অতীতকে জানব ভবিষ্যৎ গড়ব

img

ড. শাহনাজ পারভীন > শিক্ষা সুযোগ নয় অধিকার। বাংলাদেশের এক সময়ের জনপ্রিয় স্লোগান ছিল এটি। বর্তমান সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের একটি শিক্ষা লাভের অধিকার। ব্যক্তির বৈচিত্র্যের কারণে তার সম্ভাবনার বিকাশ লাভের সুযোগ অর্থাৎ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করার অধিকার কারো নেই।
সংবিধানের ১৭ (ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “রাষ্ট্র একই পদ্ধতির গণমুখি ও সর্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।“ অতএব সাংবিধানিকভাবে সময়ের প্রয়োজনে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের কারণে এবং দেশের উন্নয়নের স্বার্থে বাংলাদেশে সকল নাগরিকের জন্য সাক্ষরতার বাস্তবায়ন একান্তভাবে জরুরি। ১৯৯০ সালের (৫-৯) মার্চ থাইল্যান্ডের জমতিয়েন -এ ‘সবার জন্য শিক্ষা (Education for All)বিষয়ক বিশ্ব ঘোষণায় মৌলিক শিক্ষার চাহিদা পূরণ, শিক্ষার সর্বজনীন সুযোগ সৃষ্টি ও সমতা বিস্তৃতিকরণের কথা বলা হয়েছে।
২০০০ সালে সেনেগালের রাজধানী ডাকার-এ World Education Forum – এ যে আটটি `The Millennium Devlopment Goals’ নির্ধারণ করা হয় তার মধ্যে অন্যতম ছিল সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন এবং ২০১৫ সালের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতকরণ। বাংলাদেশের সংবিধানে ২৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে কিংবা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না।” অতএব বাংলাদেশে প্রাথমিক এবং সাক্ষরতার সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশ সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক চুক্তি ও ঘোষণার কারণেও সবার জন্য সাক্ষরতার প্রচলন জরুরি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ যে সব অর্জনের কারণে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করেছে তার অন্যতম হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা এবং সাক্ষরতার ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য।
৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। ১৯৬৫ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো এই দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ইউনেস্কো নিরক্ষর মানুষের মধ্যে অক্ষর জ্ঞান ছড়িয়ে দেবার লক্ষ্যে ১৭ সেপ্টেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৬৬ সাল থেকে ইউনেস্কো ৮ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। সেই থেকে জাতিসংঘ এবং ইউনেস্কো ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস’ হিসেবে সকল উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশ প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন করে আসছে।
এবছর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস এর বিষয় হলো “Reading the past, Writing the future” ‘অতীতকে জানব ভবিষ্যৎ গড়ব’। অতীতকে জানতে হলে আমাদেরকে সভ্যতার শুরুর বিষয়গুলি জানতে হবে যেখান থেকে শিক্ষার শুরু। গুহাবাসী আদিম মানুষ একদিন পাথরে পাথরে ঘর্ষণের মাধ্যমে আগুন জ্বালাতে শিখলো। সেদিন থেকে মানবসভ্যতার জয়যাত্রা শুরু। শুরু হলো প্রকৃতির উপর প্রকৃতির সন্তান ভয়ার্ত গুহাবাসী মানুষের আধিপত্য বিস্তার। মানুষ আগুনের সাহায্যে অস্ত্র তৈরি করে হিংস্র বন্য জন্তুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করলো। কাঁচা ও শুকনো খাবারের পরিবর্তে মাটির মানুষ প্রথমে খেল আগুনে ঝলসানো সুস্বাদু খাবার। পশুর চামড়া ব্যবহার করে প্রথম নিজের লজ্জা নিবারণ করলো, সাথে সাথে শীত ও উষ্ণতাকে জয় করলো। মূলত আগুন আবিষ্কারের মাধ্যমে শুরু হলো মানবসভ্যতার পথচলা। এ সময় থেকেই মানুষের হাতে-কলমে শিক্ষার শুরু হলো। শুরু হলো আনুষ্ঠানিক শিক্ষার। এরপর বহু বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। মানুষের চিন্তা ও মননে এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। শুরু হলো আধুনিক সভ্যতার। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক আনুষ্ঠানিক শিক্ষার। জন্ম হয়েছে সক্রেটিস, এরিস্টটল থেকে শুরু করে জোহান এমোস কমেনিয়াস, হোয়াইট হেড, জন হেরন, পাওলো ফ্রেইরি, ড. বেঞ্জামিন স্যামুয়েলব্লুমের মতো মহান শিক্ষাবিদদের। এ সব মহান শিক্ষাবিদ শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন নতুন রেনেসাঁর জন্ম দিয়েছেন। পাঠদান তথা শিক্ষণ-শিখন কার্যাবলিতেও এনেছেন যুগান্তকারী পরিবর্তন। সক্রেটিস, এরিস্টটলের গাছতলার শ্রেণি কার্যক্রম এখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমে স্থান করে নিয়েছে।
১৮০১ সালে প্রখ্যাত ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ জন এ্ডাম শ্রেণি পাঠদানে সর্ব প্রথম শিক্ষাপোকরণ ব্যবহার শুরু করেন। এরপর বিংশ শতাব্দীর শেষলগ্নে শিক্ষাক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাপোকরণ ব্যবহারের সূচনা হয়। শিক্ষাকে প্রাণবন্ত এবং কার্যকর করার ক্ষেত্রে শিক্ষাপোকরণ ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।
শিক্ষা উপকরণ : ১৮০১ সালে প্রখ্যাত ইংরেজ শিক্ষাবিদ জন অ্যাডাম শ্রেণি পাঠদানে প্রথম শিক্ষাপোকরণ ব্যবহার শুরু করেন। তিনি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেন, পাঠ্য বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীর নিকট আকর্ষণীয়, ফলপ্রসূ ও দীর্ঘস্থায়ী করতে পাঠ-সংশ্লিষ্ট উপকরণ ব্যবহার করা একান্ত জরুরি। মূলত ব্রিটিশ এই মহান শিক্ষাবিদ শ্রেণিকক্ষে শিক্ষণ-শিখন কার্যাবলী পরিচালনায় আধুনিক শিক্ষাপোকরণ ব্যবহারের জনক বা পথপ্রদর্শক। এরপর দুই শত বছরের বেশি সময়কাল অতিক্রান্ত হয়েছে। মহান শিক্ষাবিদগণ শিক্ষাপোকরণ তৈরি ও ব্যবহারবিধি নিয়ে বহু গবেষণা করেছেন। শিক্ষাদানে গুণগত মানের আশাতীত পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। থর্নডাইক-প্যাভলভদের যুগ পার হয়ে আধুনিক শিক্ষক ও শিক্ষাবিদগণ অনুকরণ ও অনুসরণ করছেন জন হ্যারন ও পাওলো ফ্রেইরির মতো শিক্ষাবিদদের। শিক্ষণ- শিখন কার্যাবলীতে ব্যবহার করছেন তাদের প্রদত্ত কালজয়ী মতবাদ ‘শিক্ষক একজন ফ্যাসিলিটের বা সহায়তাকারী। শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা ও পাঠদানে পাঠ-সংশ্লিষ্ট উপকরণ ব্যবহারে এসেছে অভাবনীয় গুণগত পরিবর্তন।
আধুনিক শিক্ষাবিদগণ পাঠদানে পোস্টার, মডেল, চার্ট ইত্যাদি উপকরণের পরিবর্তে আজ ব্যবহার করছেন আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট। শ্রেণিকক্ষে ব্যবহার করছেন ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল কন্টেন্ট; যা অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও বস্তুর বিমূর্ত থেকে মূর্ত প্রতিচ্ছবি। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষণ-শিখন কার্যাবলি পরিচালনায় যে সকল উপকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে পাঠ্য বিষয়বস্তুকে শিক্ষার্থীর নিকট সহজ, আকর্ষণীয়, বোধগম্য ও আনন্দদায়ক করে তোলা হয়, তাকে শিক্ষা উপকরণ বলা হয়।
The teaching aids is nothing but a set equipments which is simple or technology based and used to enhance teaching learning process in classroom education to make it useful, attractive, successful, furnish and easy the session to the learners.
