বালু হত্যা, পুলিশের দায়সারা চার্জশিট এবং সাংবাদিকদের প্রত্যাখ্যান

এস এম জাহিদ হোসেন >
২১শে জুন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসের আলোচনা সভায় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মামুন রেজা বক্তৃতা দেয়ার সময় জানালেন বিষয়টি। সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু ভাই হত্যাকান্ডের বিষ্ফোরক অংশের মামলার চাজর্শিট দেয়া হয়েছে গত ডিসেম্বরে। মামলার সর্বশেষ তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা সিআইডি’র এএসপি শাহাদাত হোসেন চুপিসারে সাংবাদিকদের অগোচরে আদালতে দায়সারা গোছের চার্জশিট দাখিল করেছেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে দায়সারা গোছের এ চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করেছি।
আশাকরি, আগামী ২৭শে জুন বালু ভাই’র হত্যাবার্ষিকীর একযুগ পূর্তিতে খুলনা প্রেস ক্লাবও দায়সারা এ চার্জশীট প্রত্যাখ্যান করবে। খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলন কর্মসূচী দিয়েছে। ২৭শে জুন প্রেস ক্লাবের শহীদ সাংবাদিক স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে স্মরণসভা শেষে দুপুর ১২ টায় ক্লাবের সামনে মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
আমরা পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর পরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সাংবাদিক হত্যাকান্ড : ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও সাংবাদিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করবো। খুলনার জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের পেশাজীবীদের আমরা আমন্ত্রণ জানাবো।
যাঁরা বালু ভাইকে ভালবাসেন, দেখা হলে বলেন, বালু ভাই একজন পরোপকারি ও সাহসী নেতা ছিলেন, এমন নেতা আমরা আর পাব না, তাঁদের বলবো, আপনারা মানব বন্ধনে আসুন। পরিকল্পনাকারী, অর্থযোগান দাতাদের নাম বাদ দিয়ে দায়সারা গোছের এ চার্জশীটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে যাবেন।
গত বছর বালু ভাইয়ের ১১তম হত্যাবার্ষিকীর আগে খুলনার সাংবাদিকেরা সিআইডি অফিসে এএসপি শাহাদাত হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তাঁর মামলার সর্বশেষ অবস্থা এবং তদন্তে হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারী ও অর্থযোগান দাতাসহ খুনিদের বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট দিতে আহবান জানিয়েছিলেন। তিনি হত্যাকারীসহ পরিকল্পনাকারী ও অর্থযোগান দাতাদের খুঁজে বের করে চার্জশীট দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রায় ৬ মাস পরে দায়সারা গোছের এ চার্জশিট আমরা কিভাবে গ্রহণ করবো?
এর আগে বালুভাই হত্যা মামলার বিচারে সব আসামী খালাস পেলে পরিবার ও খুলনার সাংবাদিক সমাজ সে রায় প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাঁরা এ হত্যা মামলার পূণ:তদস্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার দাবী জানিয়েছিলেন। কিন্তু সে দাবী আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
বালু হত্যাকান্ডের পর আমাদের পরিবারের সদস্যরা শোকাহত ছিলেন। খুলনার সাংবাদিক সমাজ দাবী তুলেছিলেন ’আমরা বিচার পাইনা, তাই বিচার চাইনা’। সাংবাদিকদের ডাকে খুলনায় স্বতঃস্ফুর্ত হরতাল পালিত হয়েছিল। সাংবাদিকরা রাজপথে কলম ভেঙেছিলেন। সে সময়ের বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা খুলনায় ছুটে এসেছিলেন। সাংবাদিক সমাজ, পরিবারের সদস্য ও শহীদ হাদিস পার্কের জনসভায় তিনি বলেছিলেন, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে মানিক সাহা ও হুমায়ুন কবীর বালু হত্যার বিচার হবে। পরিকল্পনাকারী, অর্থযোগানাতা ও খুনীরা কেউ রেহাই পাবে না।
বালু হত্যা মামলার বিচারে আসামীরা সবাই খালাস পেয়েছে। বিচারক তাঁর রায়ের পর্যালোচনায় বলেছেন, দুর্বল তদন্ত, ত্রটিপুর্ণ চার্জশীট ও উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রদানে ব্যর্থতার কারণে আসামীদের খালাস দেয়া হ’লো।
হত্যাকান্ডের বিষ্ফোরক অংশের মামলায় একইভাবে পুলিশের দায় এড়ানো, দুর্বল ও দায়সারা চার্জশীট আমাদের হতাশ করেছে।
খুলনার সাংবাদিকেরা বিগত কয়েক বছর ধরে বালু হত্যা মামলার পুন:তদন্ত করে ন্যায় বিচার ও মানিক সাহা হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবী করেছেন। এ দাবী আজও পূরণ হয়নি। দাবী মানা হবে কিনা আমরা জানিনা। সর্বশেষ ২০১৫ সালে খুলনার সাংবাদিকদের দাবীর প্রেক্ষিতে বালু ও মানিক সাহা হত্যা মামলা জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে মনিটরিং সেলে অন্তর্ভূক্ত করা হলো। জেলা পুলিশের তৎকালীন একজন মহিলা কর্মকর্তাকে বিষয়টি মনিটরিং এর দায়িত্ব দেয়া হলো। পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে তিনি আমার বক্তব্য রেকর্ড করেছিলেন। পরবর্তীতে এটি কতদূর এগিয়েছিল সেটি আমরা আজো জানতে পারিনি।
নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয়া হুমায়ুন কবীর বালু ছেলেবেলা থেকে বন্ধুবৎসল, পরোপকারি, সাহসী ও স্বাধীনচেতা ছিলেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও ষাটের দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা বালুকে সবাই ভালবাসতেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রামের আন্দোলনে খুলনায় বালু ছিলেন রাজপথের একজন অগ্রণী সৈনিক। খুলনায় স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনে বালু ভাইকে যুগ্ম-আহবায়ক করা হলো। খুলনা শহরে ছাত্র আন্দোলনে বালু ভাই সামনের সারির নেতা হিসেবে নের্তৃত্ব দিয়েছেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে গোপালগঞ্জে ফুফাতো ভাই আরেক তুখোড় ছাত্রনেতা খসরু ভাইয়ের ডাকে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিতে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কোন এক রাতে বড় ভাইকে সাথে নিয়ে বাড়ি ছাড়েন। গোপালগঞ্জ যাওয়ার পথে তেরখাদার আজোগড়ায় রাজাকার বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যাওয়া অনেক যুবকের সাথে দু’ভাইকে বেধে আঠারোবেকী নদীর পাড়ে জড়ো করা হলো। রাতের আঁধারে যুবকদের ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হ’লো। সবাই মৃত ভেবে লাশ ফেলা হ’লো আঠারোবেকি নদীতে। সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে সেদিন বেঁচে যান দু’সহোদর।
স্বাধীন চেতা সাহসী এই ছাত্রনেতা বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের পর দেশ গড়ার কাজে নিজেকে মনোনিবেশ করেন। মহৎ হিসেবে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে যখন নিজেকে তৈরী করছিলেন, তখন বালু ভাই’র জীবনে নেমে আসে আবারো মৃত্যু আঘাত।
