কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুর পিকেএম বিদ্যালয় : এসএসসির ফরমপূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ, ক্ষোভ

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ, দিনমজুর অভিভাবক কিংবা পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচিত অভিভাবক প্রতিনিধি কারও কথায় কর্ণপাত না করে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে ফরমপূরণে মাত্রাতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছেন কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুর প্রাণকৃষ্ণ স্মারক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার মন্ডল (৪৮)।
সোমবার ওই বিদ্যালয়ে গেলে এসব অভিযোগ করেন ভূক্তভোগী শিক্ষার্থী, একাধিক অতি দরিদ্র অভিভাবক ও সচেতন এলাকাবাসী। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নীলকন্ঠপুর গ্রামের আব্দুল জলিল সরদারের ছেলে সৈকত হোসেন মোহন, বন্দকাটি গ্রামের আব্দুল মজিদের মেয়ে মোবাশ্বেরা আক্তার, একই গ্রামের রাজু আহম্মেদের মেয়ে রোজিনা পারভীন জানান, তাদের নিকট থেকে ফরমফিলাপ বাবদ ২ হাজার ৩৫০ টাকা আদায় করা হয়েছে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী বিষ্ণুপুর গ্রামের সুভাষ চন্দ্র সরদারের মেয়ে অর্পিতা সরদার, মন্টু বিশ্বাসের মেয়ে শিখা বিশ্বাস, বন্দকাটি গ্রামের ফজের আলীর ছেলে আরিফুজ্জামান, শরিফ জালালের মেয়ে ঊর্মি পারভীন, বিষ্ণুপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়ে শাহানারা খাতুন, চাঁচাই গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে মেহেদী হাসানসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তাদের প্রত্যেকের নিকট থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা আদায় করা হয়েছে। অভিভাবক সুভাষ চন্দ্র সরদার ও মন্টু বিশ্বাস জানান, তারা পেশায় দিন মজুর। সংসারের খরচ চালিয়ে অতি কষ্টে মেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। ফরম পূরণের জন্য তাদের কাছে ২ হাজার ২৫০ টাকা নেয়া হয়েছে। কিছু টাকা কম নেয়ার জন্য হেডমাস্টারের কাছে অনেক অনুনয় বিনয় করেছি। কিন্তু কাজ হয়নি। বাধ্য হয়ে সমিতি থেকে সুদে টাকা যোগাড় করে ফরম পূরণ করিয়েছি। ভুক্তভোগী অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করে পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক প্রতিনিধি দেবদাস আঢ্য বলেন, প্রধান শিক্ষক অজয় মন্ডল কারও কথার কর্ণপাত করেন না। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে নিজের মতো করে ফিস্ আদায় করেছেন। এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদেরও রেহাই দেয়া হয়নি। অথচ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (স্পেশাল অরিজিনাল জুরিজডিকেশন) সুয়োমোটো রুল নং- ২৫/২০১৪, তারিখ ০১/০৯/২০১৫ সূত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড যশোর এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র পনি/মাধ্য/৬৩/৮৫ নম্বর স্মারকে প্রতিটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কোন অজুহাতেই বোর্ড নির্ধারিত ফিসের অতিরিক্ত টাকা আদায় না করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন। ২০১৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে বিজ্ঞান বিভাগের জন্য বোর্ড ফিস্ ১ হাজার ১৫৫ টাকা ও কেন্দ্র ফিস ৩০০ টাকা মোট ১ হাজার ৪৫৫ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের জন্য কেন্দ্র ফিস্সহ ১ হাজার ৩৫৫ টাকার বেশী না নেয়ার জন্য শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার মন্ডল জানান, তার বিদ্যালয় থেকে আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৫ জন ছাত্র ও ৫ জন ছাত্রী, মানবিক বিভাগ থেকে ১৩ জন ছাত্র ও ১৫ জন ছাত্রী এবং ব্যবসায় শিক্ষা থেকে ১৬ জন ছাত্র ও ৫ জন ছাত্রী ফরম পূরণ করেছে। তিনি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ২ হাজার ৩৫০ টাকা এবং মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা হারে আদায় করেছেন। মোট ৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ জন শিক্ষার্থী ১ হাজার ৫০০ টাকা হারে দিয়েছেন। মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ না মানার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বলেন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক আরিফ বিল্যাহ সাহেব নিজে এসে ফরম ফিলাপের খোঁজখবর নিয়ে গেছেন। তিনি তো এ বিষয়ে কিছু বলেননি। আপনাদের এত মাথা ব্যাথা কেন?
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূরমোহাম্মদ তেজারত বলেন, কোন ভাবেই বোর্ড ফিসের অতিরিক্ত টাকা নেয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি সকলকে জানানো হয়েছে। কোন প্রতিষ্ঠানের বিপক্ষে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক ভাবে বিষ্ণুপুর পিকেএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজয় মন্ডলের নিকট মোবাইলে খোজখবর নেন। বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে ২৩৫০ টাকা এবং অন্যান্য বিভাগের পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা হারে আদায়ের বিষয়টি প্রধান শিক্ষক স্বীকার করলে তিনি অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ আগামী একদিনের মধ্যে অভিভাবকদের ফেরত দিয়ে তাকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।