শার্শার যুবলীগ কর্মী তোজাম্মেল হত্যা মামলার চার্জশিট, অভিযুক্ত ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোরের শার্শার দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের যুবলীগ কর্মী তোজাম্মেল হোসেন তোজাম হত্যা মামলায় ১০ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে ডিবি পুলিশ। অভিযুক্ত আসামিরা হলো, শার্শার নাভারন কামারবাড়ি এলাকার মৃত আব্দুল আজিজ সরদারের ছেলে আব্দুর রহিম সরদার, আব্দুল আজিজ ও তার দুই ছেলে সোহনুর রহমান সোহান, মিঠুন, দক্ষিণ বুরুজবাগানের শিশিরের ছেলে সাজন, উত্তর বুরুজবাগানের খোরশেদ আলীর ছেলে মনিরুজ্জামান মনির, নাভারণ রেলবাজারের কাশেম শিকদারের দুই ছেলে ইয়াসিন ও ইমরান, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নুরুজ্জামান খোকার ছেলে আরমান, গদখালি নবীবনগরের ওসমান গণির ছেলে সাকিল, ঝিকরগাছার নবীনগরের দুলাল মিয়ার ছেলে অনিক হোসেন। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মনিরুজ্জামান।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর বিকেলে রহিমের ভাগ্নে সোহানের সাথে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের বিষয় নিয়ে তোজামের ছেলের গোলযোগ হয়। সোহান বিষয়টি তার মামাকে জানালে তোজামের ছেলেকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে মারপিট করে। বিষয়টি বাড়িতে জানালে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তোজাম নাছিরের মোটরসাইকেলে রহিমের বাড়ি যায়। রহিম বাড়ি না থাকায় ফিরে আসার পথে রহিম ও তার লোকজন পরিকল্পিত ভাবে তোজামকে কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তোজামকে প্রথমে যশোর ও পরে ঢাকা রেনেসা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তোজাম ৮ ডিসেম্বর মারা যান। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে শার্শা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দ্বন্ধ ও এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আব্দুর রহিমের সাথে তোজামের বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন পরিকল্পিত ভাবে রহিম ও তার লোকজন তোজামকে কুপিয়ে হত্যা করে। এছাড়া তদন্তকালে পুলিশ সোহানুর রহমান সোহানকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। সোহান আদালতে হত্যার সাথে জড়িত ও অপর হত্যাকারীদের নাম উল্লেখ করে বিচারকের কাছে জবানবন্দি দেয়। সোহানের দেয়া তথ্য ও স্বাক্ষীদের বক্তব্যে ওই ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যার সাথে জড়িত অভিযোগ পাওয়ায় আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শাওনের অব্যহতির আবেদন করা হয়েছে চার্জশিটে। অভিযুক্ত সোহান বাদে সকল আসামি পলাতক রয়েছে।