ইকবাল নগর বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে রহমান সাহেবের বস্তি বলে পরিচিত বাড়িতে নি¤œ আয়ের মানুষেরা ভাড়া থাকতেন। কিছু যুবক প্রায়ই রাতের বেলা এখানে আসতেন। সেখানে অনৈতিক কর্মকান্ড হয় অভিযোগ করে পাড়ার যুবকেরা বালু ভাইয়ের কাছে বিচার দিলেন। প্রতিবাদী বালু কোন এক রাতে খবর পেয়ে ছুটে গেলেন সেখানে। কয়েকজনকে মারধোর করলেন। তারা শাসিয়ে গেলেন বালুকে দেখে নেবেন। হুমকি অনুযায়ী একদিন পর স্বাধীন দেশের সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য বাড়িতে এসে শুরু করে দিলেন ভয়াবহ তান্ডব। তাদের তান্ডব সেদিন পাকবাহিনীর তান্ডবকেও হার মানিয়েছিল। বৃদ্ধ দাদা, বাবা থেকে শুরু করে বাড়ির নারী সদস্যরাও সেদিন তাদের নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পায়নি। তারা বালুকে খুঁজছেন। সাক্ষাৎ মৃত্যুদূতের হাত থেকে প্রিয় মা লুকিয়ে রেখেছিল ছেলেকে। প্রতিবাদি বালু বেরিয়ে এসে বললেন আমি-ই বালু। শুরু হলো বুট দিয়ে নির্যাতন। মারতে মারতে গাড়িতে তোলা হলো। গাড়ি চললো ক্যান্টনমেন্টের উদ্দেশে। মৃত মনে করে জোড়াগেটের কাছে গাড়ি থেকে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়া হলো বালুকে। ভোরের দিকে স্থানীয় এক/দুইজন দারোয়ান দেহে প্রাণ আছে জেনে অচেনা ব্যক্তিটিকে নিয়ে এলেন খুলনা জেনারেল হাসপাতালে। ততক্ষণে সারা খুলনা গর্জে উঠেছে। আওয়ামীলীগ নেতা, মুক্তিযোদ্ধাদের চিৎকার বালু কোথায়। বঙ্গবন্ধুর কানে খবর পৌঁছালো। তিনি নির্দেশ দিলেন ৪৮ ঘন্টার মধ্যে জীবীত বালুকে চাই। দুপুর নাগাদ খবর পাওযা গেল বালু বেঁচে আছেন হাসপাতালে।
সুস্থ হয়ে বালু ভাই দেখা করলেন বঙ্গবন্ধুর সাথে। বালুভাইকে বঙ্গবন্ধু বললেন, তুই কি চাস? বিচার চাই বঙ্গবন্ধু। তিনি বিচার করলেন। দোষীরা শাস্তি পেল।
দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকা ছিল তাঁর জান, ধ্যান-জ্ঞান। সাংবাদিক ও কর্মচারিদের নিজের সন্তানের মত ভালবাসতেন তিনি। অন্য মালিক সম্পাদকদের মত তিনি পত্রিকা নিবিড় তত্বাবধান করতেন না। ১৯৮৯ সালে ঈদুল ফিতরের আগে সাংবাদিকদের বেতন ও উৎসব ভাতা দিতে হবে। বালু ভাইয়ের হাতে টাকা নেই। ঢাকার ব্যুরো চীপ (বর্তমানে বঙ্গজননী পত্রিকার মালিক-সম্পাদক) কামরুজ্জামান জানালো স্যার ডিএফপি থেকে মাত্র ৩০,০০০ টাকার বিল পেয়েছি। আমাকে সদ্য সাংবাদিকতায় এনে বালু ভাই পিআইবি’র ট্রেনিং-এ ঢাকা পাঠিয়েছিলেন। টেলিফোনে বললেন, আসার সময় টাকাটা আনতে। এত অল্প টাকায় বেতন-ই হয়না। ক’জনকে বোনাস দিবেন। অবশেষে লোন করে এনে কর্মচারীদের অল্প হলেও ঈদ উৎসব ভাতা দিতে পেরে তাকে টেনশনমুক্ত ও খুশী হতে দেখেছি।
দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের বিভিন্ন চরমপন্থীদের চাঁদার হাত থেকে বাঁচতে খুলনার অনেক নামী চিকিৎসক-ব্যবসায়ী বালু ভাই’র কাছে প্রতিকার পেতে আসতেন। তিনি পুলিশ প্রশাসনের লোকদের জানাতেন। প্রতিকার চাইতেন। জস্মভূমি ও রাজপথের দাবী সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে ছিল হাতিয়ার। কেউ যখন সাহস পেত না তখন বালু ভাইয়ের পত্রিকায় ওদের বিরুদ্ধে সংবাদ ছাপা হতো। এজন্য তাঁকে চিঠি ও কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হুমকি দেয়া হয়। টেলিফোনে হুমকি দিত। বালু ভাই চিৎকার করে বলতেন কাপুরুষেরা সাহস থাকে সামনে এসে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা কর।
বালু ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যার পর কারা চরমপন্থীর নামে দু’একটি পত্রিকায় তাঁকে শ্রেণী শত্রু বানিয়ে ফ্যাক্স পাঠালো তা’ আজো খুলনার সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন হয়ে আছে। এর জবাবও কখনো পাওয়া গেল না।
