ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ: হুমকিতে বাংলাদেশ

নদনদী মানচিত্রে রেখে অবিভক্ত বঙ্গদেশের একটি ভৌগোলিক মানচিত্র তৈরি করেন মেজর জেমস রেনেল ১৭৬৩ থেকে ১৭৭৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে। মেজর সাহেবের ১৭৮১ সালে প্রকাশিত ওই নদী-মানচিত্রের সঙ্গে বর্তমান মানচিত্রের খুব একটা মিল অবশ্য খুঁজে পাওয়া যায় না।

দেখা যাচ্ছে, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পার্থক্য। রেনেলের ম্যাপ অনুযায়ী মেঘনা, যমুনা ব্রহ্মপুত্রের উপনদী। ময়মনসিংহের উপর দিয়ে ব্রহ্মপুত্রের প্রবাহ তখন চাঁদপুরে গিয়ে মিলিত হত। ১৭৮৪ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র তার গতিপথ পরিবর্তন করে। এটি প্রাকৃতিকভাবে ঘটে যাওয়ায় আশঙ্কার কিছু নেই। কিন্তু বড় আশঙ্কার কথা হল, নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে ভারতে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের আয়োজন শুরু করেছে।

১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা লাভের পরপরই ভারতের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ও তৎকালীন নেহেরু মন্ত্রিসভার পানিসম্পদমন্ত্রী ড. কে এল রাও ভারতের সব নদী এবং জলাশয় সংযুক্ত করার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা তাঁর ‘ওয়াটার রিসোর্সেস অব ইন্ডিয়া’তে ব্যক্ত করেন। ১৯৮০ সালের দিকে পরিকল্পনাটি পুনর্জীবিত করা হয়। ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী পরিকল্পনাটির ব্যাপারে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে ভারতকে বন্যা ও খরামুক্ত করার ঘোষণা দেন।

বাজপেয়ীর আমলে ভারত প্রথম যে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের অবতারণা করেছিল, নরেন্দ্র মোদী সরকার আবার নবউদ্যমে সে কাজে হাত দিয়েছেন। যদিও এতদিন সেগুলো মোটা দাগে পশ্চিম ও মধ্য ভারতেই সীমাবদ্ধ ছিল; তার আওতায় ছিল কেন, বেতওয়া, তাপী, নর্মদা বা দমনগঙ্গার মতো দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এমন সব নদী।

প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সেচমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতের জলসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সানওয়ার লাল জাট ঘোষণা করেছেন, সরকারের পাঁচ নং প্রকল্পটা হবে মানস-সঙ্কোশ-তিস্তা-গঙ্গার মধ্যে সংযোগ ঘটানো; এ সবগুলোই আন্তর্জাতিক নদী। আন্তর্জাতিক নদী হওয়ায় ভারতের এই মহাপ্রকল্প প্রভাবিত করবে আশপাশের দেশ, সমাজ তথা সমগ্র জীবনব্যবস্থা।নরেন্দ্র মোদী সরকার আবার নবউদ্যমে সে কাজে হাত দিয়েছেন

আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প যে অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য, তা স্বীকার করেছেন ভারতের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সদস্য ড. মিহির শাহ। তিনি গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এই প্রকল্পের ব্যাপারে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন।