মেহেরপুরে কাজে আসছে না ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র

মেহের আমজাদ, মেহেরপুর :
হাজার হাজার গ্রাহককে লোডশেডিং এর ভোগান্তি থেকে মুক্তি ও সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে মেহেরপুরের বামন্দীতে স্থাপন করা হয় বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র। উপকেন্দ্রটির আওতায় সংযোগ রয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার গ্রাহকের। আর সেচ পাম্পসহ নতুন সংযোগের অপোয় আছে কয়েক হাজার গ্রাহক। কিন্ত কোন কাজে আসছে না এ বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র।
গাংনী উপজেলার বামন্দীসহ আশেপাশের এলাকার ভোগান্তি লাঘবের জন্য অর্ধ যুগেরও বেশি সময় অপোর পর বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এর কেডিপি ওয়ান প্রকল্পের আওতায় স্থাপন করা হয় ১০ এমভিএ মতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রটি। হাজার হাজার গ্রাহকের লোডশেডিং এর ভোগান্তি দূর করতে ২৮ মার্চ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দীতে চালু করা হয় এই বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র। উপকেন্দ্রটি চালু করার কয়েকদিন পরই বন্ধ করে দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। যে কারনে গ্রাহকদের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুনে। ৮কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রটির কোন সুফল পাচ্ছে না গ্রাহকেরা। বিদ্যুৎ চালিত সেচ দেয়ার জন্য মর্টার চালানোও সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে কৃষকেরা ফসলে ঠিকমত সেচও দিতে পারছেন না। অন্যদিকে ব্যহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়াও। প্রায় ৩ মাস আগে এই বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রটি চালু করলেও কয়েকদিন পরে নষ্ট হয়ে যায়। যে কারনে গ্রাহকদের দুর্ভোগ রয়েই গেছে।
স্থানীয় সূত্র এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারীর মাধ্যমে জানা যায়, ইনস্যুলেটরগুলো নি¤œমানের হওয়ায় বিদ্যুৎ সাব স্টেশন দিলেও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। যে কারনে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সাব স্টেশনে নির্মাণ করা হলেও গ্রাহকেরা এর সুফল পাচ্ছে না। বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে।
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী নানা সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে লাগানো ইনস্যুলেটর গুলো নিম্নমানের হওয়ায় বিদ্যুত সংযোগ টিকছে না। ফলে মাঝে মাঝেই এটি বন্ধ হয়ে যায়। ইনস্যুলেটর পরিবর্তন করেও কোন কাজে আসছে না। তবে উপকেন্দ্রটির যন্ত্রাংশ মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।