিমুল্লাহ কলি, মুফতি মাওলানা ফোরকান ও মাঠকর্মী দড়াটানা মসজিদের পরিচালক নাসিরুল্লাহ।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা বিভিন্ন সময় বড় মাপের আলেম পরিচয় দিয়ে থাকেন। কোম্পানিতে টাকা বিনিয়োগ করে তার শেয়ার দেয়ার প্রলোভন দেখায়। যে কারণে তিনি রাজি হয়ে ২০১২ সালের ২৩ জুলাই বিনিয়োগ করার মনস্থির করেন। তিনি ৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে চাইলে প্রতিমাসে তাকে ৯ হাজার ৬শ’ টাকা দেয়া হবে বলে জানায় আসামিরা। এরপর তিনি টাকা বিনিয়োগ করেন। মাস শেষে লভ্যাংশের টাকা চাইলে তারা নানা টালবাহানা শুরু করে।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জঙ্গী গোষ্ঠীকে সরবরাহ করে থাকে। গত ২৪ এপ্রিল মূলধনসহ লভ্যাংশ ফেরত চাইলে টাকা দিবে বলে জানায়। এর প্রেক্ষিতে ওইদিন রাজারহাট নূরিয়া কাউমিয়া বালিকা মাদ্রাসা ও এতিমখানার অফিস কক্ষে এক বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে তিনি (বাদী) মূল ৬ লাখ টাকা এবং ১২ মাসের মুনাফা এক লাখ ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। বৈঠকের একপর্যায়ে আসামিরা ওই টাকা দিতে অস্বীকার করে। পরে যাওয়ার সময় নানাধরণের ভয়ভীতি ও হুমকি দেখায়। এ কারণে তিনি মামলাটি করেছেন।
এদিকে কোতয়ালি থানা পুলিশ কোম্পানির সভাপতি মুফতি মাওলানা ইউনুস আলীকে আটক করেছে। শুক্রবার সকালে রামনগর এলাকা থেকে থানার এএসআই নাজির আহমেদ তাকে আটক করেন। এএসআই নাজির আহমেদ বলেন, মুফতি মাওলানা সাতটি মামলার আসামি। কোম্পানির প্রতারণার বিরুদ্ধে ওই মামলা গুলো দায়ের হয়।
অপরদিকে মামলার ১৮তম আসামি মাওলানা নাসিরুল্লাহ এক বিবৃতিতে তার বিরুদ্ধে মামলা করায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, তিনি কখনোই এহসান এস সোসাসইিটির কোন ধরণের কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন না; এখনও নেই। তার ছোট ভাই মুফতি মাওলানা আতাউল্লাহ ওই প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত। যে কারণে ভাইয়ের কর্মকান্ডের দায়ভার তার কাধে চাপানোর অপচেষ্টা চলছে। হয়রানির লক্ষ্যে তাকে আসামি করায় তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একইসাথে মামলা থেকে তার নাম প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যথায় তিনি আইনের আশ্রয় নিবেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।