যশোরে প্রথম নেপালীয় নাটক মঞ্চস্থ

এইচ আর তুহিন:খুলনা বিভাগের ঐতিহ্যবাহী নাট্য সংগঠন বিবর্তন যশোরের ২৫ বছর পূতি উপলক্ষে ‘দ্রোহ প্রেম ঐতিহ্যের স্বপ্নযাত্রা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত ৮দিনব্যাপি ২য় আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবের ৫ম দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নেপালের স্বনামধন্য নাট্যদল মান্দালা ‘সারজামিন’ নাটক মঞ্চস্থ করে। এর মাধ্যমে যশোরে কোন নেপালীয় নাটক মঞ্চস্থ হলো। যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন নেপালের বিখ্যাত নির্দেশক প্রয়ীন খাতিয়রা। সারজামিন নাটকটি ছোটগল্প পরিবন্ধ অবলম্বনে তৈরি করা। গল্পকার হলেন পুস্কও সমসের।
নাটকে তুলে ধরা হয়- নেপালের পঞ্চায়েতের বিচার ব্যবস্থার মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অবহেলার বাস্তব প্রতিচ্ছবি। বিচার ব্যবস্থা এবং আইনের প্রয়োগ অনেকাংশেই রাজনৈতিক ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। এই নাটক একজন আদিবাসী যুবক রেনে’র গল্প। সম্প্রতি স্বজাতি একজন সুন্দরী যুবতীকে বিয়ে করে রেনে। স্ত্রীর জোরাজুরিতে স্ত্রীকে নিয়ে সে গ্রামের মেলায় যায়। যেখানে একজন স্থানীয় উচ্চবর্ণীয় ব্যক্তি লহর নাচতে চায় রেনের স্ত্রীর সাথে। এটা নিয়ে রেনের সাথে লহরের ঝগড়া বাধে এবং এক পর্যায়ে রেনে প্রকাশ্যে ঘোষণা করে- সে লহরকে হত্যা করবে। পরে ঘটনা চক্রে রাতে ঘুমানোর মধ্যে স্ত্রী ও সদ্যজাত সন্তানকে কামড়াতে আসা একটি পোকাকে স্ত্রীর বাধা স্বত্তেও হত্যা করে রেনে। এদিকে লহরের বাড়িতে একটা ঘোট পাকিয়ে উঠে। রেনে দ্রুত বাড়ির মধ্যে ঢোকে এবং দেখতে পাই লহর রক্তের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য গ্রামবাসীকে উত্তেজিত করছে। সহসা রেনে চিন্তা করে পুলিশকে খবর দেবে, কিন্তু তার মনের অন্য অংশ গতদিনের বিবাদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং তাকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। রেনে ভয় পায়, পালাতে চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পালাতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। তাকে নিয়ে আসা হয় স্থানীয় পঞ্চায়েতের সামনে, সাথে আসে স্বাক্ষী ও তদন্তকারীরা, যারাই সারজামিন। তারা গ্রামের মানুষ, পুলিশ কর্মকর্তা এবং পঞ্চায়েত প্রধানের সামনে পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করে । নাটকের দ্বিতীয় খণ্ডে এই স্বাক্ষীদের বিবরণ উঠে আসে। সকল স্বাক্ষী রেনের নির্দোষ সর্ম্পকে জানে ও বিশ্বাস করে। কিন্তু নির্ভর করে সেই পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির উপর যা রেনেকে একটি অবশ্যম্বভাবী পরিণতির দিকে নিয়ে যায় যেখানে তার কর্ম আর ভাগ্য ফেরাতে পারে না। সবশেষে রেনে এবং তাকে সমর্থনকারী সকলেই অপরাধী হিসাবে সাব্যস্ত হয় এবং চূড়ান্ত পরিণতি মেনে নেয়।