যশোরে ছিনতাই বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
হঠাৎ করে যশোর শহরে বেড়েছে ছিনতাই। ঈদকে সামনে রেখে ছিনতাইকারীরা তৎপরতা শুরু করেছে। দিনে দুপুরে ছিনতাই হচ্ছে অহরহ। একই দিনে ২/৩টি ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে। ছিনতাই থেকে বাদ পড়ছে না পুলিশ ও সেনা সদস্যরাও। ইদানিং বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিষয়টি উঠে এসেছে। কিন্ত ছিনতাইকারীরা আটক হচ্ছে না।
সূত্র জানায়, সোমবার বেলা ১২টার দিকে যশোর শহরের রেল রোড টিবি ক্লিনিক মোড়ে রিকসা দাঁড় করিয়ে প্রকাশ্যে ২/৩ যুবক সুমনা নামে এক গৃহবধূর কাছ থেকে সোনার আলংকার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ক্ষতির পরিমান ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
ওই দিন সকালে পালবাড়ি ভাস্কর্যের মোড় থেকে রিকসায় উঠামাত্র ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন প্রিন্স বিশ্বাস নামে এক সেনা সদস্য। তিনি এ দিন সকালে তার বোনের সাথে দেখা করতে মাগুরার শালিখা থেকে যশোরে আসেন। তার বোন যশোর সরকারি মহিলা কলেজে লেখাপড়া করে। তার কাছ থেকে ছিনতাইকারীরা সাড়ে ২৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তিনি ঈদের কেনাকাটার জন্য ওই টাকা পকেটে রাখেন।
এর আগে ২৭ জুন ভোর ৫টার দিকে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিবাড়ি গ্রামের এমএম ইদ্রিস আলী ও তার মা জারিমন নেছা। ছিনতাইকারীরা তাদের কাছ থেকে সোনার গহনা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ ৮২ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়।
এর আগে ২৪ জুন সকালে যশোর জজ আদালতের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন আবু মুসা নামে এক পুলিশ সদস্য ও তার স্ত্রী। তিনি এ দিন সকালে ঢাকা থেকে ট্রেনে করে যশোরে নামেন এবং রিকসা যোগে পালবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। ঘটনাস্থলে পৌছালে ছিনতাইকারীরা তাদের কাছ থেকে নগদ ৬ হাজার টাকা, সোনার চেইন এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
এছাড়া রাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। গত শনিবার বেজপাড়া এলাকার সঞ্জয় নামে এক যুবকের কাছে থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই হয়। রেলস্টেশন এলাকায় মিজানুর নামে এক ব্যবসায়ী ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। কিন্তু পুলিশি ঝামেলা এড়াতে তারা কোন অভিযোগ দেননি।
ভুক্তভোগিরা জানিয়েছেন, প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা খুবই দুঃখ জনক। পুলিশতো সব সময় থাকবে না এটা স্বাভাবিক। কিন্তু চিৎকার দিলেও সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসে না। কারণ ছিনতাইকারীরা সশস্ত্র। তাদের কাছে অস্ত্র, চাকু থাকে। যা দিয়ে তারা যে কাউকে আঘাত করতে পারে। এই আশংকায় সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসেনা। কিন্তু পুলিশের তো ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করার কথা। কারা কোন এলাকায় ছিনতাই করে তা পুলিশের জানা উচিৎ। তাদের তালিকা করে ধরতে না পারলে সামনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
এ প্রসঙ্গে কোতয়ালি থানার অফিসাস ইনচার্জ (ওসি) সিকদার আককাছ আলী জানিয়েছেন, ছিনতাই রোধে এখন থেকে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। তালিকা করা হচ্ছে ছিনতাকারীদের। প্রতিদিন পুলিশ সেখানে অবস্থান করছে। প্রতিটি মোড়ে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সারা শহরে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে যারা ছিনতাই চাঁদাবাজি মামলায় জেল খানায় আছে তাদের বাইরে বের হওয়ার ব্যাপারে পুলিশ বিভিন্ন কৌশল নিচ্ছে।
তিনি বলেছেন, এখন ঈদের সময়। দুর্বৃত্তরা চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর জন্য তারা ওৎ পেতে থাকবে। পুলিশও নানা কৌশলে তাদের ঠেকাতে তৎপর হচ্ছে। তিনি এ সময় জনসাধারণকে একটু বাড়তি সতর্ক হওয়ারও অনুরোধ করেছেন।