যশোর পৌরসভা নির্বাচন : কাউন্সিলর পদে ৪৪ জন প্রার্থীর ৩২ জনের পছন্দ উট পাখি প্রতীক

নিজস্ব প্রতিবেদক:পৌরসভা নির্বাচনে আজ ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। আগামীকাল সোমবার চূড়ান্ত প্রার্থীদের অনুকূলে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। যশোর পৌরসভায় কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রথম পছন্দ উটপাখি। যেকারণে ওই প্রতিক নিয়ে দেখা দিয়েছে বিড়ম্বনা। নির্বাচনে গতকাল পর্যন্ত মেয়র পদে প্রার্থী ছিল ৪ জন। আর কাউন্সিলর পদে রয়েছে ৪৪ জন। মেয়র প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মারুফুল ইসলাম, আওয়ামীলীগের জহিরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কামরুজ্জামান চুন্নু ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহিদুল ইসলাম।
আইন অনুযায়ী আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রার্থীদের মধ্যে একটি ওয়ার্ডে একজনই উটপাখি প্রতীক বরাদ্দ পাবেন। অথচ যশোর সদর পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডের ৪৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩২ জনই তাদের নিজেদের অনুকুলে উটপাখী বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছেন। প্রার্থীদের দাখিল করা মনোনয়নপত্রে এ আবেদন করা হয়েছে। প্রার্থীদের সকলেরই প্রথম পছন্দ উটপাখি।
কাউন্সিলর পদে ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনই উটপাখি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছেন। এরা হলেন বিএম লক্ষ্মী, জাহাঙ্গীর আহমেদ শাকিল, মজিবুর রহমান ও হারুণর রশিদ ফুলু। এ প্রার্থীরা তাদের আবেদন পত্রে উটপাখি প্রতীক নির্বাচন করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। এ ওয়র্ডে শুধুমাত্র বিলকিস সুলতানা সাথি প্রতীক হিসেবে প্রথম পছন্দ দিয়েছেন পানির বোতল ও দ্বিতীয় পছন্দ দিয়েছেন টেবিল ল্যাম্প।
২ নম্বর ওয়ার্ডের ৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনই উটপাখি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছেন। প্রার্থীরা হলেন শেখ সালাউদ্দীন, তপন কুমার ঘোষ ও মহিউদ্দীন। এ ওয়ার্ডে শেখ রাশেদ আব্বাস রাজ পানির বোতল ও মহিউদ্দীন টেবিল ল্যাম্প প্রতীক চেয়ে আবেদন করেছেন। এসএম সাকিল সিদ্দিকী রাজু তার আবেদন পত্রে কোন প্রতীকের নাম উল্লেখ করেনি।
৩ নম্বর ওয়ার্ডে বৈধ ৩ জন প্রার্থীর সবাই উটপাখি চেয়ে আবেদন করেছেন। প্রার্থীরা হলেন কামরুজ্জামান, মোকসিমুল বারি অপু ও মারুফ হোসেন।
৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জন মুস্তাফিজুর রহমান ও রবিউল ইসলাম শাহীন উটপাখি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছেন। অন্য প্রার্থী নুরুল ইসলাম টেবিল ল্যাম্প প্রতীক চেয়ে আবেদন করেছেন।
৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনই উটপাখি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছেন। এরা হলেন রাজিবুল আলম, এহসানুল হক সেতু, সৈয়দ টিপু মাহমুদ জয়, হাফিজুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান ও শাহাজাদা নেওয়াজ। শুধুমাত্র আব্দার রহমান ডালিম অথবা পানির বোতাল প্রতীক চেয়ে আবেদন করেছেন।
৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৫প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনই উটপাখি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছেন। এরা হলেন আলমগীর কবীর সুমন, এসএম আজাহার হোসেন স্বপন, মীর্জা আলমগীর আলম ও অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মুকুল। শুধুমাত্র শেখ ইউনুস আলী চেয়ার অথবা মাছ প্রতীক চেয়ে আবেদন করেছেন। তবে ইসি ঘোষিত কাউন্সিলরদের প্রতীক তালিকায় এ দুটি প্রতীক নাই।
৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনই উটপাখি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছেন। এরা হলেন জুলফিকার আলী, গোলাম মোস্তফা, মহাসিন আলী ও আবু শাহাজালাল। এ ওয়ার্ডে সাজ্জাদ মোস্তফা কোন প্রতীক চেয়ে আবেদন করেননি।
৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন উটপাখি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছেন। এরা হলেন শেখ পিয়ার মোহাম্মদ, মনিরুজ্জামান মাসুম ও প্রদীপ কুমার নাথ বাবলু। এ ওয়ার্ডে সন্তোষ দত্ত টেবিল ল্যাম্প প্রতীক চেয়ে আবেদন করেছেন। অন্য প্রার্থী আমিরুল ইসলাম কান প্রতীক চেয়ে আবেদন করেননি।
৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন উটপাখি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছেন। এরা হলেন কাজী নাজির আহমেদ, নুর ইসলাম খান, আজিজুল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান বাবুল। অন্য প্রার্থী আবু জাফর ব্লাকবোর্ড অথবা পানির বোতল প্রতীক চেয়ে আবেদন করেছেন।
সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরাও প্রতীক নিয়ে বিড়ম্বনায় আছেন। এ প্রার্থী অনেকেই ইসি কর্তৃক ঘোষিত কাঁচি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার ইচ্ছে প্রকাশ করে আবেদন করেছেন। যশোর সদর পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ১২ প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনই কাঁচি প্রতীক চেয়ে আবেদন করেছেন। এরা হলেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনই কাঁচি প্রতীক বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছেন। এরা জলেন সুফিয়া বেগম, কোহিনুর বেগম মণি, আইরিন পারভীন, অর্চনা অধিকারী, রোকেয়া বেগম। শুধুমাত্র রিনি বেগম গ্যাসের চুলা প্রতীক চেয়ে আবেদন করেছেন। ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ প্রার্থীর মধ্যে ২ জন কাঁচি প্রতীক বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছেন। এরা হলেন হাজেরা পারভীন ও রাশিদা রহমান। অন্য দুই প্রার্থী সৈয়দা সামারাতুদ্দৌর মৌমাছি অথবা আঙ্গুর এবং নাছিমা আক্তার জলি আঙ্গুর প্রতীক চেয়ে আবেদন করেছেন। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২ জন প্রার্থী কাঁচি প্রতীক চেয়ে আবেদন করেছেন। এরা হলেন সাবিয়া সুলতানা ও শেখ রোকেয়া পারভীন ডলি।
উটপাখি ও কাঁচি প্রতীক নিয়ে জেলার অন্য পাঁচ পৌরসভারও একই অবস্থা বলে জানা গেছে।
এদিকে ইসি কর্তক ঘোষিত প্রতীক নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা। একই সাথে প্রতীক নিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে প্রার্থীর সমর্থক ও ভোটারদের মাঝে।
কাউন্সিলর পদে প্রতীক গুলো হলো উটপাখি, গাজর, টিউবলাইট, টেবিল ল্যাম্প, ডালিম, ঢেঁড়স, পাঞ্জাবি, পানির বোতল, ফাইল কেবিনেট, ব্রিজ, ব্ল্যাকবোর্ড ও স্ক্রু ডাইভার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন প্রার্থী জানান, গাজর, ঢেঁড়শ, টিউবলাইট, পানির বোতল নিয়ে নির্বাচন করা খুবই কঠিন। কারণ ছবিতে এগুলোকে প্রায় একই রকমই মনে হচ্ছে। তারা সকলেই বলেছেন একমাত্র উটপাখি ছাড়া সব প্রতীকগুলোই ঝামেলা মনে হচ্ছে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মেয়র কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর এই তিন পদের জন্য ৪০ জনের জন্য ৪০টি প্রতীক সংক্ষরণ করা হয়েছে। এগুলো হলো ছাতা, বাইসাইকেল, চাকা, গামছা, কাস্তে, নৌকা, ধানের শীষ, কবুতর, কুঁড়ে ঘর, হাতুড়ি, কুলা, লাঙ্গল, মশাল, তারা, গোলাপ ফুল, মই, গরুর গাড়ি, ফুলের মালা, বটগাছ, হারিকেন, আম, খেজুর গাছ, উদীয়মান সূর্য, মাছ, বাঘ, গাভি, কাঁঠাল, চাবি, চেয়ার, হাত ঘড়ি, মিনার, রিকশা, হাত পাখা, মোমবাতি, হুক্কা, কোদাল, দেওয়াল ঘড়ি, হাত (পাঞ্জা), ছড়ি ও টেলিভিশন।
স্বতন্ত্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য পৌরসভা নির্বাচনের মেয়র পদে ১২টি, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের জন্য ১০টি এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদের জন্য ১২টি প্রতীক সংরক্ষণ করা হচ্ছে। মেয়র পদের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীকগুলো হলো ইস্ত্রি, কম্পিউটার, ক্যারামবোর্ড, চামচ, জগ, টাই, নারিকেল গাছ, বড়শি, মোবাইল ফোন, রেল ইঞ্জিন, হ্যাঙ্গার ও হেলমেট।
সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীকগুলো হলো আঙ্গুর, কাঁচি, গ্যাসের চুলা, চকলেট, চুড়ি, পুতুল, ফ্রগ, ভ্যানেটি ব্যাগ, মৌমাছি ও হারমোনিয়াম।