আশির শেষ ও নব্বই দশকের গোড়ার দিকে অনেক কিছু দেখেছি। আওয়ামীলীগ তখন বিরোধীদলে। দলে আছে নানামূখি গ্রুপিং। বালুভাইকে দেখতাম এসব মেটাতে প্রায় প্রতিরাতে অফিসের ছাদের পরে বৈঠক করতেন। কখনো বা তিনি চলে যেতেন অন্য নেতাদের বাড়িতে। এমদাদ মামা (মোল্লা এমদাদ), মানি ভাইজান ( সামছুর রহমান মানি), এ্যাড: মঞ্জুরুল ইমাম, মন্নুজান ভাবী (মন্নুজান সুফিয়ান এমপি), হারুন ভাই ( শেখ হারুন-উর-রশীদ), খালেক ভাই ( আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি), সুজা ভাই ( এস এম মোস্তফা রশীদী এমপি)সহ আরো অনেকের সাথে আলোচনায় সমন্বয়কের অগ্রণী ভুমিকায় থাকতেন বালু ভাই। সেই সাথে আরো দেখতাম হিরণ ভাই (মাহবুব আলম হিরণ), শহীদ ভাই (শহীদুল হক), মোস্তফা ভাই (মোস্তজাবুল হক মোস্তফা) সহ আরো অনেককে। যুবকদের মধ্যে মিজান চাচা (আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান এমপি), বিথার ভাই (শহীদ ইকবাল বিথার) সহ আরো অনেককে আলোচনার প্রয়োজনে ডেকে পাঠাতেন।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যার পর সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে দিলেও হুলিয়া থাকায় প্রায় এক বছর আত্মগোপনে ছিলেন বালু ভাই। রুমা ভাবীকে বিযের পর মাত্র কয়েক বছরে পত্রিকাকে সাপ্তাহিক থেকে দৈনিকে রুপান্তর করলেন। সক্রিয় রাজনীতিতে না থেকেও আওয়ামীলীগকে খুলনাঞ্চলে সংগঠিত করতে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন বালু ভাই। সেই দল আজ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। হুমায়ুন কবীর বালুর হত্যার পুন:তদন্ত ও ন্যায় বিচার পেতে দলের নেতাদের কি আজ কিছুই করণীয় নেই?
রুমা ভাবীর অকাল মৃত্যুর পর বালু ভাইকে ভেঙ্গে পড়তে দেখেছি। সবকিছু সামলে নিয়ে আবার স্বাভাবিক হয়েছেন। আরা ভাবীর মৃত্যুর পর তিনি ভেঙ্গে পড়েন এবং সবকিছু থেকে নিজেকে গুটাতে থাকেন। জিলা স্কুলের একজন শিক্ষক বিনা অপরাধে বেত দিয়ে মা মরা ছেলে শিশু আশিককে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলে তিনি বিছানায় ফুপিয়ে কেঁদেছেন। বাঘের মত সাহস আর সিংহের মত গর্জন যে ভাইয়ের তাঁকে কাঁদতে দেখে আমি অবাক হয়েছি।
২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারী মানিক সাহাকে বোমা মেরে হত্যার পর বালু ভাইকে ফোন দিলে ওপাশ থেকে তিনি চিৎকার দিয়ে বলতে থাকেন মানিককে আওয়ামীলীগের সম্মেলন থেকে কেবলই পিকচার প্যালেসের মোড়ে নামিয়ে দিলাম। শাহাবুদ্দিন ভাইয়ের সাথে হাটতে হাটতে মানিক প্রেস ক্লাবে গেল। এটা হতে পারে না। বালু ভাই ছুটে আসলেন। শেখ হাসিনাকে ফোনে জানালেন। চিৎকার করে কাঁদলেন আপা খুলনায় আসেন। আমরা বিচার চাই। শোকের মধ্যেও সব সাংবাদিককে নিয়ে রাজপথে মিছিল বের করলেন। শ্লোগান তুললেন, ’মানিকের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। সাংবাদিকের রক্ত বৃথা যেতে দেব না।’
বালু ভাইয়ের হত্যার পুন:তদন্ত দাবী করেছে খুলনার সাংবাদিক সমাজ। দায়সারা বিষ্ফোরক মামলার চার্জশীট প্রত্যাখ্যান করেছে। সাংবাদিকদের লেখনীর কাছে খুলনার মানুষ অনেক কিছু প্রত্যাশা করেন। সাংবাদিকেরাও আপনাদের কাছে খুলনার চাঞ্চল্যকর এ দু’জন সাংবাদিকের ন্যায় বিচারে সহযোগিতা আশা করলে সেটি খুব বেশী চাওয়া হবে কি ?
লেখক – হুমায়ূন কবীর বালুর অনুজ ও সভাপতি খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন।
মোবা: ০১৭১৬২৪১৭৫৫/ঊ-সধরষ: ুধযরফথড়নংবৎাবৎ@ুধযড়ড়.পড়স