চৌগাছায় নৌকা ঠেকাতে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে সন্ত্রাসী চক্রের অপতৎপরতা

বিল্লাল হোসেন:যশোরের চৌগাছা পৌরসভার নির্বাচন আজ ৩০ ডিসেম্বর। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী নৌকা প্রতীকের নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেলকে পরাজিত করতে বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম সাইফুর রহমান বাবুলের পক্ষে একটি সন্ত্রাসী চক্রের অপতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই সন্ত্রাসীরা নৌকা প্রতীকে ভোট না দেয়ার জন্য ভোটারদের হুমকি ধামকি দিয়ে চলেছে। ফলে সাধারণ ভোটাররা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, নৌকার পরাজয় নিশ্চিত করতে ভোটের দিন ওই সন্ত্রাসীরা কেন্দ্রে কেন্দ্রে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় থাকবে। বিশেষ করে বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম সাইফুর রহমান বাবুলের নিজ এলাকা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী মর্ত্তুজা আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচনামনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি দখল করে নেয়ার পরামর্শ করেছে সন্ত্রাসীরা। সূত্র জানায়, তাদের প্রধান টার্গেট এসএম সাইফুর রহমান বাবুলের নারকেল গাছ প্রতীকের পক্ষে ভোট ডাকাতি করে নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেলের নৌকা প্রতীককে হারিয়ে দেয়া। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ইদানীং চৌগাছা উপজেলার ফুলশারা সিংহঝুলী, জগনাথপুর, কাবিলপুর, মাশিলা, পাশাপোলসহ বিভিন্ন গ্রামের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের জড়ো করেছে বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম সাইফুর রহমান বাবুল ও তার অনুসারীরা। এসব সন্ত্রাসীরা কয়েকদিন ধরে চৌগাছা বাজারসহ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় মহড়া দিচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভোটার জানিয়েছেন, ওই সব সন্ত্রাসীর সাথে থাকছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন বিতর্কিত নেতাও। তারা এসএম সাইফুর রহমান বাবুলের নারকেল গাছ প্রতীকে ভোট চাওয়ার সময় নৌকা প্রতীকে ভোট না দিতে সরাসরি ভোটারদের হুমকি দিয়েছে। ফলে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ভীতিকর পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। তারা ভোটের মাঠে যাওয়া নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। আরো কয়েকজন ভোটার বলেছেন, প্রচারণা শেষ হওয়ার পর থেকে সন্ত্রাসী চক্র বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গোপনে প্রবেশ করছে। তারা ভোটারদের পূর্বের হুমকির কথা রীতিমতো স্মারণ করে দিচ্ছে। নৌকা প্রতীককে পরাজিত করতে ওই চক্র উঠে পড়ে লেগেছে। এদিকে, অভিযোগ উঠেছে বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম সাইফুর রহমান বাবুল ও তার চাচা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে নারকেল গাছ প্রতীকে ভোট ডাকাতি করার জন্য কোন কেন্দ্রে কারা কারা অবস্থান কারবে তা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়ায় ভোটাররা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। কথা হয় আওয়ামী লীগের সমর্থক ও পৌরসভার ভোটার আলাউদ্দিন, মেহেদি হাসান সাগর ও আব্দুর রহিমের সাথে। তারা দৈনিক স্পন্দনকে জানিয়েছেন, তাদের মতো যারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে দল করেন। তারা কোনো প্রকার হুমকি ধামকিকে পরোয়া না করে অবশ্যই নৌকা প্রতীকে ভোট দেবেন। আওয়মাী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী নৌকা প্রতীকের নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের জোয়ার উঠেছে। নৌকা প্রতীককে মনে প্রাণে ভালোবেসে মানুষ আমাকে সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে কোনো হুমকিকে তারা ভয় করবেন না। জনগণ ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে অবশ্যই কেন্দ্রে যাবেন ও নৌকায় ভোট দেবেন। সাধারণ মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের হুমকি ধামকির জবাব দেবেন। চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াস হোসেন বলেছেন, কেউ যাতে কোনো ভোট কেন্দ্রে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে এ ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা সজাগ থাকবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা সুষমা সুলতানা বলেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কেউ ভোটে অনিয়ম করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডরোধে ও মানুষ যাতে নির্বিঘেœ ভোট কেন্দ্রে আসতে পারে এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ভূমিকায় থাকবে।