তামিম-দিলশান ঝড়ে আড়াল আফ্রিদি

আরিফুল ইসলাম রনি:শহীদ আফ্রিদির ঝড়ো ব্যাটিংকে ছাপিয়ে গেছে তামিম-দিলশান জুটির সাইক্লোন। তলানির দুই দলের লড়াইয়ে সিলেট সুপার স্টার্সকে উড়িয়ে দিয়েছে চিটাগং ভাইকিংস।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে নেমে ৪১ বলে ৬২ রান করেছিলেন আফ্রিদি। ২০ ওভারে সিলেট করেছিল ৮ উইকেটে ১৩৯ রান। কিন্তু তামিম ইকবাল ও তিলকরত্নে দিলশানের ব্যাটিং তাণ্ডবে চিটাগং জিতেছে ১০ উইকেটে, ২৩ বল বাকি রেখেই! দুজনই অপরাজিত ৬৭ রানে!

৭ ম্যাচে চিটাগংয়ের এটি মাত্র দ্বিতীয় জয়। আগের জয়টি ছিল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনে এই সিলেটের বিপক্ষেই। তামিমরা জিতেছিল ১ উইকেটে। সেদিন সিলেটের দুই ক্রিকেটারের অনাপত্তিপত্র নিয়ে ঝামেলায় ম্যাচ শুরু হয়েছিল অনেক দেরিতে। সিলেটের মালিকের বিরুদ্ধে গালিগালাজ করার অভিযোগ তুলেছিলেন তামিম।

দ্বিতীয় জয়ে পয়েন্ট তালিকায় শেষ থেকে পঞ্চমে উঠে এল চিটাগং। ছয় ম্যাচের একটি জেতা সিলেট আবার নেমে গেল তলানিতে।

কিছুদিন আগে তামিম-দিলশানের জুটিকে এই বিপিএলের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর উদ্বোধনী জুটি বলেছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা। তবে সাঙ্গাকারার দাবি বা এই দুই ব্যাটসম্যানের সামর্থ্য, কোনোটিরই প্রতিফলন ছিল না পারফরম্যান্সে। বুধবার জ্বলে উঠলেন দুজনই।

রান তাড়ায় শুরু থেকেই খ্যাপাটে ছিলেন তামিম। ইনিংসের প্রথম বলেই মোহাম্মদ শহীদকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে বাউন্ডারি মারেন তিনি, দুই বল পরে পুনরাবৃত্তি। শেষ বলে বাউন্ডারি আরেকটি! তিলকরত্নে দিলশানও শুরু করলেন সোহেল তানভিরকে বাউন্ডারি মেরে। সময়ের সঙ্গে আরও উত্তাল দুজনের ব্যাট।

চোট কাটিয়ে ফেরা অভিজ্ঞ স্পিনার আব্দুর রাজ্জাককে ছক্কায় স্বাগত জানালেন দিলশান। পরের দুই বলেও চার! পরের ওভারে রুবেল হোসেনকে উড়িয়ে মারলেন দিল-স্কুপে।

তামিম একটু পিছিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু দারুণ কিছু শটে দিলশানের আগেই ছুঁয়ে ফেলেন পঞ্চাশ। প্রথম দুই ম্যাচে অর্ধশতকের পর দুটি তিরিশ ছাড়ানো ইনিংস, পরের দুটিতে আউট এক অঙ্কে। সপ্তম ইনিংসে আবার অর্ধশতক। ৩৬ বলে অর্ধশতক ছুঁয়ে যেভাবে মুষ্টিবদ্ধ হাত ছুঁড়লেন বাতাসে, বেরিয়ে এলো যেন অনেক রাগ-ক্ষোভ-ক্রোধ!

দিলশান অর্ধশতক পেলেন এই প্রথম। মাইলফলক ছোঁয়ার পর না থেমে দুজন ফিরেছেন দলের জয় সঙ্গে নিয়েই। ৮ চারে ৫১ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত তামিম। ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৬ বলে দিলশানও অপরাজিত ৬৭।

১০ উইকেটের জয় বিপিএল দেখল এই নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বার। আগেরটি ছিল প্রথম বিপিএলের প্রথম ম্যাচ। সিলেটের ১৬৫ রান তাড়ায় ৪৪ বলে ১০১ করেছিলে বরিশাল বার্নাসের ক্রিস গেইল, ৩৫ বলে ৫৬ আহমেদ শেহাজাদ।

তামিম-দিলশানের আগে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম দেখেছে আফ্রিদি ঝড়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলে শারজাহ থেকে ঢাকা হয়ে আগের দিনই এসেছেন চট্টগ্রাম। যখন উইকেটে গেলেন, ম্যাচের বয়স হয়নি ৪ ওভারও। কিন্তু ২২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কাঁপছে সিলেট।

সেখান থেকেই দারুণ এক ইনিংস খেলে দলকে উদ্ধার করলেন পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। ইনিংসটায় পাশে পেয়েছেন তিনি ভাগ্য আর তাসকিন আহমেদকেও। দুই দফায় ক্যাচ দিলেও হাতে জমাতে পারেননি তাসকিন। জীবন পেয়ে নতুন উদ্যমে চিটাগংয়ের বোলারদের শাসন করেছেন আফ্রিদি।

শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন মোহাম্মদ আমিরের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে, ৪ ছক্কায় ৪১ বলে করেছেন ৬২ রান।

আফ্রিদির সঙ্গে সিলেট এই ম্যাচে পেয়েছে সোহেল তানভিরকেও। চোট কটিয়ে ফিরেছেন রাজ্জাক। একাদশে ছিল তাই বেশ কটি পরিবর্তন। দিলশান মুনাবিরার সঙ্গে ইনিংস শুরু করেন নুরুল হাসান। কিন্তু প্রথম থেকেই শুরু হয় সিলেট ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়া।

প্রথম ওভারেই রান আউট মুনাবিরা (৪)। আগের ম্যাচের নায়ক রবি বোপারা শুরুটা করেছিলেন দারুণ, কিন্ত তিনিও কাটা পড়েছেন রান আউটে (১১)। এই দুইয়ের মাঝে ফিরেছেন নুরুল (৬)। তাসকিনের গতিতে প্রথম বলেই পরাস্ত মুশফিক (০)। সিলেটের রান ৪ উইকেটে ২২!

মুমিনুল হক (৯) ও নাজমুল (৭) হোসেন ফিরেছেন আফ্রিদিকে কিছুক্ষণ সঙ্গ দিয়েই। শেষে তানভিরের সঙ্গে কার্যকরী একটা জুটি গড়েন আফ্রিদি। ৭ম উইকেটে ৬ ওভারে ৬০ রান তোলেন দুজন।

৩৩ বলে অর্ধশতক স্পর্শ করেন আফ্রিদি। ১৮৬ টি-টোয়েন্টিতে এটি তার মাত্র অষ্টম পঞ্চাশ, আর গত তিন বছরে প্রথম! তানভির ফেরেন ১৬ বলে ১৭ রানে।

১৩৯ রানকে তখন লড়ার মতোই মনে হচ্ছিল। দিনের আগের ম্যাচে ১৪১ রান করে জিতেছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

কে জানত, সিলেটের বোলারদের নিয়ে এভাবে ছেলেখেলা করবেন তামিম-দিলশান!