আদালতে জবানবন্দি: অভয়নগরের হিদিয়া গ্রামের গৃহবধূ রিমাকে তার স্বামী ও ভাসুর ভারতে পাচার করেছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরের অভয়নগরের হিদিয়া গ্রামের গৃহবধূ ভারতে পাচারের শিকার রিমা খাতুন দেশে ফিরে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। কাজের কথা বলে তার স্বামী ও ভাসুর ভারতে নিয়ে দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি চিৎকার দিলে সেখানকার স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। রোববার আদালতে দেয়া এ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক মো:শাজাহান আলী রিমাকে তার পিতার জিম্মায় দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০০৯ সালে একই গ্রামের রুহুল আমিন শেখ রিমা খাতুনকে বিয়ে করে। তার একটি ৪ বছরের সন্তান আছে। অভাবের সংসারে ভারতে কাজে যাওয়ার কথা বলে তার স্বামী। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে রুহুল আমিন ও তার ভাই সালেহিন রিমা খাতুন কে ভারতে নিয়ে যায়। এরপর তারা রিমাকে দালালের কাছে বিক্রি করে দেশে পালিয়ে আসে। রুহুললের কাছে রিমার পিতা সংবাদ জানতে চাইলে এলোমেলো কথা বলে। রিমাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বললে তারা ঘোরাতে থাকে। একপর্যায়ে রিমাকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে তার পিতা রফিজ উদ্দিন বাদী হয়ে রুহুল আমিন ও তার ভাই সালেহিনকে আসামি করে গত ৯ নভেম্বর অভয়নগর থানায় মামলা করেন। গত ১৭ ডিসেম্বর রিমা চৌগাছ সিমান্ত দিয়ে দেশে ফিরে আসে। গতকাল তাকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারকের কাছে জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে রিমা খাতুন জানিয়েছে, কাজের কথা বলে তার স্বামী ও ভাসুর অক্টোবর মাসে ভারতে নিয়ে যায়। এরপর তারা তাকে দালালের কাছে বিক্রি করে পালিয়ে দেশে চলে আসে। দাললরা তাকে তাদের কাছে বিক্রির বিষয়টি জানালে সে চিৎকার দিয়ে দৌড় দিলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে দেয়। পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগ মামলা দিয়ে আটকে রাখে। গত ১৭ ডিসেম্বর জেল থেকে মুক্তি পেলে ভারতীয় পুলিশ তাকে চৌগাছা সিমান্তে এনে ছেড়ে দেয়। রিমা খাতুন সিমান্ত পার হয়ে বাড়ির লোকজনের সাথে যোগাযোগ করলে তাকে বাড়ি নিয়ে যায়। তিনি তার স্বামী ও ভাসুরের শাস্তি দাবি করেছেন জবানবন্দিতে।