যশোরে ‘গোলাগুলিতে’ সন্ত্রাসী রিপন নিহতে দুই মামলা, আসামি ২২

নিজস্ব প্রতিবেদক>
বুধবার দিবাগত রাতে যশোর-মাগুরা সড়কের পাঁচবাড়িয়ায় দুই দল ডাকাতের মধ্যে ‘গোলাগুলিতে’ বেনাপোলের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী রিপন হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনায় কোতয়ালি থানায় আলাদা দুইটি মামলা হয়েছে।
একটি হত্যার অভিযোগে অপরটি অস্ত্র আইনে। মামলা দুইটি করেছেন কোতয়ালি থানার এসআই শহিদুল ইসলাম। উভয় এজাহারে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
আসামিরা হলো, সদর উপজেলার শানতলা এলাকার মৃত নওশের আলীর ছেলে স¤্রাট গ্রুপের প্রধান স¤্রাট, নতুন খয়েরতলা পালবাড়ি মোড়ের মৃত মুন ফকিরের ছেলে মোহাম্মদ হাসান, সুলতানপুর গ্রামের ইসাহাক আলীর ছেলে বায়েজীদ, বিরামপুর কালীতলা এলাকার আব্দুল জলিল ড্রাইভারের ছেলে লিটন ওরফে হাঁস লিটন, হাশিমপুর গ্রামের জাকির আহমেদের ছেলে আমিরুল ইসলাম ওরফে বুলি, আমজাদ মোল্লার দুই ছেলে জুয়েল ও বাবলা, জগমোহনপুর গ্রামের অহেদ আলীর ছেলে মতিয়ার রহমান, মহিউদ্দিনের ছেলে জালাল উদ্দিন, ইছালী গ্রামের মোস্তফার ছেলে আমিনুর রহমান, শ্যামনগর শালতা গ্রামের সাফু মিয়ার ছেলে নান্নু গ্রুপের প্রধান মোখলেসুর রহমান নান্নু, ইছালী রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত কিয়াম উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম ফিঙ্গে, মাগুরা সদর উপজেলার ভাবনহাটি কাপাশিয়া গ্রামের মৃত শাহাদৎ মোল্লার ছেলে ইবাদত হোসেন, একই গ্রামের বিষে, যশোর সদর উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের আফসার আলীর ছেলে জালাল উদ্দিন, রাজাপুর গ্রামের মৃত জবেদ আলী মোল্লার ছেলে আজগর আলী, বাঘারপাড়া উপজেলার বেলতা গ্রামের শামসুল বিশ্বাসের ছেলে রবিউল ইসলাম, পাঠানপাইকপাড়া ভবাণীপুর গ্রামের মৃত মাজেদ কাজীর ছেলে আজিজ কাজী, যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা গ্রামের জামাত আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম বেনাপোল পোর্ট থানাস্থ কাগজপুকুর গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে আমিরুল ইসলাম ওরফে আমিনুর, দীঘিরপাড় গ্রামের আবু দাউদের ছেলে ইমরান হোসেন এবং গয়ড়া গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে লিয়াকত আলী।
উভয় এজাহারে এসআই শহিদুল বলেন, ৩০ নভেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপশহর বাসস্ট্যান্ড এলাকার চলন্ত বাস চালকদের মাধ্যমে জানতে পারি, যশোর-মাগুরা সড়কের পাঁচবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের পাকা রাস্তার ওপর গোলাগুলি হচ্ছে। সংবাদ পেয়ে রাত পৌনে একটার দিকে সেখানে হাজির হই এবং দেখতে পাই অজ্ঞাত এক ব্যক্তি রক্তাক্ত জখম অবস্থায় পড়ে আছে। তাকে উদ্ধার করে পুলিশের একটি টিম যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অন্যান্য আসামিরা পালিয়ে যায়। তাদের আটকের জন্য চেষ্টা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ানস্যুটারগান, এক রাউন্ড বন্দুকের গুলি এবং এক রাউন্ড গুলির খোসা জব্দ করা হয়। পরে সেখান থেকে ফিরে এসে হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তি রাত ১টা ৫৪ মিনিটের দিকে মারা গেছে। তার নাম রিপন হোসেন (২৫)। তিনি বেনাপোল পোর্ট থানাস্থ ছোট আঁচড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান গাজী ওরফে হবি গাজীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্টসহ বিভিন্ন থানায় ১৪টি মামলা আছে।