আমি সেবক থাকতে চাই: শেখ হাসিনা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক:মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে দেশবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান ধর্মাম্বলীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি নিজের প্রসঙ্গে বলেছেন, “আমি মানুষের সেবক হিসাবে থাকতে চাই।

“ক্ষমতায় যেয়ে নিজের ভাগ্য গড়া- সেই মানসিকতা আমাদের নেই।”

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণভবনে এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সব খ্রিস্টানদের বড় দিনের শুভেচ্ছা জানান সরকার প্রধান।

দেশের উন্নয়নে সবার সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, “এই দেশ সকলের। সকল ধর্মের মানুষের রক্ত মিশে আছে এই মাটিতে। সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিল।”

সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন,“ধর্ম যার যার, উৎসব সকলের।”

নির্দিষ্ট সময়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন,“এই দেশ আমরা স্বাধীন করেছি। আমরা পিছিয়ে থাকব না, এগিয়ে যাব।”

২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার।

“২০২১ সালের মধ্যে প্রতিটি ঘরে আলো জ্বালাব। এখন দেশের ৭৫ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে,” বলেন শেখ হাসিনা।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কারও অন্যায়-আবদার আমরা মাথা পেতে নেব না।”

পদ্মা সেতু নির্মাণে ২০১১ সালে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি হলেও পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি ঝুলে যায়। দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে বিশ্ব ব্যাংককে বাদ দিয়ে এই সেতু তৈরি হচ্ছে এখন।

“আমরা প্রতিবাদ করেছি। আমরা নিজেরাই পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করেছি। আমরা অসাধ্য সাধন করেছি। এতে আত্মবিশ্বাসও বাড়ে,” বলেন শেখ হাসিনা।

জনগণের কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে বাধাবিঘ্নের মুখোমুখি হওয়ার কথাও বলেন তিনি।

২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতাসীন হওয়ার পর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, তখনই সকল ধর্মের মানুষের ওপর অত্যাচার শুরু হয়।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব নির্মল রোজারিও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিনকে পূর্ণ মন্ত্রী করার অনুরোধ করেন।

প্রধানমন্ত্রী এর পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, মন্ত্রিপরিষদ রদবদলের সময় তিনি এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখবেন।

বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রমোদ মানকিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান এবং আর্চ বিশপ প্যাট্রিক ডি রোজারিও বক্তব্য রাখেন।

পরে সবাইকে নিয়ে বড়দিনের কেক কাটেন প্রধানমন্ত্রী।