দাকোপ পৌরসভা নির্বাচন লড়াই হবে নৌকা-জগে

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপ:
আগামীর নানা উন্নয়নের ফুলঝুরি আর আধুনিক পৌরসভা উপহারের স্বপ্ন দেখিয়ে চালনা পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীগণ দিনরাত ছুটে চলেছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই যেন উত্তাপ উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে নির্বাচনের মাঠে। চায়ের দোকান থেকে ঘরের আঙিনা সবখানে একই আলোচনা কে হচ্ছেন আগামীর চালনা পৌর মেয়র।
২০০৪ সালের ১৩ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত চালনা পৌরসভায় প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি। ওই নির্বাচনে বর্তমান মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অধ্যক্ষ ড. অচিন্ত্য কুমার মন্ডল জনমতের সকল অনুমেয় হিসেব বদলে দিয়ে আ.লীগের তৎকালীন বিদ্রোহী প্রার্থী সনত কুমার বিশ্বাসকে ৫৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অচিন্ত্য কুমার মন্ডল। কিন্তু তার বিপরীতে আ.লীগের ঘাটি খ্যাত চালনা পৌরসভায় নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন গত নির্বাচনে মাত্র ৫৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত প্রার্থী সনত কুমার বিশ্বাস। অপর প্রার্থী বিএনপির পক্ষে ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন পৌর বিএনপির আহবায়ক শেখ আব্দুল মান্নান। আ.লীগ ও বিএনপির বাইরে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ৩ জন এবং সিপিবির ১ জন কাউন্সিলর প্রার্থী থাকলেও জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত কেউ কোন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসেনি। এখানে প্রকাশ্যে আ.লীগে কোন গ্র“পিং না থাকলেও দলের উপজেলা সভাপতির একক নেতৃত্ব কারো কারো কাছে যেন অন্তর জ্বালা। একই সাথে দল থেকে বহিস্কৃত অংশটি অবস্থান নিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে। যে কারনে মূল লড়াইটি নৌকা আর জগের সাথে হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে নৌকার দুর্গে জগ প্রতীক কতদুর সফল হয় সেটি এখন দেখার বিষয়। পক্ষান্তরে ধানের শীষের পক্ষে জেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতৃত্ব প্রচারণায় মাঠে নামলেও সাধারণ ভোটারদের মাঝে তারা এখন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় আসেনি। তবে সময় গড়ানোর সাথে সাথে পাল্টে যেতে পারে ভোটের বর্তমান হিসেব নিকেশ। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের ব্যস্ততা ততই যেন বেড়ে চলেছে। ইতিমধ্যে চালনা পৌরসভাটি ‘খ’ শ্রেণীতে উন্নিত হলেও নাগরিক সেবার মান শূন্যের কোটায়। সমগ্র পৌরসভা এখন পর্যন্ত ইট সোলিং রাস্তার আওতায় আসেনি। বাজার কেন্দ্রিক যৎসামান্য পিচ ঢালাই রাস্তা আছে, নেই কোন ড্রেনেজ ও সড়ক বাতির ব্যবস্থা। সুপেয় পানি এখন প্রতিশ্র“তির স্বপ্নের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। পক্ষান্তরে বিগত দিনে জনবল নিয়োগ ও টেন্ডার ব্যবস্থায় ব্যাপক দুর্নীতি অনিয়মের বিষয়টি বহুল আলোচিত। এবারের নির্বাচনে ৩ মেয়র প্রার্থীর সাথে ৯ সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও ৩৩ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীর জন্য মোট ভোটার সংখ্যা ১০৭১৬। যার মধ্যে ৫৩১৩ পুরুষ ভোটারের বিপরীতে নারী ভোটার সংখ্যা ৫৪০৩।