যশোরে অধিকাংশ কলেজে ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি নেয়ার অভিযোগ

মিরাজুল কবীর টিটো:
যশোরে অধিকাংশ কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোন কোন কলেজ সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে ও দ্বিগুণ তিনগুণ অর্থ আদায় করছে। অথচ একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির ক্ষেত্রে জেলা ও পৌর এলাকায় ভর্তি ফি ২ হাজার টাকা, উপজেলার কলেজ গুলোতে ১ হাজার টাকা ভর্তি ফি সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু সরকারের এ নির্দেশ পালন করছেনা অধিকাংশ কলেজ। এ কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। যশোর শিক্ষা বোর্ড অফিস সূত্র জানায়, একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির সময় কলেজগুলো রেজিস্ট্রেশন ফি ক্রীড়া ফি, রেডক্রিসেন্ট ফি, স্কাউট ও রোবার ফি, বিজ্ঞান প্রযুক্তি ফি, বার্ষিক ক্রীড়া মঞ্জুরি ফি, বিলম্ব ফি, শাখা পরিবর্তন ফি, স্মরণিকা, সেসন চার্জ গ্রন্থাগার খরচ, পাঠ পরিকল্পনা ফি সহ মোট ২ হাজার টাকা নিতে পারবে। এর বেশি টাকা নিতে পারবে না। অথচ বোর্ডের নির্ধারিত ফি’র বাইরে যশোরের কলেজগুলো বিভিন্ন খাত দেখিয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ কলেজে ভর্তিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিজ্ঞান শাখায় ৫ হাজার ৬শ’ ৬০ টাকা ও মানবিক ও বাণিজ্যে ৫ হাজার ২৪০ টাকা করে নিচ্ছে। এ কলেজ কর্তৃপক্ষ টিউশন ফি, পরীক্ষা ফি, কম্পিউটার ল্যাব চার্জ, ভাষার ল্যাব চার্জ, আইড কার্ড, নাম ফলক, ডাইয়েরি, প্রোসপেক্টর, ফি বুক, রক্ষণাবেক্ষণ, লাইব্রেরী, সংবাদপত্র, কমনরুম, শিক্ষার্থী ওয়েল ফেয়ার, ইলেকট্রিক বিল ও জেনারেটর সহ ২৬ খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তির ক্ষেত্রে দ্বিগুণ টাকা নিচ্ছে। কলেজের অধ্যক্ষ ড. প্রফেসর মুস্তাপিজুর রহমান জানআন, ভর্তির ক্ষেত্রে আমরা অনিয়ম করে বেশি টাকা নিচ্ছি না। কলেজের গর্ভণিং বডির নির্ধারতি করে দেয়া টাকা চার বছর ধরে নেয়া হচ্ছে। হামিদপুর সদর উপজেলার হামিদপুর আলহেরা ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির সময় বিজ্ঞান শাখায় ৩ হাজার ২শ’ টাকা, বাণিজ্য শাখায় ৩ হাজার ১শ’ টাকা ও মানবিক শাখায় ৩ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। কলেজের অধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম জানান, আমরা কলেজের ভর্তির বিভিন্ন খরচ বাবদ এ টাকা নিচিছ। তবে ভর্তির ক্ষেত্রে এ টাকা নির্ধাররেছে কলেজের গভর্ণিং বডির সদস্যরা। সেই টাকা ভর্তির ক্ষেত্রে নেয়া হচ্ছে। বেশি কোন টাকা নেয়া হচ্ছে না। যশোরে ক্যান্টনমেন্ট কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে তিন শাখায় ৭ হাজার ৬শ’ ৭৫ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। তবে এ কলেজের নতুন অধ্যক্ষ যোগদান করাই ও উপাধ্যক্ষ ছুটিতে থাকায় বক্তব্য নেয়া যায়নি। যশোরের সরকারি এমএমকলেজে বিজ্ঞান শাখায় ২ হাজার ২৩০ টাকা, মানবিক ও বাণিজ্য শাখায় ২ হাজার ১শ’ ৩০ টাকা, সরকারি সিটি কলেজে বিজ্ঞান শাখায় ২ হাজার ৩শ’ ৩৫ টাকা, মানবিক ও বাণিজ্য শাখায় ২ হাজার ২শ’ ৩৫ টাকা ও সরকারি মহিলা কলেজে বিজ্ঞান শাখায় ২ হাজার ৩শ’ ৩৫ টাকা, মানবিক ও বাণিজ্য শাখায় ২ হাজার ২৪০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এমএম কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর শফিউল ইসলাম সরদার জানান, আমাদের ভর্তির টাকা যা নির্ধারণ করা হোক না কেন ছাত্রীদের ভর্তির ক্ষেত্রে ১ হাজার ৮শ’ টাকা নেয়া হচ্ছে। শুধু শিক্ষক কর্মচারী তহবিলের জন্য ১শ’ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মজিদ বাইরে কোন কলেজে ভর্তির সময় বেশি টাকা নিতে পারবে না। যদি তারা বেশি টাকা নেয়। তাহলে এসব কলেজের বিরুদ্ধে ব্যস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত আকারে জানানো হবে। সেখান থেকে কলেজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।