হিলিয়াম প্লাজমা: নিউক্লিয়ার ফিউশনে ‘নতুন আশা’

নিউজ ডেস্ক:নিউক্লিয়ার ফিউশনের মাধ্যমে জার্মানির একদল গবেষক একটি বিশেষ গ্যাস তৈরি করেছে, যাকে সহজলভ্য শক্তির উৎস হিসেবে এগিয়ে রাখছেন তারা।

ওই গ্যাসের হিলিয়াম প্লাজমা নামের কণিকা এক দশমাংস সেকেন্ডে এক মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ ধারণ করতে পারে।

বিবিসি জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের স্টেলারেটর গবেষণাগারে বৃহস্পতিবার ‘হিলিয়াম প্লাজমা’ নামে উচ্চ তাপমাত্রাসম্পন্ন ওই কণা প্রথমবারের মতো উৎপাদিত হয়।

গবেষণাগারটি জার্মান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত। একই বিষয়ে গবেষণা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ইটার’।

এতে তোকামাক (রাশিয়ান শব্দ; অর্থ- গোলাকার চৌম্বকক্ষেত্র) ফিউশন ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। ১০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি ব্যয়ে চলমান ‘ইটার’ এর গবেষণা ২০২০ এ শেষ হবে।

তবে স্টেলারেটরের গবেষণাগারে ‘তোকামাক ফিউশন ডিভাইস’ ব্যবহার করা হয়নি; ব্যবহৃত হয়েছে ‘ওয়েন্ডেলস্টেইন ৭-এক্স’। এতে মাইক্রোওয়েভ লেজার, জটিল চৌম্বক সংমিশ্রণ ও ১০ মিলিগ্রাম হিলিয়াম ব্যবহার করে ফিউশন সৃষ্টি করা হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

এজন্য সময় লেগেছে ৯ বছর, খরচ হয়েছে কমপক্ষে এক বিলিয়ন ইউরো।

স্টেলারেটর গবেষকদল জানিয়েছে, তারা আগামী কয়েকবছরের মধ্যেই হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস থেকে ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস ধারণক্ষম পদার্থ উৎপাদনে কাজ শুরু করবেন, যা থেকে সূর্যের অভ্যন্তরের ফিউশনের অনুরূপ আবহ পাওয়া যাবে।

এজন্য ডিউটোরিয়াম কিংবা হাইড্রোজেনের কোনো একটি ভারি আইসোটোপ ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিজ্ঞানীরা সূর্যের মতো একটি স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য ‘ফিউশনের আবহ’ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা কেবল প্রচুর শক্তিই বিকিরণ করবে না, ফিউশনের কারণে সৃষ্ট ‘বিষাক্ত বর্জ্য’ মুক্ত হবে।

স্টেলারেটর নতুন এ আবিষ্কার ‘সস্তা ও স্বচ্ছ শক্তি’র এ আশা বাঁচিয়ে রাখবে বলে বিজ্ঞানীদের আশা।

যদিও অনেকে বলছেন, এত বছরের গবেষণার পর কেবলমাত্র ‘উচ্চ তাপমাত্রাসম্পন্ন ক্ষণস্থায়ী কণা তৈরি করতে পারা’ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির নমুনা হতে পারে না।