কলেজ শিক্ষকদের বদলির আবেদন অনলাইনে

স্পন্দন ডেস্ক:মন্ত্রণালয়ে চাপ কমাতে নতুন বছরে সরকারি কলেজ শিক্ষকদের বদলির আবেদন অনলাইনে জমা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাস শুরুর প্রথম পাঁচ দিনের মধ্যে এই আবেদন জমা দিতে হবে শিক্ষকদের।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (কলেজ) মোল্লা জালাল উদ্দিন সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষকদের বদলির আবেদন নিয়ে যেন ঢাকায় আসতে না হয় সেজন্য অনলাইনে বদলির আবেদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতি মাসে এক থেকে পাঁচ তারিখ অনলাইনে বদলির আবেদন জমা দেওয়া যাবে। বদলির আবদনের একটি ফরম্যাটও তৈরি করা হয়েছে।
“ওই ফরম্যাট অনুযায়ী আবেদন জমা দিতে হবে। কোন শিক্ষক কোন কলেজে বদলি হতে চান তাও আবেদনে উল্লেখ করা যাবে।”
যুগ্ম সচিব জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত একটি কমিটি সব শিক্ষকের বদলির আবেদন নিয়ে বৈঠক করে বদলির তালিকা চূড়ান্ত করবে। নির্দিষ্ট মাসের বদলির আবেদন ওই মাসেই নিষ্পত্তি করা হবে।
বর্তমানে সরকারি কলেজের শিক্ষকদের বদলি হওয়ার জন্য হাতে লেখা আবেদন নিয়ে মন্ত্রণালয় বা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) আসতে হয়।
মাউশির হাতে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদের কিছু কর্মকর্তাকে বদলির ক্ষমতা থাকলেও সহযোগী অধ্যাপক থেকে শিক্ষা ক্যাডারের ঊর্ধ্বতন সব কর্মকর্তার বদলি করে মন্ত্রণালয়।
এছাড়া ঢাকা মহানগরের সব কলেজের শিক্ষক বদলির ক্ষমতাও মন্ত্রণালায়ের হাতে।
সারা বছর ধরেই শিক্ষক বদলির কার্যক্রম চলায় পছন্দের কলেজে বদলি হতে মন্ত্রণালয়ে ভিড় করেন শিক্ষকরা। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষক বদলিতে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
যুগ্ম সচিব মোল্লা জালাল বলেন, “মন্ত্রণালয়ে মাঝেমাঝে শিক্ষকদের ভিড় দেখলে মনে হয় শুধু শিক্ষক বদলি করাই এই মন্ত্রণালয়ের কাজ।”
অনলাইনে বদলির আবেদন জমা দেওয়ায় সুযোগ মেলায় শিক্ষকদের কষ্ট করে আর ঢাকার আসাতে হবে না বলেও জানান তিনি।
মোল্লা জালাল বলেন, বর্তমানে শিক্ষক বদলির আবেদনের ফাইলগুলো এক কর্মকর্তার দপ্তর থেকে আরেক কর্মকর্তার দপ্তরে পাঠাতে হয়। নতুন পদ্ধতিতে অনলাইনে আবেদন সংগ্রহ করে কমিটির সদস্যরা একসঙ্গে বসে বদলির আবেদনগুলো বিবেচনা করবেন।
সরকারি কলেজের শিক্ষকরা তাদের আইডি কার্ড দেখিয়ে সচিবালেয়ে প্রবেশ করতে পারেন না। কারও কাছ থেকে পাস সংগ্রহ করে তাদের সচিবালয়ে ঢুকতে হয়।
যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব; মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং সচিবদের একান্ত সচিবরা একেকজন দিনে (সোমবার ব্যতিত) ১০টি করে পাস ইস্যু করতে পারবতেন।

প্রতিদিন ১০ হাজার পাস ইস্যুর ফলে সচিবালয়ের কর্মপরিবেশ নষ্টের পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে গত ২৪ নভেম্বর থেকে একজন কর্মকর্তা ১০টির পরিবর্তে পাঁচটি পাস ইস্যু করতে পারবে বলে আদেশ জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।