শিক্ষা উপকরণের শ্রেণি বিভাগ : প্রযুক্তিগত দিক থেকে আধুনিক শিক্ষা উপকরণ তিন প্রকার।
হার্ডওয়ার শিক্ষা উপকরণ : যে সকল শিক্ষা উপকরণের একটি শক্ত কাঠামো আছে এবং হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায়, তাকে হার্ডওয়ার শিক্ষা উপকরণ বলে।
উদাহরণ : ব্লাক বোর্ড, হোয়াইট বোর্ড, মডেল, বুলেটিন বোর্ড, গ্লোব, ওভারহেড প্রজেক্টর, মাল্টিমিডিয়া, টেলিভিশন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্লাইড প্রজেক্টর, মাইক্রোফোন, রেডিও, টেপরেকর্ডার ইত্যাদি।
সফটওয়ার শিক্ষাপোকরণ : যে সকল শিক্ষাপোকরণ তথ্যভিত্তিক যার কোনো শক্ত খোলস নেই তাকে সফটওয়্যার শিক্ষাপোকরণ বলে। এ সকল উপকরণ শিক্ষক নিজে বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে বা কোনো বিশেষজ্ঞের সাহায্যে বা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার বা সরকারি অনুদানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যায়।
উদাহরণ : পত্রপত্রিকা, পাঠ্যপুস্তক, ম্যাগাজিন, জার্নাল, সিডি, ডিভিডি, পেন ড্রাইভ, পোস্টার, ছবি, ম্যাপ, শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন প্রোগ্রাম ইত্যাদি।

ডিজিটাল শিক্ষাপোকরণ : যে সকল শিক্ষা উপকরণ অত্যন্ত আকর্ষণীয়, পাওয়ার পয়েন্ট ও অন্যান্য প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজাইন এবং অ্যানিমেশনের মাধ্যমে তৈরি করা হয় তাকে ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ বলে। এই সকল শিক্ষা উপকরণ শিক্ষক মাল্টিমিডিয়া বা প্রজেক্টরের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে প্রদর্শন করেন। এই সকল শিক্ষা উপকরণ শিক্ষক নিজে বা বিশেষজ্ঞের সাহায্যে বা বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করতে পারেন।
উদাহরণ : পাওয়ার পয়েন্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে গণিত, বাংলা, বিজ্ঞান, ইংরেজি প্রভৃতি বিষয় মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে প্রদর্শনযোগ্য উপকরণ।
আবার বাজারদরের উপর ভিত্তি করে শিক্ষা উপকরণকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: মূল্যহীন বা No cost Material উদাহরণ : ব্যাঙ, পুরাতন ক্যালেন্ডারের ছবি, পুরাতন পত্রিকার ছবি, মানচিত্র, ম্যাপ, বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা, ফুল, ফল, পাতা, কীট-পতঙ্গ, তেলাপোকা, টিকটিকি, মাটির তৈরি মডেল ইত্যাদি। স্বল্প মূল্য উপকরণ বা Low cost Teaching Material উদাহরণ : বাঁশ ও বেতের তৈরি মডেল, মানচিত্র, ছবি, পোস্টার, গ্লোব, হোয়াইট বোর্ড, রেফারেন্স বই, পাঠ-সংশ্লিষ্ট দ্রব্য ইত্যাদি। মূল্যবান শিক্ষাপোকরণ বা Valuablet Teaching Material. এ জাতীয় ব্যয়বহুল উপকরণ শিক্ষক নিজের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বা সরকারি অনুদানের মাধ্যমে সংগ্রহ করে থাকেন। উদাহরণ : টেলিভিশন, ভিসিপি, ডিভিডি, কম্পিউটার, প্রজেক্টর, মাল্টিমিডিয়া, মনিটর, মাইক্রোফোন, বিজ্ঞানাগারের যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক দ্রব্যাদি, ওভারহেড প্রজেক্টর, স্লাইড প্রজেক্টর ইত্যাদি।
আবার শ্রেণি পাঠদান, বিভিন্ন শ্রেণি, শ্রেণির অবস্থান, শিক্ষার্থীর বয়স, মেধা, সামর্থ্য, গ্রহণ করার ক্ষমতা, দক্ষতা ও বিষয়বস্তু এবং শিক্ষকের প্রয়োগ দক্ষতা ও ব্যবহার কৌশলের উপর ভিত্তি করে শিক্ষা উপকরণকে পাঁচভাগে ভাগ করা যায়। শ্রবণ উপকরণ Audio Teaching Aids যথা : রেডিও, টেপ রেকর্ডার ইত্যাদি। দর্শন উপকরণ বা Visual Teaching Aids দর্শন উপকরণ ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার বিকাশ ঘটে। কোনো কোনো শিক্ষাবিদ মনে করেন মানুষ শুনে শেখে ১১ পার্সেন্ট, কিন্তু দেখে শেখে ৮৩ পার্সেন্ট। সুতরাং শ্রেণি পাঠদানে দর্শন উপকরণের গুরুত্ব অপরিহার্য। উদাহরণ মানচিত্র, ছবি, পোস্টার, গ্লোব, হোয়াইট বোর্ড, রেফারেন্স বই, পাঠ-সংশ্লিষ্ট দ্রব্য ইত্যাদি। দর্শন-শ্রবণ উপকরণ বা Audio-Visual Teaching Aid যথা : টেলিভিশন, ভিসিপি, ডিভিডি, কম্পিউটার, প্রজেক্টর, মাল্টিমিডিয়া, মনিটর ইত্যাদি।
কর্ম সম্পাদন উপকরণ বা Work Based Teaching Materials উন্নত বিশ্বে শিক্ষার্থী হাতে-কলমে প্রচুর কাজ করার সুযোগ পায়। মূলত তারা হাতে-কলমে কাজ করার মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করে। যেমন : ঐতিহাসিক স্থান, ক্ষেত -খামার, মিউজিয়াম, চিড়িয়াখানা, বন, নদ-নদী, সাগর-মহাসাগর, পাহাড়-পর্বত, সমুদ্রসৈকত ইত্যাদি। অনুসন্ধান উপকরণ বা Investigatory Teaching Materials অনুসন্ধানমূলক উপকরণ ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীর মধ্যে গবেষণাধর্মী মনোভাব তৈরি হয় এবং শিক্ষার্থীর মধ্যে অনুসন্ধিৎসা জাগ্রত হয়। উদাহরণ : নানা প্রকার বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, ল্যাবরেটরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক দ্রব্যাদি, বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র ইত্যাদি।
শ্রেণি পাঠদানে উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর নিকট পাঠ সহজবোধ্য হয়। তার সৃজনশীল শক্তি, কল্পনাশক্তি ও চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারে দক্ষ ও অভিজ্ঞ এবং আগ্রহী করে তুলতে না পারলে সরকারের পক্ষে গুণগত শিক্ষা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
বিবেক-বুদ্ধি দক্ষতা ও সৃজনশীলতার বিকাশই হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষা কল্যাণকর-কল্যাণমুখী সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য খুবই জরুরি। কেবলমাত্র সুশিক্ষাই হতে পারে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। একটি জাতিকে শ্রেষ্ঠত্বের সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষা সকলের মৌলিক অধিকার। এ অধিকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর ও সদাসচেষ্ট। দিবসটির পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে ও জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে নানান কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে শিশুদের ভর্তির হার ৯৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এদের মধ্যে ৯২ দশমিক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকে। তবে এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী মিড-ডে মিল (দুপুরের খাবার) যে সমস্ত স্কুলে প্রচলিত আছে সেখানে ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকে। যে সমস্ত বিদ্যালয়ে আধুনিক যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ ব্যবহৃত হয়, সেই সমস্ত শিক্ষায়তনে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি প্রায় শতভাগ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষায় শিক্ষাপোকরণ ব্যবহারসহ শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষাকে আরো গতিশীল কর্মমুখী করার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে এনেছেন ব্যাপক পরিবর্তন। শুধু তত্ত্বমূলক শিক্ষার পরিবর্তে সৃজনশীল এবং নৈর্ব্যক্তিক অভিক্ষায় শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যায়ে এনেছেন। আমরা যদি আমাদের বর্ণাঢ্য অতীতকে জেনে মূল্যবান বর্তমানকে কাজে লাগাতে পারি তাহলেই ভবিষ্যৎ গড়তে পারব স্বপ্নের মতো। আমরাও হয়ে উঠব একেকজন কালজয়ী ব্যক্তিত্ব এবং বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে জ্বলজ্বল করবে আগামীর বাংলাদেশ।

%e0%a7%81%e0%a7%81%e0%a7%81লেখক : কবি, গবেষক, গদ্যকার; অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত), উপশহর মহিলা কলেজ, যশোর